ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

লন্ডনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আনন্দধারা আর্টসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

লন্ডনে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আনন্দধারা আর্টসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
×

ছবি-সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক 

প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ | ১৪:৪৪

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে লন্ডনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন আনন্দধারা আর্টস এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। 

গত ২৯ মার্চ লন্ডনের রমফোর্ডের মেফেয়ার ভেন্যুতে আয়োজিত এবারের অনুষ্ঠান ছিল ব্যতিক্রমধর্মী। ‘অশ্রুত একাত্তর’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সময় রচিত বিদেশি শিল্পীদের গান ও সৃষ্টিকর্ম উপস্থাপন করা হয়। 

এ কনসার্টে যাদের গান পরিবেশিত হয় তাদের মধ্যে ছিলেন জোয়ান বায়েজ, জর্জ হ্যারিসন, রবি শঙ্কর, দেবব্রত বিশ্বাস, সলিল চৌধুরী, আর. ডি. বর্মণ, ভূপেন হাজারিকা, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অ্যালেন গিনসবার্গ, বব ডিলান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল গানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইতিহাস, তথ্য ও প্রাসঙ্গিক কথনের উপস্থাপনা, যা দর্শক-শ্রোতাদের মধ্যে গভীর আগ্রহ ও আবেগ সৃষ্টি করে। স্বনামধন্য কথাসাহিত্যিক অধ্যাপক শাহাদুজ্জামানের পরিকল্পনা, গ্রন্থনা ও উপস্থাপনা এবং আনন্দধারা আর্টসের পরিচালক, সংগীতশিল্পী ডা. ইমতিয়াজ আহমেদের সংগীত পরিচালনায় অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে অনন্য।

নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের দুটি গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “আজকের এই আয়োজনে আমরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল মুক্তিসংগ্রামী, বীর যোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিশ্বের নানা প্রান্তের শিল্পী, লেখক, কবি ও সাধারণ মানুষ—যারা সেই সময় আমাদের সাহস, শক্তি ও সহায়তা জুগিয়েছেন—তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।”

মূল অনুষ্ঠানের শুরুতে অধ্যাপক শাহাদুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস মূল্যায়নে বিভ্রান্তির এই ক্রান্তিকালে মুক্তিযুদ্ধকে ভিন্ন আলোকে ও নানান মাত্রায় উপস্থাপন করা আমাদের সকলের কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে এসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আরও বেশি করে মানুষের সামনে তুলে ধরা জরুরি। বিশেষ করে গ্রামেগঞ্জে জানা-অজানা মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রামের নানান মাত্রার বৈচিত্র্যময় ইতিহাস তুলে আনা অত্যন্ত প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আনন্দধারা আর্টসের শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার পাশাপাশি একক সংগীত পরিবেশন করেন উর্বি মধুরা, পূর্বা অধরা, আর্থিকা সাহা, ঈশিতা সাহা, কাজল সরকার ও ইমতিয়াজ আহমেদ। এছাড়া অমিত দে’র পরিবেশনায় আর. ডি. বর্মণের গানের সঙ্গে আবৃত্তি করেন সমর সাহা।

অনুষ্ঠানে আনন্দধারা আর্টসের শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার পাশাপাশি একক সংগীত পরিবেশন করেন উর্বি মধুরা, পূর্বা অধরা, আর্থিকা সাহা, ঈশিতা সাহা, কাজল সরকার ও ইমতিয়াজ আহমেদ। এছাড়া অমিত দে’র পরিবেশনায় আর. ডি. বর্মণের গানের সঙ্গে আবৃত্তি করেন সমর সাহা।

অনুষ্ঠানটির ভিজ্যুয়াল পরিচালনায় অধ্যাপক শাহাদুজ্জামানের নির্দেশনায় গ্রাফিক্স প্রোমো নির্মাণ, এলইডি ওয়ালের জন্য সৃজনশীল উপস্থাপনা, সংশ্লিষ্ট ছবি ও ভিডিও নির্মাণ এবং কারিগরি পরিচালনায় ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মিডিয়া ব্যক্তিত্ব জয়দ্বীপ রায়। শব্দ প্রকৌশলে ছিলেন আরাফাত কীর্তি এবং মঞ্চসজ্জা ও এলইডি পরিচালনায় ছিলেন আব্দুস সামাদের নেতৃত্বে তাঁর দল।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলরবৃন্দ, বিভিন্ন সংগঠনের সংগীতশিল্পী, বাচিকশিল্পী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা।

আরও পড়ুন

×