বিপদের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ: রিজভী
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২০ | ০৫:৩০ | আপডেট: ১০ জুলাই ২০২০ | ০৬:০৮
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বৈশ্বিক করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে বর্তমান সরকার ক্রমাগত ব্যর্থতা প্রদর্শন করে আসছে। একের পর এক এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার মধ্যে এখন আবার করোনা টেস্ট নিয়ে ভুয়া সার্টিফিকেট ও জালিয়াতির জন্য বিদেশের গণমাধ্যমে নেতিবাচক খবরের শিরোনাম হচ্ছে বাংলাদেশ। ইতালির মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের ভুয়া সার্টিফিকেট কেনাবেচা নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রকাশিত হয়েছে। ফলে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ বড় ধরনের ‘বিপদের মুখে’ পড়তে যাচ্ছে।
শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভীবলেন, ইতালি, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, কাতার, আরব আমিরাতসহ অনেকগুলো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাংলাদেশিদের ইতালিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটা একটা বিব্রতকর পরিস্থিতি। ইতালিতে বাংলাদেশিদের বাঁকা চোখে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশিদের বহনকারী বিমানকে বলা হচ্ছে ‘করোনা বোমা’।
তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার শুরু থেকেই যে ধরনের ঢিলেঢালা মনোভাব প্রদর্শন করছিল তার সমূহ বিপদ আঁচ করতে পেরে সরকারকে আগেই সতর্ক করেছিলো বিএনপি। আজকের বাস্তবতায় দেখতে পাচ্ছি, বিএনপির এই আশঙ্কাটি এখন দুঃখজনকভাবেই সত্য হতে চলেছে। সরকারের উদাসীনতার কারণেই বিদেশে শ্রমবাজার চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। গ্লোবাল ভিলেজের এই সময়ে করোনা ভাইরাস টেস্টের ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে ভবিষ্যতে নাগরিকদেরকে অত্যন্ত চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের অনুমোদন পাওয়া ‘জেকেসি হেলথ কেয়ার’ ও রিজেন্ট হাসপাতাল’ নামের দুইটি ‘ভুঁয়া’ প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওই সব প্রতিষ্ঠানের একমাত্র যোগ্যতা ছিলো তাদের কর্ণধাররা ক্ষমতাসীন দলের নেতা কিংবা ঘনিষ্ঠ। অনুমোদন পেয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজরা টাকার বিনিময়ে হাজার হাজার মানুষকে রক্ত পরীক্ষা না করেই করোনামুক্ত সার্টিফিকেট ইস্যু করতো। এদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে আটক কিংবা ফেরত আসতে শুরু করায় এখন সরকারের টনক নড়েছে।
তিনি বলেন, দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার থাকলে করোনা কেলেংকারি ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতায় বর্তমান সরকার প্রধানের উচিত ছিলো ন্যূনতমপক্ষে জনগণের কাছে ক্ষমা চাওয়া।