ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা

পরিবার ও দলের অবস্থান স্পষ্ট নয়

পরিবার ও দলের অবস্থান স্পষ্ট নয়
×

কামরুল হাসান

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১৬:৩১ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০১৯ | ১৬:৪২

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন এবং চিকিৎসা নিতে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে অন্ধকারে দলের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে খালেদা জিয়া, তার পরিবার ও দলের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট নন তারা।

একদিকে দলের চেয়ারপারসনের অসুস্থতা নিয়ে নেতাকর্মীদের উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে কবে নাগাদ আইনি লড়াই শেষে তিনি মুক্তি পাবেন, তা নিয়েও হতাশ তারা।

বিএনপির নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময়ে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য সরকারের সঙ্গে আপসরফা, লবিং-তদবিরের গুঞ্জন শোনা গেলেও বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় তারা মনে করেছিলেন, পর্দার অন্তরালে খালেদা জিয়ার মুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত হয়েছে। আবার নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় সংসদে যোগদান না করার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে এসেছে দলটি। সে সময়েও তারা মনে করেছিলেন, সরকারের সঙ্গে কোনো আপসের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর কোনোটার সঙ্গেই নেতাকর্মীরা মিল খুঁজে পাননি। অন্যদিকে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে রাজপথের আন্দোলনও গড়ে তুলতে পারেনি দলটি।

দলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি রাজপথের আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় চিন্তায় পড়েছেন দলটির শীর্ষ নেতারা। খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক 'আপসহীন' অবস্থান ধরে রেখে সরকারের সঙ্গে কৌশলে আপস করতে চাইছেন তারা। তবে জামিন ইস্যুতে তার অনমনীয় মনোভাবের কারণে নেতারাও বেশিদূর এগোতে পারছেন না বলে জানা গেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে বিএনপির সাংসদ ও পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার জন্য জামিনের পর বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি তোলা হয়। এজন্য সরকারের হস্তক্ষেপও চান তারা। বিগত কয়েক দিনে চার দফায় বিএনপির সাত এমপি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা দেখা করে এসব বক্তব্য দেন।

অবশ্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ গতকাল শনিবার আইনজীবীদের এক সমাবেশে বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য কারও কাছে দেনদরবার করার দরকার নেই। আইনের মাধ্যমেই তার জামিন হবে, সেটা সম্ভব না হলে তার মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ।

গত ১ ও ২ অক্টোবর দুই দফায় বিএনপির সাত এমপি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেন। প্রথম দফায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হারুনুর রশীদসহ তিনজন সংসদ সদস্য হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে হারুনুর রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, জামিন পেলে খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন। পরের দিন দলের আরও চার এমপি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার পর তার জামিন বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর 'পদক্ষেপ' কামনা করেন। একই দিন বিষয়টি নিয়ে হারুনুর রশীদ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে দেখাও করেন। তবে গণভবনে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা সাফ জানিয়ে দেন, খালেদা জিয়ার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না। একই সঙ্গে এ নিয়ে কোনো কথাবার্তা না বলার জন্য দলের নেতাদের সতর্কও করে দেন তিনি। খালেদা জিয়ার জামিনের ইস্যুতে আওয়ামী লীগের এমন কঠোর অবস্থানের পর বিএনপির পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়া কারও অনুকম্পা নিয়ে মুক্তি চাইবেন না।

হঠাৎ করে বিএনপির এমপিরা দলের অবস্থানের বাইরে গিয়ে খালেদা জিয়ার জামিনের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়ার বিষয়কে ভালোভাবে নেননি সিনিয়র নেতারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে সরকারই বাধা সৃষ্টি করছে। খালেদা জিয়ার জামিন পাওয়া, পছন্দমতো জায়গায় চিকিৎসা করানো- এটা তার অধিকার। কতগুলো বিষয় আছে, যা মানবিক। এটা না পাওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে তিনি কারও অনুকম্পায় মুক্তি চান না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এক বক্তৃতায় বলেছেন, খালেদা জিয়ার আপসহীন নেত্রীর উপাধি খারিজ করতে গিয়ে দলের এমপিরা ধরা খেয়েছেন। সরকারের সঙ্গে খালেদা জিয়া কোনো আপস বা কোনো সমঝোতা অথবা প্যারোলে মুক্তি নেবেন না।

১১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের স্বজনরা দেখা করে বেরিয়ে মেজো বোন সেলিমা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। জরুরি ভিত্তিতে তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। সরকার চাইলেই তিনি বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তবে এ বিষয়ে খালেদা জিয়া তাদের সঙ্গে কিছু বলেননি। গত শুক্রবার অসুস্থ খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সেলিমা ইসলাম বলেছেন, তিনি (খালেদা জিয়া) না বললেও তারাই বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করাতে চান।

এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, খালেদা জিয়ার পরিবারের এই আকুতি সরকারে শুনতে পাচ্ছে না। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিতে হবে, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে।

আরও পড়ুন

×