শ্রেণিকক্ষ সংকট, কেউ পড়ে টুলে বসে, কেউ মেঝেতে
কক্ষ সংকটের কারণে রোয়াংছড়ির বিগ্নসেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একই ঘরে পড়ছে প্রাক-প্রাথমিক ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা সমকাল
উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, বান্দরবান
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বুধবার সকাল ৯টা। সদর উপজেলা জামছড়ি ইউনিয়নের জানছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষক যথাসময়ে উপস্থিত হয়েছেন। শিক্ষার্থীরাও যথাসময়ে হাজির। তবে প্রধান শিক্ষকসহ দুজন শিক্ষক ছিলেন অনুপস্থিত। সহকারী শিক্ষিকা মেউচিং মারমা সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, প্রধান শিক্ষিকা লক্ষ্মী ভট্টাচার্য শারীরিক অসুস্থাতার কারণে ছুটিতে আছেন। মিফতাহুল জান্নাত নামে আরেকজন সহকারী শিক্ষিকা জেলা শহরের আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। চারজন শিক্ষকের পদ থাকলেও মূলত দুজন শিক্ষককেই বেশির ভাগ শ্রেণিতে পাঠদান করতে হয়। কারণ প্রধান শিক্ষিকাকে নানা কাজে সদরে দৌড়াতে হয়।
তবে জামছড়ি ইউনিয়নের জানছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রোয়াংছড়ি উপজেলার নোয়াপতং ইউনিয়নের বিগ্নসেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষ প্রকট। শিক্ষার্থীদের জন্য নেই খেলাধুলার মাঠ। স্কুলের বারান্দায় খেলা করে শিক্ষার্থীরা।
জানছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা মাএম্যা মারমা বলেন, ‘বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী রয়েছে ৬১ জন। চার কক্ষ বিশিষ্ট এক তালা ভবনে একটি অফিস কক্ষ ও একটি শ্রেণি কক্ষে বৃষ্টির পানি ঢোকে ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে। বাকি দুটি কক্ষে চলে পাঠদান। শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে দুই শিফটে চলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী খয়থোয়াই মারমা বলে, ‘শ্রেণি কক্ষ সংকটের কারণে সবাইকে একসঙ্গে পড়ানো হয় না। দীর্ঘদিন সংস্কার হয়নি ভবন। ফলে মাঝেমধ্যে ছাদ চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে শ্রেণি কক্ষে বইখাতা ভিজে যায়।’
খামাদংপাড়ায় অবস্থিত জানছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেই পাড়ার কার্বারি (পাড়াপ্রধান) মংশে মারমা বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়টি ভালোভাবে চলছে। শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত থাকেন, পাঠদানেও তারা আন্তরিক।’
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ আবদুল করিম বলেন, ‘নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন করা হয়। নতুন ভবনের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।’
বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় রোয়াংছড়ি উপজেলা নোয়াপতং ইউনিয়নের বিগ্নসেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছেন এই প্রতিবেদক। বাঘমারা বাজার পৌঁছার আগেই ব্রিজের পরে বিদ্যালয়টি। পাহাড়ের ঢালে এক তলা বিশিষ্ট বিদ্যালয় ভবন। দেখা গেল শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ সহকারে পড়াচ্ছেন। স্কুলে প্রধান শিক্ষকসহ পাঁচজন শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন।
ছাদের ওপরে বেড়া ও টিন দিয়ে তৈরি শ্রেণিকক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ৭ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি পরীক্ষার জন্য নিবিড়ভাবে পড়োনা হচ্ছিল। তাদের পাশেই প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা আনন্দের সঙ্গে পড়ছিল।
প্রধান শিক্ষক বিশ্বজীব তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘এক তলাবিশিষ্ট ভবনে তিনটি কক্ষ। একটি অফিস, অন্য দুটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ভবনের ছাদের ওপরে বেড়া ও টিন দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ একটি শ্রেণি কক্ষ তৈরি করে দিয়েছে। সেখানেও পাঠদান চলে।’
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষকের পদ রয়েছে। হ্লাওয়াইচিং মারমা নামে একজন সহকারী শিক্ষক প্রশিক্ষণে আছেন। বিদ্যালয়ে প্রাক প্রাথমিকসহ মোট ১১৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।’
বাগমারা পূর্বপাড়ার কার্বারী ক্যচিমং মারমা বলেন, ‘স্যারেরা কষ্ট করে পড়াশোনা করাচ্ছেন ছেলেমেয়েদের। তারা নিয়মিত স্কুলে আসেন। এখানে একটি খেলার মাঠ দরকার।’
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী উক্যনু মারমা অভিভাবক মংক্যনু মারমা বলেন, ‘পাশের সরকারি বিদ্যালয়টি থেকে এখনাকার পড়াশুনা ভালো। যত্ন নিয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষকরা পড়ান।’
রোয়াংছড়ি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি পাহাড়ে শিক্ষার গুণগতমান বাড়াতে। বিগ্নসেন পাড়া বিদ্যালয়ের পড়াশুনার মান ভালো। ভবন সম্প্রসারণে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’
- বিষয় :
- স্কুলখোলা
