সন্তানের বিকাশে বাবার সঙ্গ মায়ের মতোই গুরুত্বপূর্ণ
মডেল: আমির পারভেজ ও আহিল
রোজী আরেফিন
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:০৮ | আপডেট: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১১:১২
আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে সন্তানের লালন-পালনের দায়িত্ব প্রধানত মায়ের কাঁধেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাবা অনেক সময় কেবল সংসারের আর্থিক জোগানদাতা হিসেবেই বিবেচিত হয়েছেন। কিন্তু আধুনিক শিশু মনোবিজ্ঞান ও সামাজিক গবেষণায় দেখা গেছে, সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য বাবার উপস্থিতি মায়ের মতোই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা শুধু পরিবারের মাথা নন, তিনি সন্তানের নিরাপত্তা, আত্মবিশ্বাস ও মূল্যবোধ গঠনের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তাই একজন বাবার অংশগ্রহণ শিশুর বর্তমানকে সমৃদ্ধ করে, ভবিষ্যৎকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
মানসিক বিকাশে বাবার প্রভাব
শিশুর মানসিক বিকাশে বাবার উপস্থিতি একটি শক্তিশালী সহায়ক শক্তি। যখন বাবা সন্তানের সঙ্গে খেলা করেন, বই পড়েন বা শুধু পাশে বসে কথা বলেন, তখন শিশুর মধ্যে গভীর আবেগীয় স্থিতি তৈরি হয়। এটি শিশুকে আত্মবিশ্বাসী ও মানসিকভাবে স্থিতিশীল হতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কৈশোরকালে বাবার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় শিশুরা সহজেই বিভ্রান্ত বা হতাশ হতে পারে। একজন বাবা যখন সহানুভূতিশীল হয়ে সন্তানকে বোঝান এবং সঠিক দিকনির্দেশনা দেন, তখন শিশু নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থাকে। বাবার স্নেহ ও সঙ্গ সন্তানের জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিক শক্তি জোগায়।
শিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ
গবেষণায় বারবার প্রমাণিত হয়েছে, বাবা পড়াশোনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলে শিশু শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো ফলাফল করে। একজন বাবা যখন সন্তানের হোমওয়ার্কে সাহায্য করেন, প্রশ্ন করেন বা সমস্যার সমাধান শেখান, তখন শিশুর যুক্তিবোধ ও কল্পনাশক্তি বৃদ্ধি পায়। এ ছাড়া বাবার জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে পাওয়া বাস্তব শিক্ষা অনেক সময় পাঠ্যপুস্তকের বাইরের জ্ঞান হিসেবে সন্তানের চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করে। যেমন আর্থিক সঞ্চয়, সময় ব্যবস্থাপনা বা সমস্যার সমাধান–এসব বাস্তব দক্ষতা বাবার কাছ থেকেই সবচেয়ে ভালোভাবে শেখা যায়। এভাবে বাবা হয়ে ওঠেন সন্তানের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের এক অমূল্য পথপ্রদর্শক।
নৈতিকতা ও মূল্যবোধ শেখানো
শিশুর চরিত্র গঠনে বাবার প্রভাব সরাসরি ও গভীর। শিশুরা মা-বাবাকে অনুকরণ করে শেখে। বাবার সততা, দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য আর পরিশ্রমী মনোভাব অজান্তেই সন্তানের জীবনে প্রবেশ করে। প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, অন্যকে সম্মান করা কিংবা বিপদের সময় স্থির থাকা–এসব মূল্যবোধ বাবার প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজের ভেতর থেকেই শিশুরা আত্মস্থ করে। বাবার প্রতিটি আচরণ সন্তানের জন্য এক ধরনের নীরব শিক্ষা হয়ে থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ শিক্ষাগুলো সন্তানের চরিত্রকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করায়।
কন্যা ও পুত্র সন্তানের জীবনে আলাদা প্রভাব
বাবার ভূমিকা কন্যা ও পুত্র সন্তানের জীবনে ভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। কন্যাশিশুর আত্মসম্মান ও আত্মবিশ্বাস গঠনে বাবার স্নেহ ও শ্রদ্ধা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন মেয়ে যখন বাবার কাছ থেকে সম্মান পায়, তখন সে বড় হয়ে আত্মবিশ্বাসী হয় এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলে। অন্যদিকে, ছেলেশিশুর জন্য বাবা হয়ে ওঠেন দায়িত্বশীলতা, আত্মনির্ভরতা ও নেতৃত্ব গুণের জীবন্ত উদাহরণ। বাবাকে দেখে ছেলে শেখে কীভাবে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব নিতে হয়, কীভাবে সৎ ও দৃঢ়চেতা মানুষ হয়ে ওঠা যায়। ফলে বাবার উপস্থিতি ছেলে ও মেয়ের জীবনেই ভিন্ন ভিন্নভাবে শক্তি জোগায়।
সূত্র: উইলি ডটকম
