ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অচেনা সমুদ্রের গল্প

অচেনা সমুদ্রের গল্প
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

শরতের কাছে
আশরাফ চঞ্চল

এখন জলের মৌসুম শেষ
কোথাও বৃষ্টির ছিটেফোঁটা নেই
আকাশে কেবল উড়ে বেড়ায় পেলব সাদা মেঘ
স্বচ্ছ সফেদ ঝলমলে রোদ্দুর!

তোমাকে নিয়ে যাব ব্রহ্মপুত্রের পাড়ে
অবারিত কাশবনে ঘুরতে ঘুরতে
ভালোবাসার তন্ত্র-মন্ত্রে ভুলিয়ে
অনায়াসে ছুঁয়ে দেব দেহ-মন্দিরের অলিগলি!

তুমি বললে, নদীর ঘাটে বাঁধা নৌকার মাস্তুলে
উড়াব রঙিন পাল!

 

নীল জোছনার ভিড়ে
রফিকুল ইসলাম

সে দাঁড়ায় একা
তার ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ে সব বাতাস
স্থির চোখে আঁকে
অশেষ নীলের মানচিত্র

তাকে ঘিরে ঝরে পড়ে
রাতের যত না-ফোটা ফুল
তার নিঃশ্বাসে জ্বলে ওঠে
অন্ধকারের বাতিঘর

চুলের ঢেউয়ে লুকিয়ে থাকে
অচেনা সমুদ্রের গল্প
কপালের ভাঁজে
ভোর তার পথ হারায়

তার প্রতিটি না-বলা কথা
জন্ম দেয় এক নতুন পৃথিবীর।

 

শারদ মেঘ
আরজাত হোসেন 

এই দেখ, শারদ মেঘ হয়ে জমেছি আকাশে 
রৌদ্র রক্ষী হয়ে এবার পুব থেকে পশ্চিমে অস্ত যাব। 
সুতো টেনে পাঠিয়ে দিও চিঠি-ঘুড়ি!
কে বিঘ্ন ঘটাবে! যখন জেনেছি পশ্চিমে তোমার বাড়ি। 
এই দেখ, ক্রমাগত মেঘ তোমার উঠোনে ঝরেছি!  

পত্র পল্লবে কত রিমঝিম সানাই বাজে 
জানালায় অধীর হয়ে দিয়েছ উঁকি! 
এই দেখ, অস্ত যেতেই হয়েছি নদী। 
কে তোমায় জানাবে? আমার সমস্ত পথ 
তোমার দিকেই হেঁটেছি।

 

মানুষ   
রহমত আলী   

সব মানুষ মানুষ না–
যদিও মানুষ ছিল কখনও।
এখন আর কোথায়! শুধুই কি কথায়!
তাহলে মানুষকে এখনও...
আছে কি শনাক্তের কোনো উপায়?

সব মানুষ মানুহুঁশ না–
যদিও দেখতে মানুষের মতো;
তা সত্ত্বেও বন্য কিছু জন্তু শ্রেয়!

সব মানুষ অমানুষ না–
যদিও কিছু মানুষও সংখ্যায়!
কজন এমন... এখনও আছে;
তবে কোথায় সেই মানুষের সংজ্ঞা?

 

স্বয়ংবর
পারভেজ ইকবাল

সূর্য উঁকি দিলেই ডাহুকের ছটফটানি–ভোর হলো তো 
পানাকচুর যাযাবর রং খেয়াল, তখনও ঘুমে বিভোর 
দিঘির কোণা ফেরত যাযাবর বাতাস আইঠাঁইয়ে ক্লান্ত 
হায় রে ভুলেই তো গেছি জোনাক ঝিঁঝির কথা, ব্যতিব্যস্ততা 
সেই যে কখন থেকে ঠেলেঠুলে আড় ভেঙেছে ঘসেটি ফড়িং 
উঁহ, কেউ না শুধু তারই রোজনামচা হোক আজ।
রোজনামচা শুনে হাত উঁচিয়েছে মায়া শালিক বলে–
‘আমিও তো সেজেছি আজ, বুনোফুল, ঝাঁকালো পালক।’
হচ্ছেটা কি! তারস্বরে ঝাঁজিয়ে উঠে পাড়ঘেঁষা আম্রমুকুল 
আস্ফালনে ফুঁসতে থাকে, একটাই বর্ণ–আমিই সুন্দর।
ঢের দেখেছি ওই সুন্দর, থাম তো বাপু–কণ্ঠস্বরে ভাঙা গাঁথুনি 
কিছুটা পুরোনো আদল আর কর্তৃত্ব, যেন সময়–ইতিহাস। 
দিঘিতে তখন রঙের খেলা, আলো ঝলকানি, স্বায়ত্তশাসন।
সূর্য রথের ঘোড়ায় চেপে, বেহুলার পদধূলি–স্বয়ংবর, বরবরণ।
 

 

কথার কথা
এমডি জিয়াবুল 

কথার ভেতর জ্ঞান গরিমা
কথার ভেতর ধন,
কথায় মানুষ ভ্রষ্ট পথে
কথায় ভাঙে মন।

কথার কথা আসল কথা
কথায় আছে ঝাল
কথার মাঝে দূষণ শব্দ 
কথায় মন্দ গাল।

কথায় হবে আপন স্বজন 
কথায় হয়রে পর,
কথার মাঝে সবাই সুখী 
কথায় বাঁধে ঘর।

কথার তরে মানুষ বাঁচে 
কথায় আছে সুখ,
কথার দ্বারা স্বভাব পচে 
কথায় ভিজে চোখ।

কথার কথা অনেক কথা
কথার নেই তো শেষ, 
কথার মালায় জাতি গাঁথা 
কথায় গড়ে দেশ।

আরও পড়ুন

×