কালভার্ট-ড্রেন বন্ধ করে স্থাপনা পানিবন্দি ৫০০ পরিবার
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কবলে একটি গ্রাম। ছবি: সমকাল
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১০:৩৩
বর্ষা এলেই রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের আটটি গ্রামের মানুষের কাছে শুরু হয় দুর্ভোগের মৌসুম। টানা দুই দশক ধরে জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি হয়ে পড়ছে অন্তত ৫০০ পরিবার। দুর্ভোগে পড়ছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ, বসতভিটা ও ফসলি জমি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত কালভার্ট ও পাইপলাইনের মুখ দখল করে বসতবাড়ি ও দোকান নির্মাণ করায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বছরের পর বছর একই ভোগান্তি চললেও সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা যায়, পাঁচগাছি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরাবাদ, সিট জাহাঙ্গীরাবাদ, পাঁচগাছি, বিরাহিমপুর, মোজাফ্ফরপুর, আমোদপুর, সাহাপুর, নাইয়ার বাজার, একতাবাজার ও নাসিরাবাদ এলাকার বিস্তীর্ণ জনপদ জলাবদ্ধতার কবলে রয়েছে। একতাবাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, একতাবাজার নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আলহেরা কিন্ডারগার্টেনসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে হাঁটুপানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জাহাঙ্গীরাবাদ-একতাবাজার, একতাবাজার-ছান্দিয়াপুর এবং একতাবাজার-পদ্দহার সড়ক নির্মাণের সময় ভেলামারি ও বামনীর বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তিনটি কালভার্ট ও একটি পাইপলাইন রাখা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব কালভার্ট ও পাইপলাইনের মুখে বসতবাড়ি ও দোকান নির্মাণ হওয়ায় পানি চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বর্ষা মৌসুমে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ছবিজল মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যায়। ছোট শিশুদের স্কুলে পাঠানো যায় না। দীর্ঘদিন কষ্ট করলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।’ মেহেদী হাসান বলেন, ‘জলাবদ্ধতার কারণে কৃষিজমিতে আমনসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা যায় না।’ পাঁচগাছি গ্রামের কৃষক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, ‘অনেক কর্মকর্তা এলাকা পরিদর্শন করেছেন। আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহম্মেদ বলেন, জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত প্রায় ১ হাজার ২০০ একর জমিতে প্রতি মৌসুমে প্রায় ৮ কোটি টাকার ধান উৎপাদনের সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষকরা ধারাবাহিকভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
জাহাঙ্গীরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ২০ বছর ধরে এ সমস্যা চলছে। প্রতিটি নির্বাচনের আগে সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
ইউপি সদস্য সাদা মিয়া বলেন, স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল পুনর্খনন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ব্যক্তিমালিকানার জমি হলেও যদি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। প্রকৌশল অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের কারিগরি দল সরেজমিন পরিদর্শন করে পরিকল্পনা গ্রহণ করলে টেকসই সমাধান সম্ভব। রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা আছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী উদ্যোগ নেওয়া হবে।
- বিষয় :
- রংপুর