ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

এখনই সময় দর্জিবাড়ির

এখনই সময় দর্জিবাড়ির
×

বাহারি ডিজাইন ও কারুকাজের গজ কাপড়ের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে

আফরিনা আক্তার

প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদকে সামনে রেখে মার্কেট-শপিংমলগুলোয় শুরু হয়েছে কেনাকাটার ধুম। এর সঙ্গে বাড়ছে দর্জিবাড়িগুলোর ব্যস্ততা। যারা একটু ব্যতিক্রমী ডিজাইন ও নকশায় নিজের জামা বানাতে চাইছেন তারাই ছুটছেন নিজ নিজ পছন্দের দর্জিবাড়িতেই।   

রেডিমেইড পোশাকের ভিড়ে প্রতিবছর ঈদের সময় গজ কাপড় কিনে পোশাক বানানোর প্রবণতা দেখা যায় অনেকের মধ্যে। কেউ কেউ মনে করেন, রেডিমেইড পোশাকে পছন্দের নকশা বা সঠিক ফিটিং মিলে না। ফলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের থ্রিপিসের পাশাপাশি বাজারে বাড়ছে বাহারি ডিজাইন ও কারুকার্য তৈরি গজ কাপড়ের পোশাকের চাহিদা।
বিভিন্ন ধরনের গজ কাপড়ের দরদাম: 

রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউছিয়া মার্কেট, বঙ্গবাজার, বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় সুতি, স্যাটিন, মসলিন, অরগাঞ্জা, শিফন, সিল্ক, জর্জেট, চিনন, লন, নেট ও ডিজাইনার প্রিন্টেড কাপড়ের সমাহার। গাউন ও লেয়ার কামিজ বানাতে অনেকেই অরগাঞ্জা গজ কাপড় কিনেছেন। কোনো কোনো মার্কেটে অরগাঞ্জা কাপড়ের দাম হাঁকা হচ্ছে প্রতি গজ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। পার্টি কামিজ ও ডিজাইনিং ওড়না বানাতে ক্রেতার পছন্দ শিফনের গজ কাপড়; যেটির দাম ১৫০ থেকে শুরু করে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। কেউ কেউ অরগাঞ্জা কাপড়ের সঙ্গে নেট বা মেশ কাপড়ের তৈরি হাতা বা পার্টি জামার ডিজাইনে ব্যবহার করছেন। এ ধরনের নেট কাপড় পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে শুরু করে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। আবার অনেকেই ঈদের শাড়ি পরতে চান। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচ করে ডিজাইনিং ব্লাউজ বানাতে অনেক ক্রেতা সিল্ক বা বাটার সিল্কের কাপড় কিনছেন, যেটির দাম প্রতি গজ ৫০০ থেকে শুরু করে এক হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত। 

রাজধানীর বিভিন্ন দর্জিবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে, মূলত শবেবরাতের পর থেকে ঈদ পোশাকের অর্ডার আসা শুরু করেছে। অধিকাংশ দর্জি ১৫ থেকে ২০ রমজান পর্যন্ত অর্ডার নেবেন বলে জানান। চলুন জেনে নেওয়া যাক এবার ঈদের দর্জিবাড়ির ট্রেন্ড ও ডিজাইনের ধরন সম্পর্কে। 

জামার ডিজাইন: এবার ঈদে লং কামিজের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি গাউন স্টাইলের পোশাকও জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। সোজা কাটের সঙ্গে হালকা এমব্রয়ডারি বা পুঁতির কাজ দেখা যাচ্ছে। অনেকেই লেডিস বোতাম, পুঁতি, লেইস এবং নেকলাইনে হালকা কারুকার্য চাইছেন। দর্জিরা হাতে পুঁতি বসিয়ে নতুন ডিজাইন তৈরি করছেন। কামিজের ক্ষেত্রে লম্বা ঢিলেঢালা হাতা বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। হাতার বর্ডারে অনেকেই ডিজাইনিং লেইস, ছোট কুচি বা পুঁতির নকশা চাইছেন। লম্বা হাতার পাশাপাশি থ্রি কোয়ার্টার হাতেরও চাহিদা রয়েছে। গলার ডিজাইনে নির্দিষ্ট কোনো ট্রেন্ড নেই। মোটামুটি  পুরোনো ডিজাইন চলছে। তবে প্রাধান্য রয়েছে বোট নেক, শার্ট কলার, তিন কোনা, উঁচু গলা ও চার কোনা গলার। হাতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অনেকে জামার নিচের বর্ডারে পুঁতি ও বিভিন্ন ধরনের লেইস লাগাচ্ছেন।
সালোয়ার ও ওড়না ডিজাইন: কামিজের সঙ্গে বিভিন্ন ডিজাইনের সালোয়ার প্রাধান্য রয়েছে। বিভিন্ন জায়গার দর্জির সঙ্গে কথা বলে জানা যায় পালাজ্জো বা সোজা সালোয়ার থেকে প্যান্ট কাটিংয়ের সালোয়ারের চাহিদা তুলনামূলক বেশি। অনেকেই কামিজের সঙ্গে ম্যাচ করে প্যান্টের নিচের দিকে কুচি, লেডিস বোতাম বা লেইস লাগাচ্ছেন। এ ছাড়া কামিজ ও সালোয়ারের মতোই অনেকেই জর্জেট বা শিফনের কাপড় কিনে দর্জি দিয়ে বানাচ্ছেন ডিজাইনিং ওড়না। অনেকেই আবার ওড়নায় হাতের কাজ করাচ্ছেন। 

রাজধানীর মৌচাক মার্কেটে কেনাকাটায় ব্যস্ত নীলিমা রহমান নামের এক ক্রেতা জানান, ‘রেডিমেইড জামায় নিজের পছন্দমতো ডিজাইন কিংবা ফিটিং পাওয়া যায় না। তাই গজ কাপড় কিনে পছন্দমতো জামা বানাচ্ছি।’

রাজধানীর গুলশানে কলম্বিয়া মার্কেটের সুমাইয়া টেইলার্সের দর্জি রাসেল বলেন, ‘কাস্টমার যখন একটা কাপড় নিয়ে আসে, আমরা আগে ভাবি কোন কাটিং দিলে তাঁকে সবচেয়ে মানাবে। এখন ফ্যাশন দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই নতুন ডিজাইন শিখে হাতের কাজ, পুঁতি আর লেইস মিলিয়ে পোশাকে আলাদা একটা লুক আনার চেষ্টা করি। ঈদের সময় সবচেয়ে ভালো লাগে। কারণ তখন আমাদের দক্ষতার পুরোটা দেখানোর সুযোগ থাকে।’
ঈদ যত এগিয়ে আসছে দর্জিবাড়িতে বেড়েই চলছে কাজের ব্যস্ততা। সেলাই মেশিনের টুংটাং শব্দ ও ক্রেতার আনাগোনায় উৎসবমুখর হয়ে উঠছে দর্জিবাড়িগুলো। সারা দিন-রাত কাজের ব্যস্ত থাকলেও দর্জিদের প্রত্যাশা–সময়মতো ক্রেতার পোশাকগুলো হাতে হাতে পৌঁছে দেওয়ার। 

আরও পড়ুন

×