হেফাজতে কাসেমীর পদ পেলেন জিহাদী
মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী- ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ ডিসেম্বর ২০২০ | ০৮:২৮
হেফাজতে ইসলামের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হয়েছেন মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী। আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর মৃত্যুতে শূন্য মহাসচিব পদে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। আরও ৫০ জনকে অন্তর্ভূক্ত করে কমিটি আকার বাড়ানো হয়েছে। তবে হেফাজতের প্রতিষ্ঠাতা আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীর অনুসারীদের কমিটিতে জায়গা হয়নি।
হেফাজতে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন সমকালকে বলেছেন, গত ২৩ ডিসেম্বর হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ঢাকা মহানগরের নেতৃত্ব মনোনীত করা হয়। শনিবার তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে। বিশেষ সভায় হেফাজত আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর নূর হোসাইন কাসেমীর মৃত্যুতে শূন্য মহাসচিব পদে অনেকের নাম আলোচনায় ছিল। চার যুগ্ম মহাসচিবদের কেউ এ পদ পাবেন না, তা নিশ্চিত ছিল। শেষ পর্যন্ত জামিয়া ইসলামিয়া মাখজানুল উলূম মাদ্রাসার মুহতামিম নুরুল ইসলাম জিহাদীকে বেছে নেওয়া হয়েছে। তিনি আগের কমিটিতে সিনিয়র নায়েবে আমির ছিলেন। হেফাজত আমির বাবুনগরীর মতো তিনিও কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন। তার পূর্বসুরী নূর হোসাইন কাসেমী আমৃত্যু বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তের মহাসচিব ছিলেন। নতুন সিনিয়র নায়েবে আমির হয়েছেন খেলাফত আন্দোলনের আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জি।
এদিকে আল্লামা আহমদ শফীর অনুসারী দাবিদারদের অভিযোগ, অরাজনৈতিক হেফাজতের রাজনীতিকরণ করা হয়েছে নতুন কমিটিতে। বিভিন্ন বিরোধী ধর্মভিত্তিক দলের নেতাদের পুনর্বাসন করা হয়েছে। বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিশ এবং জোটের বাইরে থাকা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ ও খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে। সরকার সমর্থক আলেম উলামাদের কমিটিতে রাখা হয়নি।
অপরদিকে আনাস মাদানীর অনুসারীরা কমিটি প্রত্যাখান করে পাল্টা কাউন্সিল করার কথা বললেও পরবর্তীতে তাদের তৎপরতা দেখা যায়নি। এর মধ্যে আহমদ শফীকে হত্যার অভিযোগ এনে গত সপ্তাহে ৩৫ হেফাজত নেতার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।