ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সচেতনতা

আইকিউ বাড়িয়ে কাজের গতি আনা যায়?

আইকিউ বাড়িয়ে কাজের গতি আনা যায়?
×

একঘেয়েমি দূর করতে মস্তিষ্ককে কাজ দিন ছবি : সাহস

শাকিলা ইসরাত

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রায়ই একঘেয়েমি ভর করে আমাদের ভেতর। তখন মস্তিষ্কও যেন কাজ করতে চায় না। ফলে সিদ্ধান্তহীনতা কিংবা আলসে হয়ে পড়ে থাকতে হয়। বলি, নির্দিষ্ট কিছু টেকনিক অবলম্বন করলে মস্তিষ্ককে সচল করা যায়। বাড়ানো যায় আইকিউ। কীভাবে? চলুন, সে পথে হাঁটি–
একটু ঘুরিয়ে: আপনার দৈনন্দিন কোনো একটি কাজ নিয়মের ছক ভেঙে একটু অন্যভাবে করতে পারেন। ধরুন, সকালে উঠে আপনি ডান হাতে ব্রাশ করেন; হুট করে সে অভ্যাস বদলে বাম হাতে ব্রাশ করা শুরু করুন। তারপর দুই মিনিট পিছু হেঁটে পায়চারী করে নিতে পারেন। 
মেডিটেশন: মেডিটেশনের ফলে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বাড়ে। পাশাপাশি ধৈর্য, মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি সবই বাড়ে। মেডিটেশনের জন্য দিনে ৩০ মিনিটই যথেষ্ট। তবে টানা নয়, ১০ মিনিট করে তিনবার কিংবা ১৫ মিনিট করে দু’বার মেডিটেশন করতে পারেন। 
খাবার ও ব্যায়াম: খাবার রুটিন বদলে নিন। খাবার তালিকায় ফলমূল এবং শাকসবজি যোগ করুন। তেল, ঝাল ও অতিরিক্ত মসলা জাতীয় খাবার থেকে মন ঘুরিয়ে নিন। বিকেল বা সন্ধ্যার পর হালকা খাবার খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। খুব ঘটা করে জিমে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। লোহালক্কড় তোলার দরকার নেই। মাসলে মন দেওয়ারও দরকার নেই। দিনে ৩০-৪০ মিনিট হালকা অ্যারোবিক্স করলেই চলবে। 
সময়মতো ঘুম: নিজস্ব  বায়োলজিক্যাল ব্লক অনুযায়ী নিজের রুটিন ঠিক করে নিন। মস্তিষ্ক যখনই বিশ্রাম চাইবে তখনই তাকে বিশ্রাম দিন। প্রতিদিন কমপক্ষে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটান।
পড়ার অভ্যাস: বেশি বেশি পড়তে পারেন। এতে আইকিউ বেড়ে যাবে। পাঠ্যবই ছাড়াও বিজ্ঞান, ফিজিক্স কিংবা গণিতে মন দিতে পারেন। এতে মাথার যুক্তি এবং রিজনিং আয়ত্ত করার স্বাভাবিক ক্ষমতা বেড়ে যাবে। 
গেমস, পাজলস ও ধাঁধা সমাধান: ক্যান্ডি ক্রাশ বা এই ধরনের খেলা বাদ দিয়ে পাজল সলভ বা ওয়ার্ড গেম বেশি খেলতে পারেন। এতে মোবাইলের কাছাকাছি যেমন থাকা হবে, তেমনি মস্তিষ্কেরও শান দেওয়া হবে। ধাঁধা বা রিবল নিয়ে চর্চা করতে পারেন। নতুন কাউকে সামনে পেলে তাকে ধাঁধা জিজ্ঞেস করে ধাঁধায় ফেলে দিতে পারেন। 
হুট করে রুটিন বদল
যা করছেন নিয়মিত, হুট করে তা বদলে ফেলতে পারেন। যেমন, প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে কোনো নামি রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পথে মন ঘুরিয়ে অচেনা কোনো রেস্টুরেন্টে চলে যেতে পারেন। চেনা খাবার বাদ দিয়ে নতুন কোনো খাবারের অর্ডারও দিতে পারেন। নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়। 
নতুন কিছু শেখা
এটি খুবই ভালো একটি অভ্যাস। নতুন যে কোনো কিছুতে মন দিতে পারেন। হতে পারে ড্রাইভিং, সুইমিং, জগিং কিংবা রান্নাও শিখতে পারেন। নতুন কিছু শেখা এবং তা অভ্যাসে আনা গেলে বুদ্ধিভিত্তিক একটা বিকাশ ঘটে। সবচেয়ে ভালো হয় কোনো নতুন ভাষা শিখে তা চর্চা করা। এভাবে নিজের মস্তিষ্ককে কাজ দিয়ে আইকিউ বাড়াতে পারেন। তো, নেমে পড়ুন কাজে। 

আরও পড়ুন

×