ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

দিবস

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে কোন ছড়ি দেব

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীকে কোন ছড়ি দেব
×
×

তালুকদার রিফাত পাশা

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:২৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

শিশু থেকে বৃদ্ধ– সব বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর কাছে একটি ভালো মানের সাদাছড়ি মূল্যবান ও অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী। এমন এক প্রেক্ষাপটে আজ ১৫ অক্টোবর জাতীয় সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালন করছে দেশের সব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধীবিষয়ক জরিপ বলছে, আমাদের দেশে প্রায় ৯ লাখ মানুষ আংশিক অথবা তীব্র মাত্রায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। কিন্তু এখনও এই জনগোষ্ঠীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ সাদাছড়ি তাদের হাতে পৌঁছায়নি। আমাদের দেশের অনেক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এখনও বাঁশের লাঠি নিয়ে হাঁটাচলা করে। কিন্তু এই সাদাছড়ি নিয়ে অনেক প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। সরকার থেকে কখনও অ্যানালগ আবার কখনও স্মার্ট ছড়ি দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েক বছর ধরে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য স্মার্ট ছড়ি একটি ভালো সমাধান হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। 

দেশের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন প্রতিবছর জাতীয় সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবসে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের হাতে ছড়ি তুলে দেয়। পাশাপাশি তারা পুরো দেশে ছড়িয়ে থাকা প্রতিবন্ধী সেবা ও সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমেও সাদাছড়ি বিতরণ করে। এ ছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা অফিসেও সাদাছড়ি পাওয়া যায়। ছড়িগুলো বিনামূল্যে দেওয়া হয়।
সরকারের এত চমৎকার পদক্ষেপ অনেক প্রশংসার দাবি রাখে। কিন্তু তারা যে মানের সাদাছড়ি তুলে দেয়, তাতে আর সরকারের সুনাম করা সম্ভব হয় না। এই সাদাছড়ি প্রায় সবই দেশে তৈরি। এখানে আমরা গর্ব করে বলতে পারি– মেড ইন বাংলাদেশ। তবে এসব ছড়ির মান এত সাধারণ; প্রতিটি ছড়ি তিন থেকে ছয় মাসের বেশি টেকে না। এ রকম বাস্তবতায় বিগত সরকার ভারত থেকে স্মার্ট সাদাছড়ি আমদানি করে। এই ছড়ির বিশেষত্ব হচ্ছে, এটি তিন মিটার দূরে থাকা কোনো বস্তু শনাক্ত করতে পারে এবং সঙ্গে সঙ্গে কম্পনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয়।
এ রকম আধুনিক ছড়ি আমাদের দেশেও তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। যতদূর জানা যায়, একটি বা দুটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে।
তবে স্মার্ট ছড়ি ব্যবহার করার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো দেশের পরিবেশ। যেসব দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই ছড়ি ব্যবহার করেছেন, তাদের মতে, আমাদের দেশের পরিবেশে এই ছড়ি ব্যবহার করা সম্ভব নয়। কারণ ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে সেন্সরযুক্ত ছড়ি ব্যবহার করা খুবই কঠিন। সেন্সরের দেওয়া সংকেত অনুসরণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর স্বাভাবিক চলাচলের দক্ষতা হ্রাস পায়।

দেশের শহর ও গ্রাম উভয় স্থানে যে পরিমাণে অপ্রবেশগম্যতা বিরাজমান, সেখানে স্মার্ট ছড়ি খুব একটা কার্যকর সমাধান নয়। তাই নীতিনির্ধারকদের একটু ভেবে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে প্রচলিত সাদাছড়িই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য সবচেয়ে ভালো। সরকারের উচিত হবে স্মার্ট নয়; সাধারণ অ্যানালগ ছড়ি বিতরণ করা। সেগুলো যেন টেকসই হয় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া। পাশাপাশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা যেন ভালো মানের সাদাছড়ি পেতে পারে, সে লক্ষ্যে একটি কারখানা নির্মাণ করা যেতে পারে। এতে অর্থের সাশ্রয় যেমন হবে, তেমনি কর্মসংস্থানও।
সাদাছড়ি ব্যবহারকারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য প্রশস্ত ও মসৃণ ফুটপাত তৈরি করা দরকার। সাদাছড়ি ব্যবহারকারী দেখলে একটি প্রশ্ন করা খুবই উত্তম হবে, আপনার কি সহায়তার প্রয়োজন আছে?

তালুকদার রিফাত পাশা: অ্যাডভোকেসি অফিসার, ইনস্টিটিউট অব ওয়েলবিং বাংলাদেশ
[email protected] 
 

আরও পড়ুন

×