ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

'বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছে সরকার'

'বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করার মিশনে নেমেছে সরকার'
×

প্রয়াত তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতারা- ফোকাস বাংলা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০১৯ | ০৯:২৫ | আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:২৪

দেশের গণতন্ত্র আর বিরোধী রাজনীতিকে ধ্বংস করার জন্য সরকার সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেছেন, বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করার মিশন শুরু করেছে সরকার। এ জন্য ২৬ লাখ নেতাকর্মীকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে, ৫০০ জনকে গুম করা হয়েছে। হাজারের ওপরে মানুষকে তারা পঙ্গু করেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জোর করে ২৯ ডিসেম্বর রাতে ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে তরিকুল ইসলাম স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রয়াত তরিকুল ইসলামের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় নেতারা এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করছে। সিপিডি বলেছে, বাংলাদেশে যে প্রবৃদ্ধির কথা বলা হচ্ছে, সেটা সঠিক নয়। দেশের অর্থনীতির প্রতিটি স্তম্ভ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ব্যাংক লুট, শেয়ারবাজার লুট ও টাকা পাচার। এক লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে, যেটা দিয়ে পাঁচটি পদ্মা সেতু নির্মাণ করা যেত।

তিনি বলেন, তরিকুল ইসলাম জীবনের বেশিরভাগ সময় নির্যাতিত হয়েছেন সরকারের হাতে। যখন তিনি অসুস্থ, ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে, সেই সময়েও তাকে একটার পর একটা মিথ্যা মামলা দিয়ে একবার যশোর, একবার ঢাকা দৌড়াতে হয়েছে। এভাবে তাকে চলে যেতে হয়েছে। একইভাবে সাদেক হোসেন খোকাকেও জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সবাইকে সাহসী, নীতির প্রতি আপসহীন এবং সংগ্রামী ভূমিকা পালন করতে হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, রাজনীতি এখন আর রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। দেশে সত্যিকার অর্থে জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার নেই, জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার নেই। এজন্য সমাজে নৈরাজ্য চলছে। এ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। মির্জা আব্বাস বলেন, তরিকুল ইসলাম ছিলেন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী তৈরির কারিগর এবং অন্যদিকে সাহসী মাঠ সৈনিক। আজকে যে বয়সে আমাদের অনেক যুবকরা মিছিল থেকে পালিয়ে যায়, ওই সময়ে তরিকুল ইসলাম তাদের সঙ্গে থেকে মাঠ গরম করেছেন এবং রাজপথে থেকেছেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্মৃতিচারণ করে বলেন, তরিকুল ইসলামের কাছে পদ কখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়নি, তিনি পথে হাঁটতে ভালোবাসতেন।

সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, প্রয়াত তরিকুল ইসলামের সহধর্মিণী যশোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপিকা নার্গিস ইসলাম বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলামের ছেলে বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুল হালিম ডোনার, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, নুরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×