শিল্প প্রদর্শনী
বিদেশে বাংলাদেশের নান্দনিক মুখ
থাইল্যান্ডের ব্যাংককের ‘গ্লিমপ্স: কনটেম্পোরারি অ্যান্ড মডার্ন আর্ট অব বাংলাদেশ’ প্রদর্শনীতে শিল্পী কনকচাঁপা চাকমার চিত্রকর্ম -সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৮:০৭ | আপডেট: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৯:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশি শিল্প সম্পর্কে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে একরৈখিক ধারণা– দুর্ভোগের দেশ, পোশাকশিল্প কিংবা স্নিগ্ধ গ্রাম্যতার চিত্র ছিল– থাইল্যান্ডের ব্যাংককে চলমান শিল্প প্রদর্শনীটি তা ভেঙে দিচ্ছে। এখানে বাংলাদেশকে দেখা যাচ্ছে প্রাণবন্ত, পরীক্ষামূলক, বহুধাবিভক্ত শিল্পপরিমণ্ডল হিসেবে। শিল্পীরা তাদের অভিজ্ঞতা, সংকট ও স্বপ্নকে বহুমাধ্যমে রূপ দিচ্ছেন বিশ্বমানের নান্দনিকতায়।
দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে ব্যাংককে শুরু হয়েছে বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পের এ অনন্য প্রদর্শনী। ‘গ্লিমপ্স: কনটেম্পোরারি অ্যান্ড মডার্ন আর্ট অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাস ও গ্যালারি কায়া। নগরীর কেন্দ্রস্থলে ‘ব্যাংকক আর্ট অ্যান্ড কালচারাল সেন্টারে’ গত ২ ডিসেম্বর এর উদ্বোধন করেন থাইল্যান্ড সরকারের ডেপুটি পার্মানেন্ট কালচারাল সেক্রেটারি ইউথিকা ইসারাংকুরা। প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের ১২ জন নন্দিত শিল্পীর ৩৬টি নির্বাচিত শিল্পকর্ম।
প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শিল্পর্কমগুলোর মধ্যে ব্রোঞ্জে নির্মিত আইভি জামানের তিন ভাস্কর্যে ধরা পড়েছে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক টানাপোড়েন। সদ্য প্রয়াত হামিদুজ্জামান খানের আঁকা ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে বাংলার উন্মুক্ত প্রকৃতি। উত্তাল ঢেউ, সাম্পানের সংগ্রাম কিংবা হেমন্তের রং-গন্ধে ভরপুর দৃশ্যভাষা। রনজিৎ দাস মানুষের তিন গভীর অনুভূতি– কান্না, ভয় ও চিৎকার তুলিতে ফুটিয়ে তুলেছেন গভীর সংবেদনশীলতায়। আবার শেখ আফজাল হোসেনের কাজে নারীর ঘরে ফেরার আনন্দ ও দৈনন্দিন ভুবনের নানামুখী অভিব্যক্তি উঠে এসেছে নান্দনিকতায়।
সংস্কৃতি যখন সীমান্তকে অতিক্রম করে, তখনই সম্ভব হয় নতুন মানচিত্র রচনা। ব্যাংককের ‘গ্লিমপ্স’ প্রদর্শনী সেই নতুন মানচিত্রের প্রথম আঁচড়; যেখানে দুই দেশের শিল্পী, দর্শক ও ভাবনারা মিলিত হয়ে তৈরি করছে এক আন্তঃসীমান্ত সৃজনশীল ভবিষ্যৎ।

গ্যালারি কায়ার পরিচালক গৌতম চক্রবর্তী জানান, ভৌগোলিক সীমান্তের ধারণায় যখন পরিবর্তন আসছে এবং শিল্পর্কমের প্রতি চিন্তা পৃথিবীজুড়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে, তখন ব্যাংককের এ প্রদর্শনী কেবল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, এটি কূটনৈতিক কল্পনারও এক অভিনব উদাহরণ। দুই প্রতিবেশী সংস্কৃতি বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের ইতিহাস আলাদা হলেও স্মৃতি, নগরজীবন, উপকরণ ব্যবহার ও মানবিক কল্পনার অভিন্ন তাগিদে বিস্ময়করভাবে সংযুক্ত। প্রদর্শনী সেই সংযোগকেই দৃশ্যমান করে তোলে।
১২ জন শিল্পী– আবদুস শাকুর শাহ, আশরাফুল হাসান, চন্দ্রশেখর দে, হামিদুজ্জামান খান, আইভি জামান, কনকচাঁপা চাকমা, জামাল আহমেদ, মাকসুদা ইকবাল নিপা, মোহাম্মদ ইকবাল, রনজিৎ দাস, শম্ভু আচারিয়া ও শেখ আফজাল হোসেন– নানা রকম মাধ্যম, উপকরণ ও ধারণায় গড়ে তুলেছেন বাংলাদেশের সৃজনশীলতার বিস্তৃত মানচিত্র, যা এ প্রদর্শনীতে তাদের তুলির আঁচড়ে ফুটে উঠেছে। গত ২ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
- বিষয় :
- শিল্প প্রদর্শনী
