ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

সিরামিকের বাসন কোসনের খোঁজে

সিরামিকের বাসন কোসনের খোঁজে
×

নিত্যদিনের ব্যবহারের জন্য সিরামিক পণ্যের কদর বেড়েছে

রিক্তা রিচি 

প্রকাশ: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

অতিথি আপ্যায়নে অনেক আগে থেকেই সিরামিকের প্লেট-বাটি ও পরিবেশন পাত্র ব্যবহার করা হচ্ছে। বিয়ে কিংবা বিয়েবার্ষিকীতে উপহার হিসেবেও সিরামিকের ডিনার সেট দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। এখন নিত্যদিন ব্যবহারের জন্যও অনেকে বেছে নিচ্ছেন সিরামিকের বাসনকোসন। বিশেষ করে প্লাস্টিক, মেলামাইন ও চাচের পণ্যের বদলে সিরামিকের তৈজস অধিকাংশের শোকেসে জায়গা করে নিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে স্ক্রল করলেও নানা বৈচিত্র্য, নানা প্যাটার্নের পরিবেশন পাত্র, ট্রে, প্লেট, টি পট ইত্যাদি চোখে পড়ে। বলা যায় অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালের তুলনায় সিরামিকের বাসনকোসনই এখন ট্রেন্ডে রয়েছে। একসময় দেখা যেত খুব নামিদামি ব্র্যান্ড ছাড়া অন্য কোথাও তেমন ভালো সিরামিকের ডিনার সেটের সংগ্রহ নেই। কেননা তখন সিরামিক অনেকের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে ছিল। গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন স্ট্রিটে ভ্যানে পাওয়া যাচ্ছে সিরামিকের বাহারি ধরনের পণ্য। ঢাকার নিউমার্কেট, চকবাজার, গাজীপুর, টঙ্গী তো বটেই খিলগাঁও, উত্তরা, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, মহানগর, রামপুরার বিভিন্ন জায়গায় সিরামিকের পণ্য ভ্যানে কেনাবেচা হয়। ঢাকার পশ্চিম রামপুরার মহানগর প্রজেক্টে ভ্যানে সিরামিকের প্লেট, বাটি, ট্রে, সার্ভিং ডিশ, টি পট, ছোট-বড় মগ ইত্যাদি পাওয়া যায়। দামও হাতের নাগালে। মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের ইভা সুপারশপ থেকে মাজা রেস্টুরেন্টের গলিতে বেশ কয়েকটি ভ্যানে পাওয়া যায় সিরামিকের প্লেট, বাটি, মগ, কাপ-পিরিচ, চামচ, চায়ের পাত্র। ত্রিকোণাকৃতি, চারকোণাকৃতি, সমান্তরাল, পাতা নকশা, মাছের নকশাসহ বিভিন্ন প্যাটার্নের পণ্য চোখে পড়ে। কৃষি মার্কেটের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিরামিকের পণ্যগুলো তারা কেনেন শেরেবাংলা সিরামিক মার্কেট, গাজীপুরের টঙ্গী থেকে। সেগুলো পাইকারি দামে কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন। বাইরে থেকে আমদানি করে এমন প্রতিষ্ঠান থেকেও ক্রোকারিজ কেনেন কেউ কেউ। 
সিরামিকের তৈজসের বেচাবিক্রি নিয়ে খেই হারায়নি ব্র্যান্ডগুলো। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড ঘুরে দেখা যায় মুন্নু, শাইনপুকুর, পোর্সেলিনা, আরএনটি সিরামিকের তৈজসও  চলছে সমানতালে। এ গ্রেডের পোর্সেলিনা সিরামিকের পণ্য তৈরি করে বাসনওয়ালা। এ ব্র্যান্ডের ব্র্যান্ড অ্যান্ড মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ সোমনাথ দে বলেন, ‘আমাদের উন্নতমানের পোর্সেলিন সিরামিকের পণ্যে দীর্ঘস্থায়িত্ব, মসৃণ ফিনিশ ও উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। তাই সলিড কালারের পণ্য বাজারে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে।’  
একসময় সিরামিককে অনেকেই ক্রয়ক্ষমতার বাইরে মনে করলেও বর্তমানে দাম তুলনামূলক হাতের নাগালে আসায় আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করেন সোমনাথ। তিনি জানান, আগে সিরামিক মূলত সেট আকারে কিনতে হতো কিন্তু বাসনওয়ালা থেকে আলাদাভাবে কেনা যায়। ক্রেতা চাইলে পুরো সেট না কিনেও একটি প্লেট বা একটি কাপ আলাদাভাবে কিনতে পারেন। এ কারণে বাসনওয়ালার ক্রেতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। 

থিমে রঙে নকশায়
রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির আড়ংয়ের বিক্রয় প্রতিনিধি তানভীর অপু জানান, সিরামিকের ডিনারসেট হয় বিভিন্ন থিমের ওপর। ফ্লোরাল, লেইস, জিগজ্যাগ, পাজেল, কাঁথাফুল, ম্যান্ডালা, জামদানি, আল্পনা, নকশিপাতা, ঝুমকোলতা, টিউলিপ, জবাফুল ইত্যাদি নানা নকশা ও মোটিভ শোভা পায় ডিনার সেটে। লেইস ডিজাইনের ডিনারসেটে রয়েছে রঙের বৈচিত্র্য। অলিভ, লাল, অ্যাপল গ্রিন রঙেরও ডিনারসেট বাজারে পাওয়া যায়। তিনি জানান, আড়ংয়ের সিরামিকের ডিনারসেট সাধারণত লোকাল সিরামিকের হয়ে থাকে। আবার চায়না বোন সিরামিকসেরও হয়ে থাকে। 
সিরামিকের বিভিন্ন পণ্য বিভিন্ন রঙের হয়ে থাকে। বিশেষ করে গাঢ় নীল, ফিরোজা, কালো, লাল, হলুদ, সবুজ, টিয়া সবুজ, সাদা, অফ হোয়াইট ইত্যাদি হয়ে থাকে। একরঙা পণ্যগুলোও পাচ্ছে আলাদা কদর। কিছু কিছু পণ্যে রয়েছে রেখার খেলা। আবার কিছুতে পাতা ও জিগজ্যাগের দেখা মেলে। মাকড়সা, কার্টুনের বিভিন্ন চরিত্র, বিভিন্ন ইমোজিও শোভা পাচ্ছে সিরামিকের প্লেট-মগের গায়ে।  

দরদাম
তানভীর অপু জানান, লোকাল সিরামিকের এক সেট ডিনারসেটের দাম ১২-১৫ হাজার থেকে ১৮-২০ হাজার টাকা হয়ে থাকে। চায়না বোন সিরামিকসের একটি কাপ-পিরিচের দাম ৭০০-৮০০ টাকা। একটি ডিনারসেটের দাম ৪-৫ হাজার টাকা হয়ে থাকে। বোন চায়না সিরামিকের ৫২ পিসের দাম ৭ থেকে ২০ হাজার টাকা। সিরামিক স্যুপ সেট ৮৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় কেনা যাবে। সিরামিকের টি পট কেনা যাবে ৫০০ থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে। বাসনওয়ালা থেকে সিরামিক পণ্য ৬০ টাকা থেকে কেনা যাবে। ৩২ পিসের একটি সিরামিক ডিনার সেট কেনা যাবে ছয় হাজার থেকে ৯ হাজার টাকার মধ্যে। টি পট, কাপ-প্লেট ও অন্যান্য সিরামিক পণ্যও বাজেটের মধ্যে রয়েছে। 
ভ্যান থেকে মাঝারি আকারের কফি মগ ১২০-১৫০ টাকা, বড় মগ ১৫০-৩০০,  মাঝারি আকারের বাটি ১০০ থেকে ৩৫০, বড় পরিবেশন পাত্র ৩৫০ থেকে ৮৫০ ও প্লেট ১৫০-৩০০ টাকায় কেনা যাবে। অবস্থান ও ভ্যানভেদে দামের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। 

আরও পড়ুন

×