জামায়াতে যোগ দেওয়া বিচারপতি ঘুষে জড়িত সন্দেহে অপসারিত হয়েছিলেন
জামায়াত আমিরের সঙ্গে বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান। ছবি-সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩২ | আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৩২
জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়া বিচারপতি সৈয়দ শাহিদুর রহমান হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি পদ থেকে ঘুষকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে অপসারিত হয়েছিলেন। জামায়াত বলছে, ২২ বছর আগের এ ঘটনা প্রমাণিত নয়, সন্দেহ থেকে প্রশ্ন উঠায় অপসারিত হয়েছিলেন শাহিদুর। তিনি জামায়াতে সহযোগী সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছেন। সততার প্রমাণ দিয়ে ধাপে ধাপে কর্মী রুকন (সদস্য) হতে হবে।
২০০৩ সালের এপ্রিলে শাহিদুর রহমানকে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল খালেদা জিয়ার সরকার। পুরনো সংবাদ এবং মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঘুষের বিনিময়ে জামিনের অভিযোগের বিষয়টি নাসিম সুলতানা কনা নামে এক নারী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তখনকার সভাপতি ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদের গোচরে আনেন।
কনার অভিযোগে ২০০৩ সালের ২০ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি কে এম হাসান রাষ্ট্রপতিকে জানান। প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের তখনকার জ্যেষ্ঠ বিচারপতি রুহুল আমিন ও বিচারপতি মো. ফজলুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল তদন্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রতিবেদন দেন।
এতে বলা হয়, ‘অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়নি; তবে তথ্যপ্রমাণে এটাও বলা যাচ্ছে না যে এ অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’ তাই অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে শাহিদুর রহমানের দায়িত্ব পালন উচিত নয় বলেও প্রতিবেদনে মত দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি শাহিদুর রহমানকে অপসারণ করেন। এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শাহিদুর হাইকোর্টে যান। ২০০৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে শাহিদুরকে বিচারক হিসেবে পুনর্বহালের আদেশ দেন।
এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে ২০০৫ সালের এপ্রিলে এক আইনজীবী আপিল করলে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। ১০ বছর পর ২০১৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করেন। শাহিদুর রহমানকে অপসারণের সিদ্ধান্তকে বৈধ বলে রায় দেন সর্বোচ্চ আদালত।
গত মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন শাহিদুর রহমান। যেখানে তিনি বলেন, দলটি সম্পর্কে পড়াশোনা করে তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। ঘুষে জড়িত থাকার সন্দেহ এবং বিচারক পদ থেকে অপসারণের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সমকালকে বলেন, সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের তদন্তে শাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। সন্দেহের কারণে তাঁকে অপসারণ করা হয়েছিল। সন্দেহের বশে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। শাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এই ঘটনার আগে পরেও কোনো অভিযোগ নেই। অন্য দলের মতো জামায়াতে যোগ দিয়েই নেতা হওয়া যায় না। তিনি একজন সহযোগী সদস্য মাত্র। তা যে কেউ হতে পারেন।
- বিষয় :
- জামায়াতে ইসলামী
- বিচারপতি