ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পুরোনো ঘর হবে নতুন

পুরোনো ঘর হবে নতুন
×

একটু যত্ন আর সঠিক পরিকল্পনায় পুরোনো ঘর নতুন করে সাজানো যায়

রোজী আরেফিন   

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৬:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

নতুন বছর মানেই নতুন ভাবনা, নতুন ইচ্ছা, নতুন করে শুরু করার একটা সুযোগ। এই নতুন শুরু মানেই যে সবকিছু ফেলে দিয়ে নতুন জিনিস কিনতে হবে তা নয়। অনেক সময় আমাদের পুরোনো ঘরটাই একটু যত্ন আর সঠিক পরিকল্পনায় নতুন বছরের জন্য একেবারে নতুন অনুভূতি দিতে পারে। পরিচিত এ দেয়াল, জানালা, ফার্নিচার আর ঘরের কোনাগুলো নতুনভাবে দেখার মধ্যেই লুকিয়ে আছে আসল পরিবর্তন। পুরোনো ঘর সাজানোর সবচেয়ে কার্যকর এবং চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন আসে ঘর রং করার মাধ্যমে। দেয়ালের রং বদলালেই পুরো ঘরের মুড বদলে যায়। দীর্ঘদিন ব্যবহৃত গাঢ় বা বিবর্ণ রঙের বদলে অফ হোয়াইট, বেইজ, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল শেড ব্যবহার করলে ঘর উজ্জ্বল ও খোলামেলা লাগে। যাদের পুরো ঘর রং করার সুযোগ নেই, তারা চাইলে একটি দেয়ালে আলাদা রং ব্যবহার করে অ্যাকসেন্ট ওয়াল করতে পারেন। 

নতুন রং করা দেয়াল তখনই সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে, যখন তার সঙ্গে দেয়ালের সাজ মানানসই হয়। ফাঁকা দেয়ালে হালকা রঙের পেইন্টিং, নেচার থিমের ছবি, গ্রামবাংলার দৃশ্য বা মিনিমাল আর্ট ঝোলালে ঘরে প্রাণ আসে। খুব ভারী বা চকচকে ফ্রেম না নিয়ে কাঠের বা সিম্পল ফ্রেম ব্যবহার করলে দেয়াল পরিষ্কার দেখায় এবং ঘরের সামগ্রিক সাজের সঙ্গে মানিয়ে যায়। একটি দেয়ালে কয়েকটি ছোট ফ্রেম একসঙ্গে সাজিয়ে গ্যালারি স্টাইল করলে ঘর ব্যক্তিগত এবং আরও একান্ত মনে হয়। 

দেয়ালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শোপিস বাছাই করাটাও জরুরি। অনেক সময় বেশি শোপিস ঘরকে ভারী করে তোলে। তার বদলে অল্প কিছু, কিন্তু মানানসই ও রুচিশীল জিনিস রাখাই ভালো। কাঠ, সিরামিক বা টেরাকোটার তৈরি শোপিস নতুন রং করা দেয়ালের সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। শেলফ, জানালার পাশে বা সাইড টেবিলের ওপর রাখা ছোট শোপিস ঘরের সৌন্দর্য বাড়ায়, আবার জায়গাও নষ্ট করে না। 
পুরোনো ঘরে নতুন প্রাণ আনার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো সবুজের ছোঁয়া। ঘরের ভেতরে গাছ থাকলে পরিবেশ নিজে থেকেই বদলে যায়। মানিপ্লান্ট, স্নেক প্লান্ট, মানি ট্রি বা ছোট ফার্ন ঘরের ভেতরে সহজেই মানিয়ে যায়। এসব গাছ ম্যাক্রামের প্লান্ট হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখলে ঘরের জায়গা বাঁচে এবং ঘর দেখতে লাগে আরও নান্দনিক। রং করা দেয়ালের পটভূমিতে ঝুলন্ত গাছ ঘরে আলাদা একটা শান্ত ভাব এনে দেয়। 
পর্দা বদলালেই পুরোনো ঘরে নতুন অনুভূতি আসে। ভারী ও গাঢ় রঙের পর্দার বদলে হালকা রঙের কটন বা লিনেন পর্দা ব্যবহার করলে ঘরে আলো বেশি ঢোকে। এতে ঘর আরও বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। পাশাপাশি ম্যাক্রামের পর্দা বা ডেকোরেটিভ ম্যাক্রাম ব্যবহার করলে ঘরে আধুনিকতার ছোঁয়া আসে। পুরোনো ঘরেও তখন আলাদা একটা সুন্দর অ্যাস্থেটিক ভাব তৈরি হয়। এমন ইউনিক আইটেম ব্যবহার করলে অতিথিরাও সহজেই চমকে যান। 

এ ছাড়া মেঝের সাজেও পরিবর্তন আনা যায় সহজভাবে। সোফার সামনে, পড়ার জায়গায় বা বিছানার পাশে একটি জুটের রাগ পুরো ঘরের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। জুটের রাগ প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি হওয়ায় নতুন রং করা ঘরের সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে যায় এবং ঘরে উষ্ণতা আনে। 
ঘর সাজানোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হলো ফার্নিচার। কাঠের চেয়ার, টেবিল, আলমারি বা শেলফে নতুন করে রং করলে সেগুলো আবার নতুনের মতো দেখাবে। সাদা, অফ হোয়াইট, সেজ গ্রিন বা হালকা ধূসর রং পুরোনো ফার্নিচারে নতুনত্ব দেয় এবং ঘরের সামগ্রিক রঙের সঙ্গে সুন্দরভাবে মিশে যায়। 
মনে রাখবেন, ঘর নতুন করে সাজানো মানে শুধু নতুন নতুন বাহারি জিনিস যোগ করা নয়। বরং অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘরকে হালকা করা, আলো-বাতাস চলাচলের সুযোগ বাড়ানো এবং নিজের আরামের জায়গাটাকে নতুনভাবে অনুভব করা। কম কিন্তু প্রয়োজনীয় জিনিস, মানানসই রং, প্রাকৃতিক উপাদান আর নিজের পছন্দের কিছু পেইন্টিং ও ডেকোর মিলিয়েই পুরোনো ঘর নতুন বছরে হয়ে উঠতে পারে শান্ত, সুন্দর আর প্রাণভরা একটি জায়গা। 
পুরোনো ঘর সাজানোর কিছু টিপস 
lপুরো ঘর না রং করে একটি দেয়ালে অ্যাকসেন্ট কালার ব্যবহার করুন। 
lহালকা ও উষ্ণ রং ঘরকে বড় ও উজ্জ্বল দেখায়। 
lদেয়ালের রঙের সঙ্গে পর্দা, রাগ ও শোপিস মিলিয়ে নিন। 
lগাছ ও প্রাকৃতিক উপকরণ বেশি ব্যবহার করুন। 
lঅপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে ঘর পরিপাটি রাখুন। 
ছবি: রেহেনা পারভীন রুমা

আরও পড়ুন

×