কাঁচাবাজার ঘুরে জামায়াত আমির বললেন, চাঁদাবাজিতে পণ্যের দাম বাড়ছে
রাজধানীর মিরপুর-১ শাহ আলী পাইকারি কাঁচাবাজারে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১৯:২১
কাঁচাবাজার ঘুরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেছেন, চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে সংসদে এবং বাইরে লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরকে ব্যবসায়ীরা জানান, নেতারা মাসিক ৫ হাজার টাকায় সরকারি আড়ত বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ টাকা ভাড়া আদায় করে। আরও কয়েক রকম চাঁদা রয়েছে। এতে পণ্যের দাম বেশি রাখতে হয়।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১ শাহ আলী পাইকারি কাঁচাবাজারে যান বিরোধীদলীয় নেতা। ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জায়গায় জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী, সিন্ডিকেট এবং চাঁদাবাজির কারণে ব্যবসায়ী ব্যবসা করতে পারছেন না। ভোক্তা ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাচ্ছে না। আবার কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের দাম পাচ্ছে না। এটা ভাঙতে চাই।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা থামব না। আমাদের প্রতিবাদ, দাবি সংসদের ভেতরে এবং বাইরে অব্যাহত থাকবে। একা কেউ পারবে না, একা কোনো দলও পারবে না। জনগণের সহযোগিতা দরকার।
বাজার পরিদর্শনের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, মহড়া দিতে নয়, বাজার বুঝতে এসেছি। আড়তে বাজারে এসেছি, খুচরা বাজারেও যাব। মোকামে খবর নেব, যাব দরকার হলে। আমরা অবশ্যই কথা বলব।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ তাদের দুর্দশার কথা বলতে চান কিনা তা জামায়াতের আমির জানতে চাইলে একজন কথা বলেন। ওই ব্যবসায়ী অধিক দোকান ভাড়া, চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন, আড়তগুলো বিভিন্ন দলের নেতারা সরকারের কাছ থেকে বরাদ্দ নিয়েছেন। প্রতিবর্গ ফুটে ভাড়া ১৩ টাকা। এ হিসেবে একটি ৪০০ বর্গফুটের আড়তের সরকারি ভাড়া ৫ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু বরাদ্দ পাওয়া নেতারা সেই আড়ত মাসে ৬০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকায় ব্যবসায়ীদের ভাড়া দেন। এতে ব্যবসার খরচ বৃদ্ধি পায়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রকৃত ব্যবসায়ীরা আড়ত বরাদ্দ পায় না। এ জন্য চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়।
এই বক্তব্যের কারণে সমস্যা হতে পারে কিনা তা ওই ব্যবসায়ীর কাছে জানতে চান শফিকুর রহমান। তখন ব্যবসায়ী বলন, হতে পারে। তাঁকে অভয় দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা থাকব আপনার পাশে। চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে প্রতিরোধ করতে হবে। আমরা সবাই মিলে প্রতিরোধ করব।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আগের থেকে বাজার অস্থির ছিল। ইদানিং মনে হচ্ছে আরও একটু বেশি অস্থির। দোকানদার বলছেন, নীরব চাঁদাবাজি আছে। এখানে তো আফ্রিকার জঙ্গল থেকে এসে কেউ চাঁদাবাজি করে না। এই এলাকায় উঠাবসা বসবাস করা লোকেরাই চাঁদাবাজি করে। তাদের পরিচয় সবাই জানি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, স্থানীয় এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান প্রমুখ।
- বিষয় :
- জামায়াতে ইসলামী
- ডা. শফিকুর রহমান
- চাঁদাবাজি
