বৃষ্টি-বন্যায় সবজির সংকট দ্বিগুণ-তিন গুণ দাম
সাদুল্লাপুরে ধাপেরহাট ইউনিয়নের হিঙ্গারপাড়া গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত সবজি বাগান। ছবি: সমকাল
সাদুল্লাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১০:২৫
বৃষ্টি ও বন্যায় সাদুল্লাপুরে সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট। গত ১০ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ বেড়েছে। আমদানি কমে যাওয়ায় অনেক খুচরা ব্যবসায়ীর ব্যবসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। কেউ কেউ বিকল্প পণ্য বিক্রি শুরু করেছেন।
দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে সাদুল্লাপুর বাজারে সবজি বিক্রি করা রাখু মিয়া দুই দিন ধরে আম বিক্রি করছেন। তিনি বলেন, আড়তে সবজি নেই, বাধ্য হয়ে ব্যবসা পরিবর্তন করতে হয়েছে। শুধু রাখু মিয়াই নন, সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় একই সংকটে পড়েছেন আরও অনেক ব্যবসায়ী।
সাদুল্লাপুর বাজারের আড়তদার বোরহান খান শামিম জানান, ১০ দিন আগেও প্রতিদিন তাঁর আড়ত থেকে শতাধিক মণ সবজি বিক্রি হতো। এখন ১০ মণ সবজিও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আড়তসংশ্লিষ্ট প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক দিনে প্রায় ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বন্যার পানিতে উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং স্থানীয় নলেয়া ও ঘাঘট নদীর পানি বেড়েছে। এতে ২৩ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ক্ষেতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে চাহিদামতো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত পানি নেমে গেলে ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
গতকাল রোববার বাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০ দিনের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম ব্যাপক বেড়েছে। ১৫ টাকা কেজির বেগুন এখন ৭০ টাকা, ১৫ টাকার পটোল ৪০ টাকা, ৩০ টাকার শসা ১৬০ টাকা, ৩০ টাকার করলা ৯০ টাকা, ২০ টাকার কাকরোল ৬০ টাকা, ১৫ টাকার ঢ্যাঁড়শ ৬০ টাকা, ২০ টাকার মুলা ৫০ টাকা, ১৫ টাকার কদু ৪০ টাকা, ২৫ টাকার বইকচু ৭০ টাকা এবং ৭০ টাকার কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। পাশাপাশি আলু, পেঁয়াজ, রসুনসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও বেড়েছে।
ক্রেতা গৌর চন্দ্র সরকার বলেন, সবজির দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। বন্যার কারণে কাজ না থাকায় অনেক পরিবার তরকারি ছাড়াই ভাত খেতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম মিয়া বলেন, সবজির সরবরাহ কম এবং দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতার সংখ্যাও কমে গেছে।
উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত থেকে এখন কোনো উৎপাদন হচ্ছে না। তাই বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বেড়েছে। পানি নেমে গেলে কৃষকদের নতুন করে সবজি চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এখনও সরকারি সহায়তা পাওয়া যায়নি। তবে ক্ষতিপূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।
- বিষয় :
- গাইবান্ধা