যা যা আছে বিশ্বের প্রথম কুরআনিক পার্কে
আল আমিন রনি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১৩:১৮ | আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ | ১৬:১০
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন এলাকা, জাতিগোষ্ঠী ও বৃক্ষের কাল্পনিক দৃশ্যে সাজানো বিশ্বের প্রথম কুরআনিক পার্কটি অবস্থিত সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে।
৬০ হাজার হেক্টর আয়তনের এ পার্কটিতে কোনো টিকিট ছাড়াই দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারবেন। কুরআনের অলৌকিক ঘটনাবলির আলোকে বিভিন্ন কর্ণার ও বাগানের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে দুবাইয়ের খাওয়ানেজ এলাকায় নির্মিত বিশ্বের প্রথম এ কুরআনিক পার্ক, যা ইসলাম ও পবিত্র কুরআন সম্পর্কে দর্শনার্থীদের আগ্রহী করে তুলবে।
কুরআনে উল্লেখিত ৫৪ টি গাছের সমন্বয়ে ১২ টি উদ্যান রয়েছে পার্কটিতে। পাশাপাশি জান্নাতের নহর বোঝাতে কৃত্রিম হ্রদ বানানো হয়েছে।
অলৌকিক চিহ্নসমূহের গুহা এবং কাচের ঘরের সমন্বয়ে এই পার্কে মোট ১২টি বাগান রয়েছে। এই বাগানগুলো কুরআনে বর্ণিত উদ্ভিদ দিয়ে সুসজ্জিত করা হয়েছে। এ জন্য এই পার্কের নাম আঙ্গুর, খোরমা, আঞ্জির (ডুমুর), যায়তুন, আনার (ডালিম), সিদর (মেহদী) এবং রেইহান (পুদিনা) রাখা হয়েছে। এসকল উদ্ভিদ এই পার্কে লাগানো হয়েছে।
এই পার্কটি পরিদর্শন এবং পার্কের বিভিন্ন স্থানের বিবরণ শুনতে ৯০ মিনিটেরও অধিক সময় লাগবে। দর্শনার্থীরা কুরআনিক পার্কের দুটি অংশ তথা অলৌকিক চিহ্নসমূহের গুহা এবং কাচের ঘর বিনামূল্যে পরিদর্শন করতে পারবেন।
আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে কুরআনে উল্লিখিত সাতটি অলৌকিক ঘটনা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে পার্কটিতে।
পবিত্র কুরআনে বর্ণিত উদ্ভিদসমূহ বিক্রয়ের জন্য এই পার্কে বিশেষ বাজার রয়েছে। আগ্রহী দর্শনার্থীগণ এসকল বাজার থেকে পবিত্র কুরআনের বর্ণিত উদ্ভিদসমূহ বা তার বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন।
আগত দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে কুরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াত ও ঘটনা লিখে দেয়া হয়েছ প্রতিটি নির্মাণের পাশে। আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে রয়েছে ডিজিটাল থিয়েটার। যেখানে কুরআনের বিভিন্ন ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ভিডিও দেখানো হয়।
কুরআনে বর্ণিত ঘটনার কোনো বর্ণনার চিত্রায়ন ও সাজসজ্জা বাদ যায়নি এ পার্কে। এ পার্কে রয়েছে মরুদ্যান, পাম বাগান, নয়নাভিরাম লেক, চলমান রাস্তা এবং সাইক্লিনিং ট্র্যাক ও হাঁটার রাস্তা। অন্যান্য পার্কের মতো বাচ্চাদের খেলাধুলার সুবিধাও রাখা হয়েছে পার্কটিতে। ওয়াইফাই এবং ফোন চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বসার জন্য রয়েছে সুন্দর ব্যবস্থা।
কুরআনিক পার্কটি বিভিন্ন সংস্কৃতি, ধর্ম ও জনগণের সঙ্গে বুদ্ধিভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের সেতু নির্মাণের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মের সাংস্কৃতিক অর্জন সম্পর্কেও মুসলমানদের আগ্রহী করে তুলবে।
- বিষয় :
- পার্ক
