ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

হাসপাতালের বিছানায় নূরুল মজিদের হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে বিতর্ক  

হাসপাতালের বিছানায় নূরুল মজিদের হাতকড়া পরা ছবি নিয়ে বিতর্ক  
×

হাসপাতালের বিছানায় হাতকড়া পরানো অবস্থায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের এই ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৫:২৪ | আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৫:২৫

হাসপাতালের বিছানায় সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ। হাতে হাতকড়া। তাঁর মৃত্যুর পর এমন ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিতর্ক শুরু হয়। ছবিতে দেখা যায়, তাঁর চোখ বন্ধ। অনেকে বলছেন, মুমূর্ষু অবস্থায় বয়োবৃদ্ধ একজন নাগরিককে হাসপাতালে বিছানায় হাতকড়া পরিয়ে রাখা অমানবিক। 

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতকড়া পরিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। গাজীপুরে বিএনপির এক নেতা ডান্ডাবেড়ি পরিহিত অবস্থায় তাঁর মায়ের জানাজায় অংশ নিলে কঠোর সমালোচনার মুখে পড়েছিল সরকার। 

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল রাতে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও উন্নয়ন) জান্নাত-উল-ফরহাদ সমকালকে বলেন, তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। নানা রোগে আক্রান্ত ছিলেন। সেপ্টেম্বরে তাঁকে পাঁচ-ছয়বার কারাগার থেকে হাসপাতালে নিতে হয়েছে। আলোচিত ছবিটি তখনকার কোনো একদিনের হতে পারে। 

জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, নূরুল মজিদ আইসিইউতে মারা গেছেন। আইসিইউতে নেওয়ার আগে শরীরে কোনো স্বর্ণালংকার বা ধাতব কিছু চিকিৎসকরা রাখতে দেন না। ফলে আইসিইউতে তাঁর হাতকড়া ছিল না। তাঁর চিকিৎসায় কোনো অবহেলা করা হয়নি। 

জান্নাত-উল-ফরহাদ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী জেলখানার বাইরে কোনো আসামিকে নেওয়া হলে হাতকড়া পরাতে হয়। দুর্ধর্ষ আসামি হলে থাকে ডান্ডাবেড়ি। যদি আসামির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসক বলেন হাতকড়া খুলে রাখতে হবে, কেবল তখন খোলা যায়। নিয়ম অনুযায়ী, নিরাপত্তার স্বার্থে বন্দিকে চিকিৎসার সময় হাতকড়া পরিয়ে তা বিছানার সঙ্গে বেঁধে রাখতে হয়। 

তবে মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন সমকালকে বলেন, নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। অতীতে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই দেখতে হয়েছে। এখনও এমন ঘটনা দেখা যাচ্ছে– এটা দুর্ভাগ্যজনক। তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো আসামির সঙ্গে নিষ্ঠুর বা অমানবিক আচরণ করা যায় না। মৃত্যুশয্যায় হাতকড়া পরিয়ে রাখতে হবে কেন? 

পুলিশ প্রবিধানের ৩৩০ ধারায় বলা হয়েছে, ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে বা তদন্তস্থলে পাঠানোর সময় বন্দির পলায়ন রোধে পুলিশ যা প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি কড়াকড়ি করতে পারবে না। হাতকড়া বা দড়ির ব্যবহার প্রায় ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ও অমর্যাদাকর। বয়স বা দুর্বলতার কারণে যাদের নিরাপত্তা রক্ষা করা সহজ ও নিরাপদ, তাদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করা উচিত নয়।

কারা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নূরুল মজিদের হৃদরোগ, ডায়াবেটিসসহ নানা রোগ ছিল। সর্বশেষ তিনি ডায়ারিয়া এবং এ-সংক্রান্ত পরবর্তী জটিলতায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।  

নূরুল মজিদের আইনজীবী দিলরুবা কলি সাংবাদিকদের বলেন, নূরুল মজিদ হুমায়ূনকে যখন গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। মাস পাঁচেক আগেও তাঁকে নরসিংদীতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর সুচিকিৎসা হয়নি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনকে। তাঁর নামে ঢাকায় চারটি ও নরসিংদীতে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় সোমবার সকালে মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।  

আরও পড়ুন

×