সংরক্ষিত মহিলা আসন
ছাত্রী সংস্থার সাবেক নেত্রীরা জামায়াতের তালিকায়
এনসিপিকে বাড়তি আসন দেবে না
রাজীব আহাম্মদ
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৩৪ | আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ | ১২:৩০
| প্রিন্ট সংস্করণ
অতীতে ইসলামী ছাত্রী সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বে ছিলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে আছেন– এমন নেত্রীদের সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেবে জামায়াতে ইসলামী। তাদের কয়েকজন দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের স্ত্রী হলেও মনোনয়ন পাবেন অতীত ও বর্তমান দায়িত্বের ভিত্তিতে। ইতোমধ্যে জামায়াতের মহিলা বিভাগ প্রাথমিক তালিকা করেছে। তপশিল ঘোষণার পর তা চূড়ান্ত করবে দলটি। জামায়াত সূত্র সমকালকে এসব তথ্য জানিয়েছে।
দলটির নেতারা জানিয়েছেন, ছয়টি আসনে জয়ী জোট শরিক এনসিপি একটি মহিলা আসন পাবে। জামায়াতের কোটা থেকে আরেকটি আসন চেয়েছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। জামায়াত তাতে রাজি হয়নি। তবে দলের নেতৃত্বে না থাকা জামায়াতপন্থি দু-একজন নারী বুদ্ধিজীবী-পেশাজীবীকে মহিলা এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজের নাম রয়েছে এই আলোচনায়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে এককভাবে ৬৮ আসন পেয়েছে জামায়াত। জোট শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুই এবং খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে। ৩০০ আসনের সংসদে সংরক্ষিত মহিলা এমপির সংখ্যা ৫০।
জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রতি ছয় আসনের জন্য একটি নারী আসন বণ্টন করা হবে। জামায়াত জোট ৭৭টি আসনের জন্য ১২ দশমিক ৮৩টি নারী আসন পাবে। দশমিকের পরের দুই সংখ্যা পূর্ণ সংখ্যার কাছাকাছি হওয়ায়, জামায়াত জোট ১৩টি আসন পাবে। ছয় আসন পাওয়া এনসিপি একটি আসন পাবে। বাংলাদেশ খেলাফত এবং খেলাফত মজলিসের তিন এমপি সমর্থন দিলে, জামায়াত বাকি ১২টি আসন পাবে। সমর্থন না দিলে ৬৮ আসন পাওয়া জামায়াত ১১ দশমিক ৩৩টি আসন পাবে। দশমিকের পরের সংখ্যা পূর্ণ সংখ্যার অর্ধেকের কম হওয়ায় তাতে জামায়াতের নারী আসনের সংখ্যা হবে ১১।
জামায়াত ৬৬ সাধারণ আসনের জন্য ১১টি মহিলা আসন পাবে। বাকি সাধারণ দুই আসনে জামায়াতের এমপিদের সমর্থন চাইছেন বাংলাদেশ খেলাফতের আমির মামুনুল হক। খেলাফত মজলিসের একমাত্র এমপির সমর্থন পেলে তাঁর দলও একটি নারী আসন পেতে পারে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে। আইন অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের নির্বাচনে তপশিল ঘোষণা করতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ১৫ মার্চের মধ্যে তপশিল ঘোষণা করা হবে।
জামায়াতের নারী নেতা যারা
গত ২২ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়। ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন নারী। প্রথমবারের মতো জামায়াত নারী সদস্যদের নাম প্রকাশ করেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল হালিম সমকালকে বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ধরপাকড়ের কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে নারী সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হতো না। এখন সেই সমস্যা না থাকায় নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
জামায়াতের কর্মপরিষদে থাকা নারী সদস্যরা হলেন– নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাঈদা রুম্মান, মারজিয়া বেগম, খোন্দকার আয়েশা খাতুন, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, উম্মে নওরিন, ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী সুইট, খোন্দকার আয়েশা সিদ্দীকা, রোজিনা আখতার, ইরানী আখতার, সালমা সুলতানা, আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, সুফিয়া জামাল, মাহবুবা জাহান, নাজমুন নাহার, ডা. আমিনা বেগম, শামীমা বেগম, আমেনা বেগম, উম্মে খালেদা জাহান, জান্নাতুল কারীম ও মাহবুবা খাতুন।
নূরুন্নিসা সিদ্দীকা জামায়াতের মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি। খোন্দকার আয়েশা খাতুন ছাত্রী সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা সভানেত্রী। তিনি ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর কাসেম আলীর স্ত্রী এবং ঢাকা-১৪ আসনের এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমানের মা।
জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের স্ত্রী ডা. হাবিবা আখতার চৌধুরী সুইট। ডা. আমিনা বেগম জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী। তিনি ২০০১ সালেও সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন। শফিকুর রহমানের আগে থেকেই আমিনা বেগম কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে সক্রিয়।
ছাত্রী সংস্থার সাবেক সভানেত্রী সাবিকুন্নাহার মুন্নী জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রী। আরেক সাবেক সভানেত্রী আয়েশা সিদ্দীকা ঢাকা-৪ আসনের এমপি জয়নুল আবেদীনের স্ত্রী। আয়েশা সিদ্দিকা পারভীন, জান্নাতুল কারীম, নাজমুন নাহার, শামীমা বেগম, ইরানী আখতার, রোজিনা আখতাররাও ছাত্রী সংস্থার সভানেত্রী বা সেক্রেটারি জেনারেল ছিলেন।
জামায়াতের এক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সমকালকে বলেন, সাধারণত ছাত্রী সংস্থার দায়িত্বশীলদের বিয়ে ছাত্রশিবির বা জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে হয়। আবার জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের সবার স্ত্রী কমপক্ষে দলের রুকন (সদস্য)। কেউ কেউ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও রয়েছেন। তবে কেউই কারও স্ত্রী পরিচয়ে দায়িত্ব পাননি। ছাত্রী সংস্থা বা তৃণমূল থেকে ধাপে ধাপে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে এসেছেন। ফলে পরিবারতন্ত্রের ব্যাপার নেই।
প্রাথমিক তালিকায় যারা
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, কর্মপরিষদের নারী সদস্যের জ্যেষ্ঠদের অধিকাংশের নাম সংরক্ষিত মহিলা আসনের মনোনয়নের জন্য রয়েছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, মহিলা বিভাগ থেকে তালিকা দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্ব ও সংসদীয় দল তা চূড়ান্ত করবে।
জামায়াত সূত্র জানিয়েছে, নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সাঈদা রুম্মান, মারজিয়া বেগম, আয়েশা খাতুন, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, উম্মে নওরিন, ডা. সুইট ও আয়েশা সিদ্দীকার নাম রয়েছে তালিকায়। দলের বাইরে থেকে কারও নাম যুক্ত হলে এখান থেকে দু-একজন বাদ পড়বেন। জামায়াত আমিরের স্ত্রী ডা. আমিনার নাম থাকার সম্ভাবনা কম।
কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি ডা. আবদুল্লাহ তাহের তাঁর স্ত্রীর সংরক্ষিত এমপি হওয়ার সম্ভাবনার বিষয়ে সমকালকে বলেন, এমন যদি হয়, তা পরিবারতন্ত্রের কারণে হবে না। ডা. সুইট জামায়াতের মহিলা বিভাগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একজন। তিনি যদি এমপি হন, নিজ যোগ্যতাতেই হবেন, আমার পরিচয়ের কারণে নয়।
- বিষয় :
- সংরক্ষিত মহিলা আসন
- জামায়াতে ইসলামী
