অন্দরসাজে কার্পেট
ভূঁইয়া শফি
প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
শীতের ঠান্ডা বাতাস থেকে বাঁচতে ঘরের সাজসজ্জায় চলে নানা পরিকল্পনা। বিশেষ করে ঘরদোর কীভাবে আরও আরামদায়ক ও উষ্ণ করে তোলা যায় তা থাকে ভাবনাতে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় ঘরে উষ্ণতার ছোঁয়া আর আভিজাত্যের পরশ বোলাতে কার্পেটের জুড়ি নেই। রংবেরঙের নকশার কার্পেট, মনকাড়া ফ্লোর ম্যাট বা ঐতিহ্যবাহী শতরঞ্জি কেবল ঘরের উষ্ণতাই বাড়ায় না, বরং এটি ঘরের অন্দরসজ্জায় যোগ করে এক নান্দনিক শিল্পময়তা।
ঘরের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার
সব ঘরে এক ধরনের ব্যবহার না করে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের কার্পেট ব্যবহার করতে পারেন। যেমন–
বেডরুম: বিছানার পাশে নরম আর পুরু ধরনের কার্পেট রাখুন। তাহলে ঘুম থেকে ওঠার পর ঠান্ডা মেঝেতে পা ফেলতে হবে না।
লিভিং রুম: সোফার সামনে একটু বড় ধরনের কার্পেট রাখলে ঘর আরামদায়ক দেখাবে।
শিশুর ঘরে: বাচ্চার ঘরে রঙিন আর একটু পুরু ধরনের কার্পেট থাকলে ভালো। তাহলে তারা সহজে সেখানে বসে খেলতে পারবে।
কার্পেটের রকমফের
বাজারে প্রধানত দুই ধরনের কার্পেট পাওয়া যায়–পিস কার্পেট ও ওয়াল টু ওয়াল কার্পেট। উপকরণ এবং নকশার ওপর ভিত্তি করে কার্পেটের প্রকারভেদ ভিন্ন হতে পারে।
উলের কার্পেট: প্রাকৃতিক উল থেকে তৈরি এ কার্পেটগুলো অত্যন্ত নরম, টেকসই এবং প্রাকৃতিক ফায়ার রেসিস্ট্যান্ট গুণাবলি সম্পন্ন। প্রাকৃতিক ফাইবারে তৈরি এসব কার্পেটের স্থায়িত্ব বেশি হওয়ায় অনেকেই এ ধরনের কার্পেট পছন্দ করেন।
সিন্থেটিক কার্পেট: নাইলন, পলিয়েস্টার এবং পলিপ্রোপাইলিনের মতো সিন্থেটিক ফাইবার দিয়ে তৈরি কার্পেটগুলো সাশ্রয়ী এবং বিভিন্ন রং ও নকশার হয়। নাইলন টেকসই, পলিয়েস্টার দাগ প্রতিরোধী এবং পলিপ্রোপাইলিন আর্দ্রতা প্রতিরোধী।
সিল্ক কার্পেট: অত্যন্ত মসৃণ এবং চকচকে সিল্ক কার্পেট বিলাসবহুল অনুভূতির জন্য পরিচিত। এগুলো সাধারণত উচ্চ মূল্যমানের হয় এবং বিশেষ স্থানগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়।
ফাইবার মিক্সড কার্পেট: উল ও সিন্থেটিক ফাইবারের মিশ্রণে তৈরি কার্পেটগুলো উভয় উপাদানের সেরা বৈশিষ্ট্যগুলোকে একত্র করে, যা তাদের সাশ্রয়ী এবং কার্যকরী করে তোলে।
প্রাকৃতিক ফাইবারের কার্পেট: পাট বা অন্য প্রাকৃতিক ফাইবার দিয়ে তৈরি কার্পেটগুলো নরম এবং পরিবেশবান্ধব হয়। ইনডোর-আউটডোর দুই জায়গাতেই এগুলো ব্যবহার করা যায়।
কার্পেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছু টিপস
একটি উপযুক্ত কার্পেট নির্বাচন করার সময় কিছু বিষয় বিবেচনা করা উচিত–
ঘরের ব্যবহার: কোন কক্ষে ব্যবহার করবেন তার ওপর কার্পেটের ধরন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বসার ঘর বা উচ্চ ট্রাফিক এলাকার জন্য টেকসই কার্পেট–যেমন নাইলন বা উলের কার্পেট বেছে নেওয়া উচিত। বেডরুমের জন্য নরম এবং আরামদায়ক সিল্ক বা উলের কার্পেট উপযুক্ত।
রং ও প্যাটার্ন: ঘরের দেয়ালের রং, আসবাব এবং সামগ্রিক থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ রং ও প্যাটার্ন নির্বাচন করা উচিত। ছোট কক্ষের জন্য হালকা রঙের কার্পেট স্থানকে বড় দেখাতে সাহায্য করে। বড় কক্ষের জন্য গাঢ় রং বা বড় প্যাটার্নের কার্পেট ব্যবহার করা যেতে পারে।
টেক্সচার: কার্পেটের টেক্সচার ঘরের অনুভূতিকে প্রভাবিত করে। শ্যাগ কার্পেট নরম এবং আরামদায়ক, যখন লুপ পাইল বা কাট পাইল কার্পেট আরও ফরমাল এবং টেকসই হয়।
আধুনিকতা
সাম্প্রতিক সময়ে কার্পেটের নকশায় কিছু নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি কার্পেট, হস্তনির্মিত কার্পেট এবং কাস্টমাইজড ডিজাইনের কার্পেটগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করছে। ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন কার্পেটের ওপর নানা ধরনের ডিজাইন করা সম্ভব হচ্ছে।
কার্পেটের যত্ন
সপ্তাহে অন্তত একবার ভ্যাকুয়াম দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করুন। তা না হলে ধুলা জমে বাড়ির সদস্যদের অ্যালার্জির প্রবণতা বাড়াবে। কার্পেটের কোথাও দাগ পড়লে দ্রুত পরিষ্কার করার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে মাঝেমধ্যে কার্পেট রোদে দিন। তাহলে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ দূর হবে।
কোথায় পাবেন, কেমন দাম
পল্টন, এলিফ্যান্ট রোড, নিউমার্কেট, ডিসিসি, বায়তুল মোকাররম, উত্তরা, গুলশানসহ ঢাকার ছোট-বড় সব মার্কেটে কার্পেট পাওয়া যায়। মান, আকৃতি এবং ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে সিনথেটিক কার্পেটের দাম ২ হাজার থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সিল্কের কার্পেটের দাম শুরু হয় সাড়ে ৫ হাজার টাকা থেকে।
- বিষয় :
- ঘর তৈরি
