শ্রদ্ধায়, স্মরণে কালজয়ী তিন রূপকার : মৌলভীবাজারে পাঠচক্র
(বাঁ থেকে) শামসুর রাহমান, হুমায়ুন আজাদ ও তারেক মাসুদ কোলাস :: শেখ শাহাদ
ইয়াসীন সেলিম
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলা সাহিত্যের প্রথাবিরোধী কণ্ঠস্বর হুমায়ুন আজাদ, আধুনিক কবিতার দিকপাল শামসুর রাহমান এবং মুক্তচিন্তার চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদের প্রয়াণ আমাদের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। তাদের লেখনী ও সেলুলয়েডে ফুটে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধ, প্রগতি এবং মানুষের স্বাধীনতার আকুতি। ১৩ ও ১৫ আগস্ট এই তিন কালজয়ী স্রষ্টার জীবন ও কর্ম নিয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও মৌলভীবাজারের সুহৃদরা আয়োজন করেন পাঠচক্র ও আলোচনা
মধ্য আগস্টের গনগনে রোদ ছুঁয়ে কাওয়াদীঘি হাওরসংলগ্ন অন্তেহরি গ্রামে বসেছিল সাহিত্য ও সুরের মেলবন্ধন। প্রথাবিরোধী লেখক ও ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ এবং আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ কবি শামসুর রাহমানের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী পাঠচক্র ও স্মৃতিচারণ সভার আয়োজন করে সুহৃদ সমাবেশ, মৌলভীবাজার। শহরের রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ভাসমান গ্রাম অন্তেহরিতে আয়োজিত উন্মুক্ত পাঠচক্র ও আলোচনা সভা শুরু হয় সুহৃদ সমন্বয়ক নূরুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। প্রয়াত কবি হুমায়ুন আজাদের জীবন ও সাহিত্যকর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণ করে পাঠচক্রের মূল আলোচনা শুরু করেন কবি মহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ভাষাবিজ্ঞানী, কবি, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক ও সমালোচক–যার প্রতিটি রচনাই বাংলা সাহিত্য ও চিন্তাজগৎকে প্রবলভাবে আলোড়িত করেছে। প্রথাগত সংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভণ্ডামির বিরুদ্ধে তাঁর ধারালো কলম সবসময় সরব ছিলেন হুমায়ুন আজাদ।
এ ছাড়া ১৭ আগস্ট কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মৃতি রোমন্থন কের তাঁর বিখ্যাত ‘সুধাংশু যাবে না’ কবিতাটি আবৃত্তি করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন কবি পুলক কান্তি ধর। এরপর ধারাবাহিকভাবে কবি ও বাচিকশিল্পী সুনীল শৈশবসহ উপস্থিত সুহৃদরা ‘স্বাধীনতা তুমি’, ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ ও ‘আসাদের শার্ট’ কবিতাগুলো আবৃত্তি করেন।
পরে সুরের মূর্ছনায় প্রাণবন্ত করে তোলেন শিল্পী জয়দ্বীপ রায় রাজু ও রথীন্দ্র বিশ্বাস। পাঠচক্রে আলোচক হিসেবে সুহৃদদের সঙ্গে যুক্ত হন কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু ও জ্যেষ্ঠ সংস্কৃতি সংগঠক শৈলেন রায়।
সুহৃদ সমাবেশ মৌলভীবাজারের সভাপতি ইয়াসীন সেলিমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়ছল আহমেদ জুনেদের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে আরও অংশ নেন সহসভাপতি হেলাল মিয়া, যুগ্ম সম্পাদক অরুণ বর্মণ, রোনালদো ধরসহ অন্যান্য সুহৃদ। অনুষ্ঠানটির আলোকচিত্র ও ভিডিও চিত্রায়ণে ছিলেন রণজিৎ দত্ত জনি ও মোহাম্মদ আমির।
সন্ধ্যায় ফিরতি পথে হাওরের নিস্তব্ধতায় ব্যাকুল হয়ে ওঠে উপস্থিত কবি-সাহিত্যিকদের মন। কবি হুমায়ুন আজাদের ‘ভালো থেকো ফুল, মিষ্টি বকুল, ভালো থেকো/ভালো থেকো ধান, ভাটিয়ালি গান...’ কবিতার পঙ্ক্তিমালাকে পাথেয় করেই শেষ হয় দিনব্যাপী এ ব্যতিক্রমী সাহিত্যযাত্রা।
সভাপতি, সুহৃদ সমাবেশ, মৌলভীবাজার
- বিষয় :
- সুহৃদ সমাবেশ