ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

গাছ লাগিয়ে মামলায় জড়ালেন ‘বৃক্ষপ্রেমী’ লুৎফর

আসামি করা হয়েছে কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকেও

গাছ লাগিয়ে মামলায় জড়ালেন ‘বৃক্ষপ্রেমী’ লুৎফর
×

উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ২০টি আমগাছের চারা মাঠের চারপাশে রোপণ করেন লুৎফর রহমান। সেই গাছের ছায়ায় বসে দর্শকরা খেলা উপভোগ করেন। ছবি: সমকাল

হাকিমপুর (দিনাজপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ২৩:৫২

দিনাজপুরের বিরামপুরে দীর্ঘদিন নিজ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করে ‘বৃক্ষপ্রেমী’ হিসেবে পরিচিত লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে বন বিভাগের করা একটি মামলাকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের জায়গায় গাছ লাগানোর জেরে সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তা তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গাছ কেটে ধান রোপণের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় লুৎফর রহমানের পাশাপাশি তাঁর কলেজপড়ুয়া দুই ছেলেকেও আসামি করা হয়েছে।

সরেজমিন দক্ষিণ শাহাবাজপুর মৌজার ৫৬৬২ নম্বর দাগে গিয়ে দেখা যায়, মামলায় যে স্থানকে গাছ কেটে ধান রোপণের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে স্থানীয়দের ফুটবল টুর্নামেন্ট চলছে। এলাকাবাসীর দাবি, তিন দশকেরও বেশি সময় এটি গ্রামের খেলার মাঠ। সেখানে কখনও বন বিভাগের গাছ ছিল না। দুই বছর আগে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পাওয়া ২০টি আমগাছের চারা মাঠের চারপাশে রোপণ করেন লুৎফর রহমান। এখন সেই গাছের ছায়ায় বসেই দর্শকরা খেলা উপভোগ করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শাহাবাজপুর গ্রামের ট্রাকচালক লুৎফর রহমান অবসর সময়ে নিজ অর্থায়নে সড়ক, খোলা জায়গা ও সরকারি স্থানে বৃক্ষরোপণ করে আসছেন। গত এক দশকে তিনি পাঁচ হাজারের বেশি ফলজ ও বনজ গাছ লাগিয়েছেন।

লুৎফর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কৃষি অফিস থেকে পাওয়া আমগাছের চারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শে ফুটবল মাঠের পাশে লাগান। তিন মাস পর প্রয়াগপুর বিট কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান তাঁকে অফিসে ডেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় বদলির আগে তাঁর বিরুদ্ধে গাছ কেটে ২০ শতাংশ জমিতে ধান রোপণের অভিযোগে মামলা করেন।

তিনি বলেন, ‘যেখানে ধান লাগানোর অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি আশপাশের জমির চেয়ে প্রায় তিন ফুট উঁচু। সেখানে ধান চাষ সম্ভব নয়। আমি সরকারি জায়গায় সরকারি গাছ লাগিয়েছি, অথচ আমাকে ও আমার দুই ছেলেকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।’

ফুটবল টুর্নামেন্টের রেফারি বকুল হোসেন বলেন, ‘আমাদের পূর্বপুরুষের সময় থেকে এখানে খেলা হয়। বন বিভাগের কোনো গাছ ছিল না। লুৎফর রহমানই মাঠের পাশে আমগাছ লাগিয়েছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাকিম বলেন, ‘লুৎফর রহমান গাছ কাটবেন– এটা বিশ্বাস করার সুযোগ নেই। বরং তিনি সবসময় গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসেন।’

খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিত্ত রঞ্জন শাহা বলেন, ‘ফুটবল মাঠের পাশে গাছ লাগানোর আগে লুৎফর রহমান আমার পরামর্শ নিয়েছিলেন। পরে জানতে পারি তাঁর বিরুদ্ধে গাছ চুরির মামলা হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে প্রয়াগপুর বিটের সাবেক কর্মকর্তা মাহমুদার রহমান বলেন, ‘বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতেই এ বিষয়ে কথা হবে।’ এরপর তিনি ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

বিরামপুর বন বিভাগের চরকাই রেঞ্জ কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি চার মাস আগে এখানে যোগদান করেছি। আগের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানি না। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই আদালতেই এর নিষ্পত্তি হবে।’

আরও পড়ুন

×