রাজশাহীতে একটি হত্যা মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ ঘিরে বিতর্ক
রাজশাহী সিটি প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৫ | ২২:২৪
রাজশাহীর চারঘাটে ২০০৯ সালের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় হওয়া মামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, পারিবারিক জমি নিয়ে বিরোধে ওই হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। কিন্তু গত ৩০ জুন রাজনৈতিক বিবেচনায় মামলাটি প্রত্যাহারে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করে আসামিপক্ষ। এতে ‘জোর সুপারিশ’ লিখে সই করেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী-৬ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী আবু সাঈদ চাঁদ।
২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর চারঘাট থানায় মামলাটি করেছিলেন উপজেলার রায়পুর গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জু আহমেদ। এজাহারে বলা হয়েছিল, ৬ অক্টোবর মোটরসাইকেলে করে বাজারে যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা করে। এতে রঞ্জুর ভাই মন্টু আহমেদ নিহত হন। আহত হন বাবা শামসুল হকসহ কয়েকজন।
২১ জনের বিরুদ্ধে রঞ্জু পরদিন হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। সেটি রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩-এ বিচারাধীন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত যুক্তিতর্কের জন্য ১৪ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন। তবে ইতোমধ্যে মামলার ১ নম্বর আসামি জুমারত আলী, ৪ নম্বর আসামি হোসেন আলী ও ৭ নম্বর আসামি আলম মারা গেছেন।
বাদী রঞ্জু আহমেদ বলেন, ‘আসামি ইমদাদুল হকের বাবা জুমারত আলী আমার দাদা রহমত আলীর দুই বিঘা চার কাঠা জমি দখলে রেখেছেন। এ নিয়ে দুই পরিবারের বিরোধ। ঘটনার দিন তারা আমার ওপর হামলা করেন। এরপর তারা আমার বাবা ও ভাইয়ের মাথায় কোপ দেন। এতে ভাই মারা যান। আহত বাবা পক্ষাঘাত হয়ে বিছানায় পড়ে থেকে মারা যান। এ মামলার কোনো পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাব বা দলীয় সংঘর্ষের বিষয় নেই।’
এলাকাবাসী জানান, মামলাটির বাদীপক্ষ বা আসামি পক্ষের কেউই রাজনৈতিক দলের নেতা নন। আসামি ইমদাদুল হক একটি কলেজের পিয়ন হিসেবে কর্মরত। আর বাদী রঞ্জু পেশায় কলা ব্যবসায়ী। তিনি নিজেকে বিএনপি হিসেবে দাবি করেন। যদিও কোনো পদে নেই বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহী সিটি প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিহত মন্টু আহমেদের পরিবার। সেখানে তারা আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ৩০ জুন আসামিরা মামলাটিকে ‘রাজনৈতিক’ উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ওই আবেদনে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ সই করে লিখেছেন ‘জোর সুপারিশ করছি’।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, তিনি মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এই সুপারিশ দিয়েছেন।
রঞ্জু আহমেদের ভাষ্য, তাকে ৫০ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলাটি আপসের প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় পরিবার নিয়ে আতঙ্কে আছেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন।
২ নম্বর আসামি ইমদাদুল হক ওরফে আবু তালেব বলেন, ‘আমরা বিএনপি করি বলেই মামলায় আসামি করা হয়েছিল। এখন চাঁদ চেয়ারম্যান আমাদের পক্ষ থেকে সুপারিশ করেছেন।’
আবু সাঈদ চাঁদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই। এটা পারিবারিক না রাজনৈতিক মামলা, সেটা এলাকায় গিয়ে খোঁজ নেন।’
এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলী ঈশা রাজশাহী নগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক। তিনি শুরু থেকেই বাদীপক্ষের হয়ে মামলাটি পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। এখন শুনছি, আবু সাঈদ চাঁদ এটাকে রাজনৈতিক মামলা বলে প্রত্যাহারের দাবি করেছেন। জানতে পেরে আমিও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত পাঠিয়ে বলেছি, এটা কোনো রাজনৈতিক মামলা নয়।’
- বিষয় :
- রাজশাহী
- হত্যা মামলা
- রাজনৈতিক মামলা
