ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইসলাম ও সমাজ

জুলুম বড় গুনাহ

জুলুম বড় গুনাহ
×
×

মো. শাহজাহান কবীর

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ | ০৮:১৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

জুলুম, অন্যের সম্পদ জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া– এগুলো ইসলামে শুধু অপরাধই নয়, বরং মহাপাপ। 
আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-মায়িদার ৩৩  আয়াতে এরশাদ করেন, ‘যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের শাস্তি হলো– তাদের হত্যা করা হবে অথবা শূলবিদ্ধ করা হবে অথবা বিপরীত দিক থেকে তাদের হাত-পা কেটে ফেলা হবে অথবা দেশ থেকে নির্বাসিত করা হবে।’

এ আয়াতে বর্ণিত অপরাধের শাস্তির বিষয় নাজিল হয়েছে। তাফসিরকারীরা বলেন, যারা অস্ত্র দেখিয়ে মানুষের জানমাল কেড়ে নেয়, তারাই এ আয়াতের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর জমিনে ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার অপরাধে চাঁদাবাজদের চারটি শাস্তির যে কোনো একটি শাস্তি দিতে হবে।

এমন অপরাধীদের হত্যা করতে হবে অথবা ফাঁসি দিতে হবে অথবা এক দিকের হাত এবং অন্য দিকের পা কেটে ফেলতে হবে অথবা অন্য এলাকার জেলে বন্দি করে রাখতে হবে যতক্ষণ না তারা তাওবা করে নিজেদের শুধরে নেয়।

আল্লাহ তায়ালা সুরা আল-আরাফের ৫৬ আয়াতে এরশাদ করেন, ‘আর তোমরা পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করো না, শান্তি প্রতিষ্ঠার পর।’ সন্ত্রাস হলো পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।
হাদিস শরিফে বর্ণিত,  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘একজন মুসলমান সেই, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলমান নিরাপদ থাকে।’ (বুখারি ও মুসলিম) অপর হাদিসে বর্ণিত– রাসুলে কারিম (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (সহিহ মুসলিম)

মহানবী (সা.) আরও এরশাদ করেন, ‘তোমরা কি জানো, প্রকৃত দরিদ্র কে আমার উম্মতের মধ্যে? প্রকৃত দরিদ্র ওই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন বহু সালাত, সাওম ও জাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। তবে সে দুনিয়ায় কাউকে হত্যা করেছে, মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে, করেছে, কাউকে গালমন্দ করেছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, কাউকে মেরেছে।
কিয়ামতের দিন এ ব্যক্তির নেক আমল তাদের দেওয়া হবে, যাদের প্রতি জুলম করা হয়েছে। যদি তার নেক আমলের সওয়াব পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ করার আগেই শেষ হয়ে যায় তখন তাদের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তারপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহিহ মুসলিম) বিদায় হজের ভাষণে রাসুলে কারিম (সা.) বলেন– ‘তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের সম্মান তোমাদের একে অপরের নিকট পবিত্র। যেমন আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহর পবিত্র।’
অর্থাৎ কারও জানমাল ও সম্মানে আঘাত করা সম্পূর্ণরূপে হারাম।

ইসলাম শুধু শাস্তির বিধানই দেয়নি, বরং এই অপরাধের মূলোৎপাটনে বাস্তবমুখী পথও দেখিয়েছে–
তাকওয়া ও আল্লাহভীতি সৃষ্টি করা। সব অপরাধের মূল কারণ আল্লাহভীতির অভাব। মানুষের অন্তরে যদি এই বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়– আমার প্রতিটি কাজ আল্লাহ দেখছেন এবং আমাকে হিসাব দিতে হবে, তাহলে সে সন্ত্রাসের পথে পা বাড়াতে পারে না।

সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। কেননা, ইসলামের অন্যতম নির্দেশ হলো সর্বক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। সন্ত্রাসী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কোরআনে বর্ণিত কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিকে উৎসাহিত করে।
ইসলাম কখনোই এই জুলুমকে সমর্থন করে না। ইসলামের শিক্ষা হলো– একজন নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা মানে পুরো মানবজাতিকে হত্যা করা। (সুরা মায়িদা; আয়াত-৩২) তাই আমাদের উচিত ব্যক্তিজীবনে কোরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা; পরিবারে সন্তানদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়া এবং ইসলামের ন্যায়বিচার ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

ড. মো. শাহজাহান কবীর: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল
ইউনিভার্সিটি, ঢাকা

আরও পড়ুন

×