ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ওয়াজে বিতর্কিত বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জামায়াতের

ওয়াজে বিতর্কিত বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জামায়াতের
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:৫৪

ওয়াজে বিতর্কিত বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর জ্যেষ্ঠ নেতারা। বাহাস এবং আত্মঘাতী বিতর্কে লিপ্ত হওয়া থেকে বিরত থাকতে বলেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জিহাদ, শরিয়া ও দ্বীন সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য দিতে অনুরোধ করেছেন।
 
শনিবার রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ মিলনায়তনে জামায়াতের ওলামা কমিটি আয়োজনের ওয়াজ মাফফিলের বক্তা তথা 'দাঈ ও ওয়ায়েজ'দের সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা।
 
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়াজে উদ্ভট বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত তারেক মনোয়ার এবং আমির হামজাও। তারেক মনোয়ার রকেটে চড়া, 'আইফোন কোম্পানির মালিক' বিল গেটস ও 'স্যামসাং কোম্পানির মালিক মিস্টার স্যামসাং' এর সঙ্গে সাক্ষাতের ভুয়া দাবি করে বিতর্কিত হন। তিনি ওয়াজে ১৯৯০ সালে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে ফুটবল খেলা, একই বছর অক্সফোর্ডের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার ভুয়া দাবি করেছিলেন। আমির হামজা সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে মদের ছড়াছড়ির বক্তব্য দিয়ে পরে ভুল স্বীকার করেন। 

বিতর্কিত বক্তব্য পরিহার করে জিহাদ, শরিয়া ও দ্বীন সম্পর্কে সঠিক বক্তব্যের আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, কথা ও কাজে মিল থাকতে হবে। নইলে কথার আছর মানুষের মনে পড়বে না। কোরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে মানুষের সামনে ইসলামের সঠিক দাওয়াত পেশ করতে হবে।
 
সম্প্রতি তারেক মনোওয়ার জামায়াতের সমালোচক আলেমদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেন। পরে বিবৃতিতে জামায়াত জানায়, ওই বক্তব্য তারেক মনোয়ারের ব্যক্তিগত। ওয়াজে জামায়াতপন্থি আলেমদের বিতর্কিত বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে আয়োজিত সম্মেলনে শফিকুর রহমান ইসলামী বলেন, ইসলামী দল ও শক্তিগুলোর ঐক্য দেশবাসীর কাম্য।
 
ঐক্য বিনষ্ট এবং বিভেদ-বিভ্রান্তি তৈরি করে এমন যে কোনো বক্তব্য পরিহারে ওয়ায়েজ ও দাঈদের প্রতি আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেছেন, দাঈদের অবশ্যই বিনয়ী হতে হবে। আল্লাহ বিনয়ী লোকদের ভালোবাসেন। মানুষও বিনয়ী লোকদের ভালোবাসেন। কোনোভাবেই বাহাস বা আত্মঘাতী কোনো বিতর্কে লিপ্ত হওয়া যাবে না। জাতিকে জাগ্রত করার দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ জন্য আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে সবাইকে পারদর্শী হতে হবে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার  সেবা করতে হবে। রাসূল (সা:) প্রতিষ্ঠিত সমাজে সবার অধিকার ছিল। কাউকেই অধিকার বঞ্চিত করা হত না। আল্লাহ তার সৃষ্টিকে সবচেয়ে ভালোবাসেন। আমাদেরও সবাইকে ভালোবাসতে হবে।

শফিকুর রহমান বলেছেন, জনসংখ্যার শতকরা ৯০ শতাংশ মুসলমান। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সুখ-শান্তিতে সম্প্রীতিতে পাশাপাশি বসবাস করছে। ধর্মের ভিত্তিতে জাতিকে বিভাজিত করার পক্ষে নই।

জামায়াত আমির ইমাম-খতিবদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা নামাজে নেতৃত্ব দেন, তাদেরকে সমাজে ভালো কাজেও নেতৃত্ব দিতে হবে। ওলামায়ে কেরামরা নেতৃত্ব দিলে, কল্যাণ রাষ্ট্র ও সমাজ কায়েম হবে ইনশাআল্লাহ। 

উলামা বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মাওলানা আবদুল হালিমের সভাপতিত্বে সম্মেলনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তৃতা করেন।

আরও পড়ুন

×