নিউইয়র্কে করোনায় আরও ১১ বাংলাদেশির মৃত্যু
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৪৭
নিউইয়র্ক রাজ্য ও শহরে করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হার তুলনামূলকভাবে কমতে শুরু করলেও মৃত্যুর মিছিল থামছেই না বাংলাদেশি কমিউনিটিতে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আরো ১১ জন বাংলাদেশি মারা গেছেন। এ নিয়ে নিউইয়র্কে ১৯৯ জন বাংলাদেশির প্রাণ গেল মহামারী করোনাভাইরাসে। আর ৪২ দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ৫ রাজ্যে মোট ২১৭ জন বাংলাদেশি মারা গেলেন কোভিন-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে। নিউজার্সীতে ৭ জন, মিশিগানে ৬ জন, ভার্জিনিয়ায় ৩ জন ও মেরিল্যান্ডে ৩ জন করে মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে।
মঙ্গলবারও মৃত্যুর মিছিলের তালিকায় প্রবীণরাই ছিলেন অধিক সংখ্যায়। এ দিন প্রাণ হারানো এগারো জনের সাতজনই সত্তরোর্ধ। এদের মধ্যে তিন জন নারী ও ৮ জন পুরুষ। সবচেয়ে বয়সী ৯৪ বছরের বাহাত্তান সরকার মারা গেছেন কুইন্সের একটি হাসপাতালে, ৮৮ বছরের আমিরুন্নেসা খাতুন ম্যানহাটানের একটি হাসপাতালে মারা যান। সবচেয়ে কম বয়সী এফ হাসান (৫৩) এস্টোরিয়ার একটি হাসপাতালে। আর লোকনাথ সাহা (৫৬) মারা গেছেন ফ্লাশিংয়ের একটি হাসপাতালে। ব্রুকলীনে মারা গেছেন সন্দীপ সোসাইটি ইউএসএ-র সভাপতি আব্দুল হান্নান পান্নার শাশুড়ি পারভিন জাফর (৭০)। এখানে আরো মারা গেছেন বিবি আয়েশা (৭০)। আরো মারা গেছেন শরিয়তপুর সমিতি ইউএসএ-র সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন দেওয়ান, মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন (৭০), আলী হোসেন ব্যাপারী (৮৪), মোহাম্মদ এবায়েদ উল্ল্যাহ (৮২) ও মওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ (৬০)।
এ দিকে করোনায মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের কবরস্থ করতে বড় ভূমিকা রাখছে নিউইয়র্কের বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ‘বাংলাদেশ সোসইটি’। ৪২ দিনে সোসাইটি করোনায় মৃত ১০১ জনকে তাদের নিজস্ব কবরস্থানে সামহিত করেছে। নিউজার্সীতে মালবরো মুসলিম গোরস্থানে সোসাইটির নিজস্ব কবরস্থানে এ পর্যন্ত ৯৭ জনকে কবরের জায়গা দিয়েছে। যার সিংহভাগই বিনামূল্যে। আর লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল গ্রেভ ইয়ার্ডে সোসাইটির কবরস্থানে চারজনকে সমাহিত করা হয়েছে।
সোসাইটি ছাড়াও করোনায় মৃত বাংলাদেশিদের কবরের জায়গা সংকুলান করতে এগিয়ে এসেছে ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার জামে মসজিদও। তাদের নিউজার্সীর দুটি কবরস্থানে প্রায় ত্রিশজনকে সমাহিত করা হয়েছে। জালালাবাদ এসোসিয়েশেন অব ইউএসএ‘র লং আইল্যান্ডের ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল গ্রেভ ইয়ার্ডে নিজস্ব কবরস্থানে ৭ জনকে কবরস্থ করা হয়েছে। এ দিকে নিউইয়র্কের কয়েকটি ছোট-বড় জেলা সমিতির নিজস্ব কবরস্থান থাকার পরও করোনায় মৃত সেইসব জেলাবাসীর সবাইকে তাদের কবরস্থানে জায়গা দিচ্ছে না জেলা সমিতিগুলো। তারা শুধু তাদের সংগঠনের সদস্য যারা মারা যাচ্ছেন শুধু তাদেরকেই কবরের জায়গা দিচ্ছেন। এই ঘটনায় বিভিন্ন জেলা সমিতির বিরুদ্ধে সেইসব জেলাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন এই করোনা কালে নিজ জেলার মানুষদের জন্য কবরের জায়গা না দিয়ে সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ চরম অনৈতিক কাজ করছেন।
বাংলাদেশ সোসাইটি জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক সবার জন্যই তাদের নিউজার্সীর কবরস্থানে বিনামূল্যে কবরের জায়গা দেবার সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলো সংগঠনটির প্রয়াত সভাপতি কামাল আহমেদের সভাপতিত্বে ২০ মার্চ অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সভায়। হার্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার আগে টেলি কনফারেন্স কার্যকরী কমিটির সেই সভায় কামাল আহমেদের প্রস্তাবে এই সিদ্ধান্ত নেবার পাশাপাশি করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির অসচ্ছল পরিবারকে ৫০০ ডলার করে অনুদান দেবারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেইসাথে হিন্দু র্ধমাবলম্বীদের এই আর্থিক অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, সোসাইটির সভাপতি কামাল আহমেদ এলমহাস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তারপর সোসাইটির কার্যকরী সদস্য আজাদ বাকিরও একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া বেশ কয়েকজন হিন্দু ব্যক্তির পরিবারকেও সোসাইটির পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই আর্থিক অনুদান দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। করোনায় মৃতদের কবরের জায়গা ও আর্থিক অনুদান দেবার বিষয়টি তদারকি করছেন সোসাইটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার ও সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকী।
- বিষয় :
- করোনাভাইরাসে
- নিউইয়র্ক