ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

চমকে দিন প্রিয়জনকে...

চমকে দিন প্রিয়জনকে...
×

আসমাউল হুসনা

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফাল্গুনে শহরের অলিগলি রঙিন হয়ে ওঠে বসন্ত ও ভালোবাসার আবেশে। বিশেষ করে ফাল্গুনের প্রথম দিনটিই সবার জন্য বিশেষ। এদিন প্রিয় মানুষকে বিশেষভাবে অনুভব করানোর আকাঙ্ক্ষা অনেকের মনেই কাজ করে। কিন্তু দোকানের শোকেসে সাজানো দামি উপহারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে অনেকেই দ্বিধায় পড়েন কী দিলে সত্যিই ভালোবাসা প্রকাশ পাবে, কিংবা কত নান্দনিকভাবে প্রিয়জনকে চমকে দেওয়া যায়। 

বাস্তবে উপহার শুধু একটি বস্তু নয়, এটি অনুভূতির প্রতীক। দামের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তাকে খুশি করার কথা ভাবা। একইসঙ্গে আপনার যত্ন ও আন্তরিকতাও মুখ্য। যে উপহার প্রিয়জনের রুচি ও মনের কথা বুঝে বেছে নেওয়া হয়, সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে মূল্যবান। ভালোবাসা দিবস তাই বাহ্যিক চাকচিক্যের নয়, হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া ছোট ছোট অনুভূতির উদযাপন।
কী দেবেন প্রিয়জনকে? 

ফুল
ফুল চিরকালীন ভালোবাসার প্রতীক। ভালোবাসা দিবসে ফুলের আবেদন কখনও পুরোনো হয় না। বাতাসে যখন প্রেমের সুবাস ছড়িয়ে পড়ে, তখন হাতে একগুচ্ছ ফুলই যেন হয়ে ওঠে অনুভূতি প্রকাশের সবচেয়ে সহজ ও সুন্দর মাধ্যম। মুখে না বললেও ফুল বলে দেয় মনের কথা।
ভালোবাসা প্রকাশে লাল গোলাপ সবচেয়ে জনপ্রিয় হলেও প্রিয়জনের পছন্দ অনুযায়ী হলুদ, গোলাপি, সাদা গোলাপ, রজনীগন্ধা, কাঠগোলাপ, জারবেরা, অর্কিড বা টিউলিপ যে কোনো ফুলই হতে পারে সুন্দর উপহার। ফুলের সঙ্গে ছোট একটি নোট, তাতে যদি শুধু ভালোবাসি লেখা থাকে তবুও উপহারটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ।

হাতে তৈরি কার্ড
ডিজিটাল টেক্সট আর ইমোজির ভিড়ে হাতে তৈরি কার্ড, হাতে লেখা চিঠি যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ভালোবাসা দিবসে প্রিয়জনকে একটু বিশেষ অনুভব করাতে চাইলে হাতে বানানো একটি কার্ড, হাতে লেখা চিঠি হতে পারে সবচেয়ে আন্তরিক উপহার। কেননা কার্ডের রং, ভাঁজ আর লেখায় মিশে থাকে যত্ন ও আবেগ; যা কোনো প্রস্তুত কার্ডে খুঁজে পাওয়া যায় না। নিজের হাতের লেখা কয়েকটি লাইন, ছোট কোনো স্কেচ বা দুজনের স্মৃতির কোনো ইঙ্গিত এসবই কার্ডটিকে করে তোলে আলাদা। কার্ড বা চিঠিতে নিজের মনের না বলা কথাগুলো অনায়াসে লিখতে পারেন। এতে দামি কাগজ বা নিখুঁত ডিজাইন না থাকলেও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ থাকে। 

বই
ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে বই অনন্য। বইয়ের ভাঁজে মিশে থাকে শীতল অনুভূতি। কারও পছন্দ রোমান্টিক কবিতা, কারও পছন্দ থ্রিলার গল্প, কেউ ভালোবাসে উপন্যাস। প্রিয়জনের পছন্দ, রুচি ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী বই উপহার দিন।  

কাস্টমাইজড সামগ্রী
আজকাল উপহার মানেই আর শুধু বাজারের প্রি-মেইড জিনিস নয়। মানুষ চায় আলাদা কিছু, যেখানে থাকবে ব্যক্তিগত ছোঁয়া। প্রিয়জনের নাম খোদাই করা লকেট, চাবির রিং, মানিব্যাগ, ছবি প্রিন্টেড মগ, কাপল টি-শার্ট বা কাপল ঘড়ি এসব উপহার দিতে পারেন।  
সুগন্ধি মোমবাতি বা অ্যারোমা ক্যান্ডল
সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে যখন প্রিয়জন ঘরে ফেরে তখন ক্লান্ত মন আর ভারী শরীর একটু প্রশান্তির খোঁজে থাকে। ঠিক তখন যদি একটি সুগন্ধি মোমবাতি জ্বলে ওঠে, মুহূর্তেই পরিবেশ বদলে যায়। মৃদু সুবাস যেন দিনের সব ক্লান্তি ধুয়ে মুছে দিতে শুরু করে। এই ছোট্ট আয়োজন প্রিয়জনকে আরাম ও স্বস্তির অনুভূতি দেয়। ভালোবাসা দিবসে এমন একটি উপহার জানিয়ে দেয় ভালোবাসা মানে শুধু আনন্দ নয়, প্রিয় মানুষের বিশ্রাম ও শান্তির কথাও ভাবা। 

ঘরের সাজের বিভিন্ন সামগ্রী 
ভালোবাসা দিবসের উপহার হিসেবে ঘরের সাজের বিভিন্ন সামগ্রীও দিতে পারেন। বর্তমানে ঘর সাজানোর জন্য নানা ধরনের নান্দনিক সামগ্রী সহজেই পাওয়া যায়, যা ঘরের পরিবেশে আলাদা মাত্রা যোগ করে। যেমন ডেকোরেটিভ ট্রে, সিরামিক বা টেরাকোটা ফুলদানি, কাঠ বা মেটালের শোপিস, দেয়ালে ঝোলানো ওয়াল ডেকোর, শোকেস বা সাইড টেবিলের জন্য ছোট আর্ট পিস, ক্যান্ডল হোল্ডার বা টেবিলটপ ভাস্কর্য। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশও করে।

পোশাক ও অনুষঙ্গ 
প্রিয়জনকে পছন্দের কোনো পোশাক, গহনা, হাতঘড়ি, লকেট ইত্যাদিও দিতে পারেন। এগুলো নিত্যদিন ব্যবহার করা যায়। আপনার সঙ্গী এ উপহার পেলে নিশ্চয়ই দারুণ খুশি হবে। 
সময়ই সবচেয়ে মূল্যবান উপহার
প্রিয়জনকে বস্তুগত যেসব উপহারই দেন না কেন, মাথায় রাখুন সময় দেওয়াই হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিন সব কাজের ভেতরও প্রিয় মানুষটির জন্য আলাদা সময় বের করুন। তার সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন। একসঙ্গে কোথাও বেড়াতে যান। তার পছন্দের কোনো খাবার রান্না করুন। সেটি হতে পারে চিকেন চাউমিন, স্প্যাগেটি, লাভ আকারের কেক, চকলেট ইত্যাদি। 

আরও পড়ুন

×