ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

কর্তার ইচ্ছায় কর্ম

কর্তার ইচ্ছায় কর্ম
×

জায়েদ বিন আলী সুজন

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬ | ০৭:১৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বুইজলা মফিজ মিয়া, দুইন্নাতে কইরা খাওয়া লাগলে একটু বুদ্দি কইরা চলা লাগে।
‎–তা তো লাগেই। তা আপনি কী বুদ্দি করলেন কত্তা?
‎আমি ছিলাম তোমার চেয়েও গাধা। তারপর, এক সময় মাথায় একখান বুদ্দি আসলো।
‎–কী যে কন কত্তা! মাথাত বুদ্দি থাকলে এক সময় না এক সময় ঠিকি বাইর হয়া আসপে। তা কী বুদ্দি আসলো কত্তা?
‎সস্তায় কিছু উঁচা জমি কিনলাম।
–নিচা জমির যে দাম! সস্তায় পাইলে উঁচা জমিন কিনাই তো বুদ্দিমানের কাজ। হেরপর কী কইল্লেন কত্তা?
‎মাটি কাটায়া জমি নিচা করলাম।
–আপনার যা বুদ্দি, উঁচা জমি দিয়া কী হয়? নিচা করা লাগবেই। তারপর?
‎কাটা মাটি দিয়া বাড়ির আশপাশ উঁচা করলাম।
‎–মাটির কি দাম নাই নাকি! ফালায়া দিবেন ক্যান? এই যেমন আপনে বুদ্দি কইরা বাড়ির আশপাশ উঁচা করলেন। কিন্তু তারপর?
সেই মাটিতে লাগায়া দিলাম লাউগাছ।
‎–তা তো লাগাইবেনই। আপনের যা বুদ্দি! আশপাশ কি ফালায়া রাখার লোক আপনে?
– নয়া মাটি। লাউগাছও হইল খুব ভালো। লাউ হইল অনেক। সেই লাউয়ের যা স্বাদ!
–নয়া মাটির নয়া লাউ। স্বাদ তো হইবেই।
‎–সেই লাউ কিছু নিজে খাইলাম, কিছু পাড়া-পড়শিরে দিলাম। ম্যালা লাউ। হাটের দিন কিছু লাউ বেচবার জইন্নে নিয়া গেলাম।
–হাটে বেচলে দুইটা পাইসা হইলে অসুবিধা কি?
–আমি দাম একটু বেশিই চাইলাম।
–নয়া মাটির, দাম তো কিছু বেশি হইবেই। তখন?
‎–কেউ আর লাউ কিনে না।
–বেশি দাম দিয়া মানুষ ক্যান কিনব, বাজারে সস্তায় পাইলে! সেইটাও তো কথা!
‎–তারপর আসলো একটা পুলিশ।
‎–পুলিশ! কন কী কত্তা! পুলিশ আইলো ক্যান?
‎–আরে পুলিশ আইলো লাউ কিনতে। লাউয়ের দাম জিগাইলো।
–তাই কন, কত্তা! তা পুলিশও তো মানুষই। বাজার-সদাই তো করা লাগবেই। আর লাউ কিনতে হইলে দাম তো জিগাইবেই।
‎–আমি দাম চাইলাম আরও বাড়ায়া।
–উচিত কাজ করছিলেন কত্তা। পুলিশের হইল ঘুষের পাইসা। তখন কী হইল কত্তা?
‎–আমি কইলাম, ‘এক দাম।’
–আপনে কি আর অইন্নদের মতো লাউওয়ালা নাকি! আসল মরদের এক কথা, এক দাম।
‎–শুইন্না পুলিশ গেল খেইপ্পা।
‎–পুলিশ মানুষ! এগর রাগ তো একটু বেশি। তা খেইপ্পা গিয়া পুলিশ কী করলো?
‎–আমারে কইলো, থানায় চল। আমিও বুক ফুলায়া কইলাম, চলেন দেখি।
‎–কত্তা কি থানা-পুলিশরে ডরায় নাকি! তারপরে?
‎–নিয়া পরথমে একটু মাইর-ধইর করলো।
‎–পুলিশ থানায় খাতির-যত্ন করার জইন্নে তো নেয় না। একটু তো মাইর-ধইর কইরবই। তারপর?
‎–আমি পুলিশের হাতে-পায়ে ধরলাম।
–পুলিশ ধরলে হাতে-পায়ে ধরার মইদ্দে কুনো সরম নাই। ঠিক কাজই করছিলেন। তারপর?
‎–টেকা চায়। না দিলে চালান কইরা দিবে।
–ওরা এমনই টাকা ছাড়া কিছুই বুঝে না।
‎–কিন্তু আমার কাছে তখন টাকাও নাই।
–থাকবে কেমনে! আপনে গেছেন লাউ বেচতে, লাউ কিনতে গেলে টেকা থাকতো। তখন?
–কী আর করা, লাউগুলাই দিয়া আসলাম।
‎–এইটা একটা বুদ্দিমানের কাজ করছেন কত্তা। যেই লাউয়ের জইন্নে এত যন্ত্রণা, সেই লাউ দিয়া আসাই ভালো। তারপর?
–পুলিশ আমারে সসম্মানে ছাইড়া দিল।
‎–আপনারে আটকায়া রাখব, এমন খেমতা পুলিশের আছে? আপনে মানী লোক। ছাইড়া না দিয়া উপায় কী। শেষে কী হইল কত্তা?
‎–বাড়ি আইসা সব লাউগাছ কাইটা ফালাইলাম।
‎–এক্কেবারে ঠিক কাজ করছেন কত্তা। দুষ্ট গরুর চাইতে শূন্য গোয়াল ভালা। যেই লাউয়ের জইন্নে এত যন্ত্রণা! কিন্তু তারপর?
‎– দেইখা তোমাগর ভাবি বিরাট রাগ করলো।
‎–তা তো রাগ হওনের কথাই। এত সখের লাউগাছ!
‎–সে তো বাক্স গুছায়া বাপের বাড়ি রওয়ানা দিতে ধরছিল।
‎–ভাবিসাব উঁচা বংশের। রাগ হইলে বাপের বাড়ি না গিয়া কি পইড়া থাকবে? কিন্তু শেষে কী হইল? ‎
–আমি হাতে-পায়ে ধইরা তারে থামাইলাম। নাইলে বাড়ি-ঘর কে দেখবো কও?
‎–এইটা সবচেয়ে বুদ্দিমানের কাজ করছেন কত্তা। নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালা। বউ ছাড়া সংসারের চেয়ে রাগী বউও ভালা। আর বউ রাগ করলে হাতে-পায়ে ধইরা রাগ থামানোর মইদ্দে কুনো শরম নাই। এইটা সবচেয়ে বুদ্দিমানের মতো কাম করছেন কত্তা।
সুহৃদ, পটুয়াখালী

আরও পড়ুন

×