ঢাকা মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

চলতি বছর ৪৯ শতাংশ পর্যটক হারাবে ইতালি

চলতি বছর ৪৯ শতাংশ পর্যটক হারাবে ইতালি
×

ইউসুফ আলী, ইতালি

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২০ | ০২:২২ | আপডেট: ২৩ জুন ২০২০ | ০২:৩১

করোনার ধাক্কা ক্রমশ কাটিয়ে উঠছে ইতালি। দেশটির নব্বই শতাংশ এলাকা প্রায় করোনামুক্ত। প্রতিদিনই কমছে করোনায় আক্রান্তের মোট সংখ্যা।আক্রান্তের তুলনায় বেশি সংখ্যক সুস্থ হওয়ার হার অব্যাহত থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে দেশটি করোনামুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইতালির পর্যটন শিল্প চরম সংকটে পড়েছে। দেশটি চলতি বছর ৩১ মিলিয়ন পর্যটক হারাবে বলে সরকারি হিসেবে বলা হয়েছে। যেটি দেশের পর্যটন শিল্পের ৪৯ শতাংশ। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দেশটিতে বেকারত্বের হার আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশঙ্কা করছে সরকার। ইতালির একাধিক জাতীয় দৈনিকের রিপোর্টে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় ইউরোপের ১২টি দেশের সাথে ইতোমধ্যে সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে খুলেছে। আরও ১১টি দেশের সাথে শর্তসাপেক্ষে সীমান্ত আংশিক খোলা রয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যে ইউরোপের আরও ২টি দেশের সাথে সীমান্ত খুলবে এবং পুরো ইউরোপের সাথে ইতালির আগের মতো সবকিছু স্বাভাবিক হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর ওয়েবসাইট পর্যালোচনো করে জানা গেছে, প্রাণঘাতী করোনার ধাক্কা সামাল দিয়ে উঠছে ইতালি। ইউরোপের মধ্যে প্রথম দেশ হিসেবে ৩ জুন থেকে খুলে দেয়া হয়েছে দেশটির সীমান্ত। দেশটির উত্তরাঞ্চল লোম্বার্দিয়া বিভাগ ব্যতীত অন্য ২০টি বিভাগীয় শহর এখন প্রায় করোনামুক্ত। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যার তুলনায় সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরছে কয়েকগুন বেশি। ফলে দেশটিতে বর্তমানে করোনায় সক্রিয় রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৩৭ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ২১৮ জন। এর বিপরীতে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছে ৫৩৩ জন। এভাবে প্রতিদিন মোট সংখ্যা কমছে, যেখানে গত একদিনে কমেছে ৩৩৫ জন। মোট সংখ্যা থেকে এর আগের দিন কমেছে ২৪০ জন। এ সময়ে করোনায় নতুন করে সংক্রমিত বিভাগীয় অঞ্চলের মধ্যে ত্রেনতো, কালাব্রিয়া ও আবরুজ্জো অঞ্চলে একজন করে,  ভেনেতো অঞ্চলে ২ জন, মলিসে ৩ জন, কাম্পানিয়া ও পিয়েমন্তে ৭ জন করে, লিগুরিয়া ও লাছিওতে ৮ জন করে, বোলজানো’তে ১১ জন, এমিলিয়া রোমানিয়াতাতে ২২ জন নতুন করে সংক্রমিত হয়েছে। ইতালীর ২১টি বিভাগীয় অঞ্চলের মধ্যে কেবল লোম্বার্দিয়ায় সর্বোচ্চ ১৪৩ জন আক্রান্ত এবং ৭টি বিভাগীয় অঞ্চলে সোমবার নতুন করে কেউ করোনায় সংক্রমিত হয়নি। এভাবে কমলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যে ইতালী করোনামুক্ত হবে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। 

করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় ইতালি এখন স্বাভাবিক। প্রত্যেক নাগরিক বাধ্যতামূলক মুখে মাস্ক ব্যবহার করছেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সরকার দেশটির ব্যবসা এবং রফতানি বাণিজ্য ঢেলে সাজাতে নানাবিধ আর্থিক প্রনোদনা, লোনসহ বিভিন্ন সহায়তামূলক কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে। 

ইতালির সাথে ১৫ জুনের মধ্যে ১১ টি দেশের সীমান্ত সম্পূর্ণভাবে খুলেছে। ১৬ জুন থেকে প্রতিবেশি দেশ অস্ট্রিয়াসহ ১২টি দেশ এবং ২১ জুন স্পেন সরকার ইতালির সাথে সীমান্ত খুলেছে। এসব দেশের মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, ক্রোয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, গ্রীস, স্লোভেনিয়া, পর্তুগাল এবং স্পেন। এছাড়া ১১টি দেশে ইতালির নাগরিকরা ভ্রমণ করতে পারবে, তবে সেখানে ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্ত দেয়া হয়েছে। এ দেশগুলো হচ্ছে- বুলগেরিয়া, এস্তোনিয়া, তুর্কি, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্মেমবার্গ, মন্তেনেগ্রো, নেদারল্যান্ড, রোমানিয়া, সার্বিায়া এবং স্লোভাকিয়া। এ মুহূর্তে সীমান্ত সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে ডেনমার্ক, রাশিয়া, সাইপ্রাস এবং বসনিয়া হার্জেগোবিনার সাথে। এছাড়া আগামী ১ জুলাই মালটা এবং ২০ জুলাই নরওয়ের সাথে ইতালির সীমান্ত খুলে দেয়া হবে। তবে এখনও ইউরোপীয় দেশের পর্যটক দেখা যাচ্ছে না ইতালিতে। আশা করা হচ্ছে, আগামী জুলাই থেকে ইউরোপীয় দেশগুলোর পর্যটকরা ভিড় করবেন পশ্চিম ইউরোপের অন্যতম নৈসর্গিক রোমান সভ্যতার দেশ ইতালি। 

ইতোমধ্যে ইতালীর অভ্যন্তরীণ ২৫টি বিমানবন্দর খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া রোম ও মিলানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইতালির পর্যটন শিল্প। ইতালির একাধিক জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট বলছে, দেশটি চলতি বছরে ৩১ মিলিয়ন পর্যটক হারাবে। যেটি ইতালির মোট পর্যটকের ৪৯ শতাংশ। এতে বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে দেশটি। যেটি কাটিয়ে উঠতে প্রায় ৪ বছর প্রয়োজন হবে। একইসাথে ইতালির বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার চলতি অর্থবছরে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ হ্রাস পাবে বলে জানিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (ইসতাত)। 

অর্থনৈতিক এ মন্দা কাটিয়ে উঠতে দু’বছর সময় প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। এর ফলে দেশটিতে বসবাসরত প্রায় দু’লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী অর্থনৈতিক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশটির প্রথম প্রান্তিকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ জিডিপি হ্রাস পেয়েছে। যেটি বছরে শেষে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে বলে আশংকা করা হয়েছে। আগামী ২০২১ অর্থবছরে দেশটির অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ঘাটতি কিছুটা পুনরুদ্ধার হবে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘুরে দাঁড়াতে আরও এক বছর অপেক্ষা করতে হবে। একইসাথে ইতালিতে বেকারত্বের হার আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×