ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শিশুর মোবাইল আসক্তি কমাতে

শিশুর মোবাইল আসক্তি কমাতে
×

নাঈমা ইসলাম অন্তরা

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:০০

| প্রিন্ট সংস্করণ

মা খাবারের প্লেট নিয়ে শিশুকে খাওয়াচ্ছেন আর সন্তান মোবাইল দেখে সেই খাবার মুখে তুলছে– আজকের ডিজিটাল যুগের খুবই পরিচিত এক দৃশ্য। ঘরে ঘরে বাবা-মায়ের অভিযোগ, হাতে মোবাইল না দিলে শিশু মুখে খাবার তুলতেই চায় না। ‘ভিডিও চালাও, তাহলে খাব’–অভ্যাসটি শিশুর ক্ষেত্রে যেন স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। প্রশ্ন হলো, এটি কি নিরাপদ, নাকি ভবিষ্যতের জন্য একটি নীরব ঝুঁকি?
সমস্যার গভীরে কী আছে
মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, এটি একটি কন্ডিশনাল বিহেভিয়ার (শর্তাধীন আচরণ)। অর্থাৎ শিশুর মস্তিষ্ক শিখে গেছে ‘মোবাইল মানে আনন্দ প্লাস খাওয়া’। ফলে মোবাইল ছাড়া খাওয়া তার কাছে বিরক্তিকর হয়ে যায়।
কেন এটি ক্ষতিকর?
মস্তিষ্কের বিকাশে প্রভাব: অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে ভাষা ও সামাজিক দক্ষতা কমে যেতে পারে। 
খাওয়ার স্বাভাবিক অনুভূতি নষ্ট হয়: শিশু বুঝতে পারে না সে পেট ভরে খাচ্ছে, নাকি শুধু ভিডিও দেখে যাচ্ছে।
স্থূলতা ও অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা: স্ক্রিন টাইম বাড়লে শারীরিক কার্যকলাপ কমে এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। 
আচরণগত সমস্যা: অতিরিক্ত উত্তেজনামূলক ভিডিও শিশুর বিরক্তি, রাগ এবং মনোযোগ ঘাটতি বাড়াতে পারে। 
আন্তর্জাতিক গাইডলাইন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই বছরের নিচে শিশুকে একদমই স্ক্রিন দেওয়া উচিত নয়। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর জন্য স্ক্রিন টাইম হতে পারে দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা। পাশাপাশি খাবারের সময় স্ক্রিন ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা হয়। 
অভ্যাস বদলাতে কী করবেন 
ধীরে ধীরে কমান: একবার স্ক্রিন দেখা অভ্যাস হয়ে গেলে দ্রুত কমানো যাবে না। ধীরে ধীরে কমাতে হবে। প্রথমে ৩০ মিনিট, এরপর দিনে ১৫ মিনিট, তারপর ১০ এভাবে ধীরে ধীরে শিশুর মোবাইল দেখার সময় কমিয়ে দিন। 
স্ক্রিন-ফ্রি মিল নিয়ম চালু করুন: শিশুকে বোঝাতে হবে খাওয়ার সময় শুধু খাওয়া। মোবাইল বা টিভি দেখা যাবে না। 
বিকল্প আনন্দ দিন: গল্প বলা, গান, পরিবারের সঙ্গে কথা বলা–এসব অভ্যাসে শিশুর মস্তিষ্ক নতুনভাবে আনন্দের সঙ্গে খাওয়া শিখবে। 
শিশুকে খাওয়ায় যুক্ত করুন: খাওয়ার সময় শিশুকে প্লেট সাজাতে দিন, নিজে হাতে খেতে উৎসাহ দিন।
নিজের আচরণ ঠিক করুন: শিশুরা অনুকরণ করতে পছন্দ করে। তাই আপনি যদি খেতে খেতে মোবাইল দেখেন, তাহলে সেও তাই করবে। 
গুরুত্বপূর্ণ টিপস
শিশুকে জোর করে মোবাইল ছাড়ানো যাবে না। এতে সে আরও বিরোধিতা করবে। বরং তাকে ইতিবাচক উৎসাহ দিন। যেমন–তাকে বলুন, আজ মোবাইল ছাড়া খেয়েছো, দারুণ ব্যাপার তো। 
শিশুর খাবার আর মোবাইল–এ সম্পর্ক যত দ্রুত ভাঙা যায় ততই ভালো। কারণ এটি শুধু একটি অভ্যাস নয়, বরং তার মস্তিষ্কের বিকাশ, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক স্বাস্থ্য সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত।
আজ একটু কষ্ট হলেও আগামী দিনের জন্য এটি একটি বড় বিনিয়োগ। 
লেখক: সাইকোলজিস্ট এবং টিম ম্যানেজার 
হ্যান্ডিক্যাপ ইন্টারন্যাশনাল

আরও পড়ুন

×