ঢাকা শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

বনাঞ্চলে অবকাঠামো

উন্নয়নে চাই ভারসাম্য

উন্নয়নে চাই ভারসাম্য
×

ফাইল ছবি

--

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:১৮ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:১৯

সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থাপনা আমাদের দেশে পুরাতন হলেও তার জন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর কাছ থেকে 'ক্ষতিপূরণ' আদায়ের চিন্তাভাবনা নিঃসন্দেহে নতুন। উদ্যোগটিকে নিছক 'অভিনব' বলেও এড়িয়ে যাওয়ার অবকাশ নেই এ কারণে যে, এমন পরিকল্পনা এসেছে খোদ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছ থেকে। রোববার সমকালে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নির্মিত স্থাপনার তালিকা তৈরির জন্য জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে তালিকা তৈরির কাজ শুরুও করেছে। আমরা মনে করি না যে, তালিকা প্রস্তুত এবং সে অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দাবি করা হলেই বাস্তবে তা পাওয়া যাবে। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই চিন্তা ও তৎপরতার তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। এর মধ্য দিয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের 'বৈধ ক্ষতির' একটি সার্বিক চিত্র পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রকল্প প্রণয়নে আরও সতর্ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সংসদীয় কমিটির পক্ষে একটি প্রটোকল তৈরি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি। এতে করে পরিবেশ সুরক্ষায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চয়ই বাড়বে। ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোতে যদি বনাঞ্চলের স্বাস্থ্য ও স্থায়িত্ব বিবেচনা করে প্রয়োজনে 'বাইপাস' করা হয়, তার চেয়ে উত্তম আর কী হতে পারে? মনে রাখতে হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত হিসেবে যে বিপদ আমাদের সামনে এগিয়ে আসছে, তা মোকাবিলায় আরও গাছ লাগানোর বিকল্প নেই। এও অজানা নয় যে, একটি দেশে ভূমির যে অনুপাতে বনাঞ্চল থাকতে হয়, আমরা তা থেকে পিছিয়ে আছি। কিন্তু উন্নয়ন ও জনস্বার্থও দেখতে হয় বৈকি। আমরা আশা করি, সড়ক সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনের বেশি একটি গাছও কাটা পড়বে না। সংরক্ষিত বনাঞ্চল কেবল নয়, যে কোনো সবুজ রক্ষায় শূন্য সহিষ্ণুতাই কাম্য। পাশাপাশি কাটা পড়া বনাঞ্চল অন্তত সমপরিমাণে সৃজনে নজর দিতে হবে। বস্তুত উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশের ক্ষেত্রে সামান্য ছাড় নজিরবিহীন নয়। কিন্তু সেই ক্ষতি যত দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে পূরণ করা যায়, ততই মঙ্গল। 

আরও পড়ুন

×