এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য
আদালতের নির্দেশনা আমলে নিন
শিউলি খাতুন
--
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২০ | ১৩:০৪
দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকটে বিকল্প ও ভরসা হিসেবে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ব্যবহার করে আসছেন অনেকেই। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে গৃহস্থালিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রয়েছে, তখন শহরের নাগরিকদের এর ওপর নির্ভর করা ছাড়া উপায়ও নেই। এর ব্যবহার বাড়লেও এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কিন্তু কমছে না। বাসাবাড়িতে প্রাকৃতিক গ্যাসের জন্য দুই চুলায় মাসে যেখানে ৯৭৫ টাকা দিতে হয়, সেখানে এলপি গ্যাসের অন্তত দুটি সিলিন্ডার হলেও দুই হাজার টাকার অধিক খরচ পড়ে যায়। এলপিজির দাম সহনীয় রাখতে প্রায় দুই মাস আগে তাই হাইকোর্টের আইনজীবী নুরুজ্জামান লিংকন রিট করেন। এলপিজি সিলিন্ডারের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য লেখা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে যখন-তখন এর দাম বেসরকারি কোম্পানিগুলো বাড়াচ্ছে বলে তিনি যথার্থ যুক্তিই আদালতে পেশ করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দাম সহনীয় রাখতে ১ মার্চের মধ্যেই সিলিন্ডারের গায়ে খুচরা মূল্য লেখা এবং তা বাস্তবায়নসহ একই দিন প্রতিবেদন দিতে জ্বালানি সচিব ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যানকে নির্দেশও দিয়েছিলেন আদালত।
কিন্তু মঙ্গলবারের সমকালে প্রকাশ, 'এ সংক্রান্ত আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।' এমনকি জ্বালানি সচিব সমকালকে বলেছেন, নির্দেশনাটি তিনি গত সপ্তাহেই পেয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমরা বিস্মিত, আদালতের নির্দেশনা পেতে তার এতদিন সময় লাগল কেন? যে সময়ের মধ্যে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হওয়ার কথা ছিল, তারও পরে এসে তিনি জানলেন, তাহলে এটি বাস্তবায়ন হবে কবে? এলপিজি কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীলদের বক্তব্য, তারা নির্দেশনা পাননি বলে সিলিন্ডারের গায়ে দাম লেখেননি। আমরা জানি না, সংশ্নিষ্ট সবার এ অবহেলার কারণ কী। অথচ এটি কেবল গ্রাহকের স্বার্থেই নয়, দেশের স্বার্থে জরুরি। প্রাকৃতিক গ্যাস যেখানে ফুরিয়ে আসছে, সেখানে এলপি গ্যাসের প্রসার বাড়ানো জরুরি। অথচ এলপিজি ব্যবহার বৃদ্ধির বড় বাধাই হচ্ছে এর অসহনীয় দাম। আমরা চাই, দেরিতে হলেও আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এলপি গ্যাসের খুচরা মূল্য নির্ধারণ হোক।
- বিষয় :
- এলপিজি সিলিন্ডার
