ঢাকা শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে লড়াই হবে সমানে সমান: শফিকুর রহমান

ভারতের সঙ্গে লড়াই হবে সমানে সমান: শফিকুর রহমান
×

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৬

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ। বাংলাদেশের জন্য ভারতের অবদানকে আমরা অস্বীকার করি না। তবে এ রকম খুনিদের তারা অবলীলায় শুধু আশ্রয় নয়; তাদের রাজনৈতিক অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেবে— এতে আমরা ব্যথিত।’

গতকাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে জামায়াতের আমির এসব কথা বলেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অস্বীকার করা যায় না। তবে দুই দেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে। এখানে আলোচনা হবে; লড়াই হবে সমানে সমান। আমরা কারও অধীনতা মেনে নেব না। বাংলাদেশ আর কারও অধীনে তার পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করবে না।’ 

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে মানুষকে গুম, হত্যা, গ্রেপ্তার ও মামলা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। জনগণের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ও তার সরকারকে দেশ ছাড়তে হয়েছে।

সীমান্ত হত্যার প্রসঙ্গ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আর সীমান্তে কাঁটাতারে ফেলানির লাশ দেখতে চায় না। বাংলাদেশের নাগরিকদের নির্বিচারে হত্যা করাও মেনে নেওয়া হবে না।’ 

পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তিনি সরকারকে এখন থেকেই শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে নবায়নের সময় এলে বাংলাদেশের স্বার্থকে সামনে রেখে সাহসের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। 

তিনি বলেন, ‘আমি অনুরোধ করব, সরকারকে এখন থেকে শক্তিশালী নীতিমালা নিয়ে সাহস করে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তিতে তাদের সঙ্গে যেন মোকাবিলা করা হয়। এখানে আলোচনা হবে; লড়াই হবে সমানে সমান।’ 

পরিবর্তনের বাংলাদেশে কোনো ধরনের বৈষম্য দেখতে চান না বলে মন্তব্য করেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে মেধা, দক্ষতা ও সততার ভিত্তিতে যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান তিনি।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, ফান্ড বরাদ্দের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যরা বরাদ্দ পেলেও বিরোধী দলের নারী সদস্যরা তা পাননি।

চাকরির নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পরিবর্তনের নতুন সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ এর প্রতিবাদ করেছে এবং তারাও এর প্রতিবাদ করেন। যা চলে আসছে, সেটাই বহাল রাখি। মেরিটকে সবাই মিলে সম্মান করি।

ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজারের দুরবস্থার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, অর্থনীতির দুটি মূল স্তম্ভই বিপর্যস্ত। এসব প্রতিষ্ঠানকে সব ধরনের দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে।

শিল্প খাতের সংকট তুলে ধরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। উৎপাদন যদি ক্রমহারে এইভাবে নিচের দিকে নামতেই থাকে; শিল্প মালিকরা নিজে বাঁচবেন কীভাবে; কারখানা বাঁচাবেন কীভাবে; ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে; এতগুলো শ্রমিক যাদের অ্যাকোমোডেট করেছেন তাদের রাখবেন কীভাবে— সব ক্ষেত্রেই তো মারাত্মক বিপর্যয় দেখাবে।

শিল্প খাত রক্ষায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে কাটছাঁট করে হলেও শিল্পকে রক্ষা করতে হবে। কারণ শিল্প ধ্বংস হলে এর সঙ্গে কোটি কোটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গণভোটের পক্ষে সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে থাকলেও সংসদ সদস্যদের শপথের দিন থেকে সেই জায়গায় ‘সমস্যা’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেছেন, গণভোটে সংস্কারের পক্ষে জনগণের রায় পাওয়ার পরও সেই রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

জুলাই আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার প্রক্রিয়ায় যতটুকু দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছিল; বর্তমান সরকারের ছয় মাসে তেমন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন

×