ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বন্দরের সঙ্গে স্বাধীনতা-নিরাপত্তা জড়িত, এটি লিজ দেয়ার সুযোগ নেই: সাইফুল হক

বন্দরের সঙ্গে স্বাধীনতা-নিরাপত্তা জড়িত, এটি লিজ দেয়ার সুযোগ নেই: সাইফুল হক
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ১৮:১২ | আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০২৫ | ২১:০০

বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর লিজ দেওয়ার চুক্তির মধ্যে কি আছে সেটা আমরা জানি না। কিন্তু বন্দরের সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত। বন্দর ব্যবস্থাপনা, টার্মিনালগুলো বিদেশিদের কাছে লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই।’

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাইফুল হক এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, এ ধরনের চুক্তি করার ম্যান্ডেট এই সরকারের এখতিয়ারে নেই। আপনারা এভাবে চুক্তি করতে পারেন না। আপনাদের কাজ হবে অনতিবিলম্বে এই চুক্তির সকল কার্যক্রম বন্ধ করা এবং স্থগিত ঘোষণা করা।
 
সাইফুল হক বলেন, ‘আগামীকাল চট্টগ্রাম পোর্টের মুখে শ্রমিক কর্মচারীদের যে প্রতিবাদ আছে, আমরা নিউমুরিং কনটেইনার পোর্ট দেওয়ার প্রতিবাদে যে কর্মসূচি দিয়েছে আমরা সেটির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই। আমরা দেখলাম বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কথা বলেছেন। তার বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। বিলম্ব হলেও বিএনপি এ ব্যাপারে কথা বলেছেন এবং তাদের অবস্থান জানিয়েছেন। আমি আশা করি— আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি আমাদের দেশ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তা বিরোধী অতি গোপনীয় যে চুক্তি হয়েছে, বিএনপি শক্তভাবে সেটির প্রতিবাদ জানাবে। সরকার যদি সঠিক পথে না হাঁটে, তাহলে সামনের দিকে বৃহত্তর কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করতে হবে। সরকার যদি তাদের চুক্তি থেকে সরে না আসে, বাম জোট যমুনা অভিমুখে যে কর্মসূচি দিয়েছে, আমরা সেটির সাথে একাত্মতা পোষণ করছি।’ 

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আর মাত্র আড়াই মাস বাকি। মানুষ এখন নির্বাচনের দিকে ঝুঁকে আছেন। ১৭ বছর ধরে আমরা যে নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছি, নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হয়, সেই যাত্রাপথে আপনারা এমন কিছু হাজির করবেন না— যাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে নিয়ে প্রশ্ন উঠে। আমি আগেও বলেছি, নিরপেক্ষতার পরীক্ষায় আপনারা পাস করতে পারেননি। আমরা দেখতে চাই— এই সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে। বিতর্কিত উপদেষ্টাদেরকে প্রত্যাহার করবেন। আগামী নির্বাচনকে যাতে অংশগ্রহণমূলক করা যায়, সেই দিকে আপনারা মনোযোগ দিবেন।’ সরকারের উদ্দেশ্যে সাইফুল হক আরও বলেন, ‘আপনারা বিতর্কিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যদি মরিয়া থাকেন, তাহলে আপনাদের অধীনে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন করতে চাইবে কিনা, এই প্রশ্ন কিন্তু বড় হয়ে দেখা দিতে পারে। আমি আশা করি— আপনারা সোজা পথে হাঁটবেন।’  

মতবিনিময় সভায় বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ বলেন, ‘এখনও ৯০ দিন সময় আছে, আপনারা (সরকার) বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর লিজ দেয়ার চুক্তি বাতিল করেন। বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য এই চুক্তি বাতিল করেন। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো আইন মানে না এবং আইনের কোনো তোয়াক্কা করে না। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ চট্টগ্রাম বন্দরগুলো ইজারা দেয়ার ব্যাপারে হাইকোর্টে রিট চলছে।’

মতবিনিময় সভায় গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসানসহ আরও অনেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আরও বক্তব্য দেন গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এলডিপির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সেলিম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি ড.ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল,  ভাসানী জনশক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ড.আবু ইউসুফ সেলিম,নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হাসান, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহবায়ক আর ইউ হাবিব প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×