পবিত্র শবেবরাত
নতুন উপলব্ধি জাগ্রত হোক
ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২০ | ১৪:৩১ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর -০০০১ | ০০:০০
এ বছর এমন সময়ে পবিত্র শবেবরাত বা মহিমান্বিত রাত উদযাপন হতে চলছে, যখন কেবল গোটা জাতি নয়, গোটা বিশ্বই করোনাভাইরাসে সৃষ্ট মহামারি মোকাবিলা করছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই চলছে 'লকডাউন'। মানুষ ঘরে থেকে নিজেদের সুরক্ষা করছে। এমনকি নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যেতেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় মধ্য শাবানের এই রাতটি আগের মতো উদযাপনের অবস্থা নেই। আমরা দেখে আসছি, শবেবরাতের উপমহাদেশীয় ঐতিহ্য অনুসারে প্রার্থনার পাশাপাশি রাতটিতে সামাজিক সম্পর্কেরও প্রতিফলন ঘটে। এ রাতে বিশেষ খাবার ও মিষ্টান্ন তৈরি করে প্রতিবেশীর মধ্যে বিনিময়ের যে প্রথা আমরা দেখি, তার গুরুত্বও কম নয়। তবে এবার করোনা সতর্কতায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যত্যয় ঘটলেও আমরা মনে করি- ঘরোয়া পরিবেশে, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এ আয়োজন ভিন্ন মাত্রা দিতে পারে। আমরা জানি, মহিমান্বিত এই শবেরবাতকে বলা হয় 'ভাগ্য' নির্ধারণের রাত। ভাগ্য নির্ধারণে আমাদের প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও সদিচ্ছাও জরুরি।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত ও নিহতের সংখ্যা যেভাবে দেশে দিন দিন বেড়েই চলেছে, এর থেকে নিস্তার পেতেও আমাদের সেই প্রচেষ্টা ও সদিচ্ছা দরকার। এই মুহূর্তে সরকারি, বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে তথা দেশের একটাই অগ্রাধিকার-করোনামুক্তি। এ জন্য ঘরে থেকেই আমরা করোনামুক্তির প্রার্থনা করতে পারি। জাতির এ দুর্যোগে শবেবরাতে আগের মতো উদযাপনের প্রকাশ নয় বরং প্রার্থনা ও উপলব্ধির মাধ্যমে তা পালনের মধ্যেই এ রাতটি অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।
তাই অবস্থার আলোকে শবেবরাত পালনের মধ্যেই এর প্রকৃত কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। এ রাতে আগে যেমন পটকা ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করে পুলিশের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতো, এবার নিশ্চয়ই এর প্রয়োজনও পড়ছে না। আমরা চাই, ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এই পবিত্র রাতে ব্যক্তিগত বিশুদ্ধতা অর্জনে বেশি জোর দেবেন। পাশাপাশি করোনা নির্মূলসহ সামাজিক সাম্য ও সামগ্রিক কল্যাণের জন্যও প্রার্থনা করবেন। প্রার্থনা করবেন একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ তথা শান্তিপূর্ণ বিশ্বের জন্য। অর্থনীতি, শিক্ষা, সমাজে করোনার যে ধাক্কা স্পষ্ট, তা যেন বাংলাদেশ ও বিশ্ব দ্রুত কাটিয়ে ওঠার জন্য। এ শবেবরাত এমন সময় পালন হচ্ছে, যখন করোনার প্রভাবে কর্মহীন শ্রমজীবীসহ দেশের নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের অনেকেই খাবারের সংকটে বিপাকে পড়েছেন। ইতিমধ্যে সরকারি, বেসরকারি সংগঠন ও ব্যক্তি পর্যায়ের মানুষ তাদের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাদের পাশে সহমর্মিতার অনুভূতি নিয়ে দাঁড়ানোর মাধ্যমেও এ রাতের কর্তব্য আদায় হতে পারে। এই রজনীতে মুসলমানরাও ক্ষমা ও সৌহার্দ্যের প্রার্থী হবেন। নিজস্ব সমাজ ও সম্প্রদায়ের বাইরেও বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনা ও বাস্তবায়নে উদ্যোগী হবেন। বস্তুত শুধু পালনের মধ্য দিয়ে নয়, উপলব্ধির মধ্য দিয়ে এ রাতের শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করা প্রয়োজন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এবারের শবেবরাত এই উপলব্ধি নিয়ে আসুক।
