সচেতনতা
শরৎ এসেছে মনের আকাশে...
লকলকে সবুজ কাশ জানান দিচ্ছে, এসে গেছে শরতের দিন... ছবি : সাদিক খান
ইয়াসিন মাসুম
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৩৫ | আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৫ | ১৬:২৫
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অটাম ও ফল সেমিস্টারের দাপটে তরুণরা ভুলে যেতে বসেছে শরৎ–এমন ধারণা বড়দের। যারা নজরুলের যৌবনের গানে বেড়ে উঠেছেন, তাদের বিশ্বাস নেই এই টলটলে ধারণায়। শুধু বাংলাদেশ নয়; পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তের যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর কাছে শরৎটা উপভোগ্য। উত্তর গোলার্ধে আগস্ট-সেপ্টেম্বরে আর দক্ষিণে মার্চে আসে শরৎ। আমরা পড়েছি উত্তরে। ফলে শরৎ যে তার দাপট দেখাতে শুরু করেছে, তা প্রকৃতিতে চোখ রাখলেই বুঝতে পারি। ভাদ্র এসেই তাড়িয়ে দিয়েছে বর্ষা রানীকে। আকাশকে সাজিয়েছে নতুন করে। ঝকঝকে কাচের মতো স্বচ্ছ নীল আকাশ আর তার মধ্যে পেঁজা তুলার মতো সাদা মেঘমালা ছড়িয়ে শরৎ ঢুকে পড়েছে ফেসবুক ওয়ালে। যারা প্রকৃতিবাজ, যারা প্রকৃতির ডাক শোনে তারা ঋতু পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে থাকে। একটা ঋতুকে গুডবাই জানানোর আগেই নতুন ঋতুকে বরণ করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। এমন দু’একটা পাগলা বন্ধু যদি ফেসবুকে থাকে তবে পিসি কিংবা সেলফোনেই ধরা যায় ঋতুর রং! জীবনানন্দ দাশ এই শরৎকে ভাবনায় নিয়ে ঘুরেছেন দিনের পর দিন। শরতের রূপে পাগল হয়েছেন। কতটা? ঠিক যতটা পাগল হয়েছেন প্রিয়তমাকে দেখে। চোখ বন্ধ করেই প্রিয়তমার মুখের সঙ্গে শরৎকে পেতেন। দু’জনের চাল-চলন, পরিবর্তন একই! তাই শরতের চরিত্রের কাছে টেনে এনে দাঁড় করিয়েছেন প্রিয়তমাকে। ওদিকে কাজী নজরুল ইসলামও শরতে উতলা হয়ে হারানো প্রিয়াকে বারবার অনুভব করেছেন। লিখেছেন–‘শিউলি ফুলের মালা দোলে শারদ-রাতের বুকে ওই/ এমন রাতে একলা জাগি সাথে জাগার সাথী কই...।’ শরৎ তার রূপ দিয়ে বিরহকে আক্রমণ করে! এটাই শরতের ক্ষমতা। আর আমরা শরতে মুগ্ধ হই, এটাও আমাদের ক্ষমতা বটে!
শরৎ আকাশের মেঘও যেন কাশফুল হয়ে যায়। যাদের বেড়ে ওঠা নদীতীরে, যাদের যোগাযোগ নদীর সঙ্গে, তারা ভালোই জানেন কাশফুলের ব্যাকরণ। এ যে শরতের বড় আকর্ষণ! নদীতীরে কাশফুলের রাজত্ব। বর্ষার উস্কানি পাওয়া কাশফুল শরৎ এলেই ডাগর হয়ে ওঠে! মেলে ধরে রূপ-যৌবন। এই কাশফুলেরও বেশ ক্ষমতা। একেবারে জোছনা রাতের মতো। কেউ জোছনার ডাক শোনে; কেউ সাগরের, কেউবা পাহাড়ের। নদীর বুকে বেড়ে ওঠেন যারা; তারা শরৎ এলে কাশফুলের আয় আয় ডাক শোনেন। শরতে নিজেকে ধরে রাখতে পারেন না ঘরে, শহরে। ছুটে যান কাশবনে। ছুটে যান নদীতীরে। গুগলে খুব দেখেছেন কাশফুল। এই শরতে নদীতীরের বন্ধুটির বুকে মনের স্টেথিস্কোপ রাখেন। কাশফুলের জন্য তার উথাল-পাতাল বুকের কল-কল কল-কল শব্দ শুনতে পাবেন। তারপর তার হাত ধরে ছুটে গিয়ে দাওয়াইটা নিতেই পারেন নদীতীর থেকে; কাশবন থেকে।
শরতের আগে, শ্রাবণের শেষদিক থেকেই আকাশের সঙ্গে বিলের সখ্য গড়ে ওঠে। ওরা হয়ে যায় একে অন্যের সখা। বিলজুড়ে নেমে আসে প্রশান্তির ছায়া। আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ ভেসে বেড়ায়। সেই নীলচে সাদা ভাব বিলের পানির ঘোলাটে ভাব কাটিয়ে দেয়। কমতে থাকে পানির ঢেউ। ছোট বাতাসে কেঁপে ওঠে বিলের স্বচ্ছ পানি। মনে হয়, চিকন হেউলি পাতার নকশি হোগলা! এই সময়টায় বিলের রূপ বেড়ে যায়। আমাদের বিলের অভাব নেই। পর্যাপ্ত আছে হাওর। একটু সময় করে দে-ছুট! মেঘ-বিলের আয়নাবাজির সময়টাই হচ্ছে শরৎ। এই সময়টায় মেঘ পানি একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। শহরের কাছে শরতের আবদার খাটে না। শরতের আবদার নিয়ে ছুটুুন গ্রামে, মাটির কাছে; এখনই সময়! u
- বিষয় :
- শরৎকাল