রাউজানে তরমুজের বাম্পার ফলন ভালো দামে বিক্রি
মাঠ থেকে তরমুজ তুলছেন এক চাষি, নোয়াপাড়ার ডুল্লা বিল থেকে তোলা ছবি সমকাল
প্রদীপ শীল, রাউজান (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৬:৫৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে রাউজানে এবার তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে, যা বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলার বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে বড় আকারের বিভিন্ন জাতের তরমুজে ভরে উঠেছে মাঠ। মাঠ থেকে ভালো দামে তরমুজ বিক্রি করছেন চাষিরা।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে রাউজান উপজেলায় প্রায় ১৮ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভের আশা করছেন চাষিরা। তবে টানা বৃষ্টি হলে ক্ষতির আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার নোয়াপাড়া, নোয়াজিশপুর, পৌর এলাকার সুলতানপুর এবং ডাবুয়া ইউনিয়নের হিংগলা এলাকায় বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে তরমুজের আবাদ হয়েছে। জেব্রা কিংস, গ্লোরি, রেড বোল, সেম্পিয়ান ও ব্ল্যাক ডায়মন্ড জাতের তরমুজে মাঠ ভরে উঠেছে। পাকা তরমুজ সংগ্রহ করে বস্তায় ভরে পরিবহনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।
নোয়াপাড়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষি মো. হাসান বলেন, ‘এ বছর ১২০ কানি জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। প্রায় ৪৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে উৎপাদন খরচ মিটিয়ে ভালো লাভের আশা করছি।’ বাগোয়ান ইউনিয়নের চাষি আবুল কালাম বলেন, ‘বাজারে তরমুজের দাম বেশি হলেও আমরা ক্ষেতেই পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হই। তরমুজ বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায় না, তাই দ্রুত বিক্রি করতে হয়।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুম কবির বলেন, ‘চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় সেচ ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বড় পরিসরে তরমুজ চাষে আগ্রহীদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত অনুকূলে থাকলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন।’
- বিষয় :
- তরমুজ
