ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে মিষ্টিমুখ

‘বিজয়ের স্বাদ’ পেলেন না আসলাম চৌধুরী

‘বিজয়ের স্বাদ’ পেলেন না  আসলাম চৌধুরী
×

আসলাম চৌধুরী

 এম সেকান্দর হোসাইন, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ১৩:৫৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড, চসিক ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরী। তবে নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখায় বিজয়ী হয়েও জয়ের আনুষ্ঠানিক স্বাদ পেতে অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি। কারণ মামলার কারণে তার ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। 

এদিকে নির্বাচনের পর সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন আসনে পরাজিত ও বিজয়ী প্রার্থী একে অপরের কাছে গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার দুপুরে আসলাম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরীর ফৌজদারহাট আবদুল্লাঘাটা এলাকার বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে তিনি পরাজিত প্রার্থীকে নিজ হাতে মিষ্টিমুখ করান। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সুস্বাস্থ্য ও সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন। একই সঙ্গে আগামী দিনে এলাকার উন্নয়নে সহযোগিতা কামনা করে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, সব ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

এ সময় আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য অতীতেও একসঙ্গে কাজ করেছি। এখনও করছি, আগামীতেও একসঙ্গে কাজ করব।’
এ ছাড়া বিকেলে নিজ বাড়িতে নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভোটারদের উৎসাহ দেন আসলাম চৌধুরী। বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন তার সহধর্মিণী জামিলা নাজনীল মাওলা ও পরিবারের সদস্যরা। তবে ফলাফল স্থগিত বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী কার্যক্রমে দায়িত্বে থাকা মিডিয়া কর্মকর্তা আবু তাহের জানান, বিপুল ভোটে বিজয়ী আসলাম চৌধুরী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেকারত্ব দূরীকরণ, পর্যটন খাতের উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি, নারীর কর্মসংস্থান ও উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্পায়ন এবং পরিবেশবান্ধব জাহাজভাঙা শিল্পের উন্নয়নে কাজ করবেন।

ফলাফল স্থগিত ঘোষণা
চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। আপিল বিভাগে দায়ের করা সিপিএলএ নং ৪৪১/২০২৬ চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ক-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহীদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী আসলাম চৌধুরীর ভোটের হিসাব আপাতত প্রকাশ করা হবে না, তবে অন্য প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোট ঘোষণা করা হয়েছে। জানা গেছে, ঋণখেলাপির মামলার প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে।

সাত প্রার্থীর জামানত বাতিল
প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, এ আসনে রাজনৈতিক দলের মোট নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী পেয়েছেন ৯১ হাজার ৪০৪ ভোট।
নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে মোট বৈধ ভোটের কমপক্ষে এক-অষ্টমাংশ বা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এ শর্ত পূরণ করতে না পারায় সাত প্রার্থীর জামানত বাতিল হয়েছে।

জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন—বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মো. সিরাজুদ্দৌলা (৭,২৬৭), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. দিদারুল মাওলা (১,৩৩৭), বাংলাদেশ সুপ্রীম পার্টির শহীদুল ইসলাম চৌধুরী (৯২৩), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মছিউদদৌলা (৭৩৮), গণসংহতি আন্দোলনের জাহিদুল আলম (৩০১), নেজামিয়া ইসলাম পার্টির মোহাম্মদ জাকারিয়া খালেদ (১৯৩) ও গণঅধিকার পরিষদের এ টি এম পারভেজ (১৬৬)।

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৩৮০। কেন্দ্র ছিল ১২৫টি। মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৮১ এবং বাতিল ভোট ৬ হাজার ২৯৯।
এদিকে পরাজিত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসনিক ও নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ন্যায় ও সমতার পরিচয় দেয়নি। যদি সমতা রক্ষা হতো, ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা অনেক দূর এগিয়ে যেত।”

আরও পড়ুন

×