শতবর্ষে সুকান্ত
রাবিতে পাঠচক্র : কবির সমাজভাবনা ও বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা
সুকান্ত ভট্টাচার্য [জন্ম: ১৫ আগস্ট ১৯২৬–মৃত্যু: ১৩ মে ১৯৪৭] : চিত্রকর্ম:: সাফায়েত সাগর
ফখরুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
তারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের জন্মশতবর্ষে তাঁর সাম্যবাদী চিন্তা, বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান এবং শোষিত মানুষের জীবনসংগ্রাম আজ অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সুকান্তের এই কালজয়ী আদর্শকে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তুলে ধরতে ১৫, ২২ ও ২৩ আগস্ট রাজবাড়ী, ঈশ্বরদী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে আয়োজিত হয় পাঠচক্র, কবিতা পাঠের আসর ও বিশেষ আলোচনা। শতবর্ষে সুকান্তের জীবন, সাহিত্য এবং ভাষা-সংস্কৃতির ভিত্তি নিয়ে সুহৃদের কর্মসূচি নিয়ে আয়োজন–
‘বিদ্রোহ আজ বিদ্রোহ চারিদিকে, আমি যাই তারি দিনপঞ্জিকা লিখে,/এতে বিদ্রোহ কখনো দেখেনি কেউ,/দিকে দিকে ওঠে অবাধ্যতার ঢেউ;/স্বপ্ন-চূড়ার থেকে নেমে এসে সব/শুনেছো? শুনছে উদ্দাম কলরব?’–বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই অবিনাশী লেখনী পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সুহৃদের পাঠচক্র। সুকান্তের জীবন, কবিতা ও সমাজভাবনা নিয়ে পাঠচক্রে অংশ নেন সুহৃদরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের ৩৩৬ নম্বর কক্ষে অনুষ্ঠিত পাঠচক্রে মূল আলোচক ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম কনক।
আলোচনায় অংশ নেন সুহৃদ শিক্ষার্থীরা। আলোচনায় সুহৃদরা সুকান্ত ভট্টাচার্যের সংক্ষিপ্ত অথচ অসামান্য ঘটনাবহুল জীবন, তাঁর সাহিত্যকর্ম, কবিতার বৈচিত্র্যময় ভাবধারা এবং সমাজ ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার চিত্র তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, মাত্র ২১ বছরের ক্ষণজন্মা জীবনে সুকান্ত তৎকালীন পরাধীন ভারত ও সামাজিক অস্থিরতার কঠিন বাস্তবতায় কলম ধরেছিলেন। ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়/পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝালসানো রুটি’– সুকান্তের এমন পঙক্তিমালা কেবল কাব্যের ছন্দ নয়, বরং দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধার্ত গণমানুষের আর্তনাদের বাস্তব দলিল। তাঁর কবিতায় তৎকালীন সমাজের তীব্র বৈষম্য, শোষণ, দারিদ্র্য ও সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
আলোচনায় আরও উঠে আসে, সুকান্তের কবিতা একরৈখিক নয়; বরং তা প্রতিবাদী ও বৈপ্লবিক রূপ ধারণ করেছিল ‘ছাড়পত্র’, ‘আঠারো বছর বয়স’ ও ‘হে মহাজীবন’-এর মতো অমর সৃষ্টিতে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর ‘আঠারো বছর বয়স’ যেন তরুণ সমাজকে পথ দেখায়–‘আঠারো বছর বয়স জানে না কাঁদা/এ বয়স জানে রক্তদানের পুণ্য/এ বয়স ঘরে-বাইরে মাথা তোলে না/এ বয়স জানে অন্যায়ের কাছে নোয়ানো নয় মাথা।’ বক্তারা বলেন, অল্প বয়সেই সুকান্ত বাংলা সাহিত্যে যে স্বতন্ত্র কাব্যভাষা ও গভীর সমাজসচেতনতার পরিচয় দিয়েছেন, তা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছে।
পাঠচক্রে সুকান্তের কাব্যগ্রন্থের বিভিন্ন অংশ পাঠ ও বিশ্লেষণ করা হয়। পরে উপস্থিত সুহৃদ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মুক্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ে অংশ নেন। বক্তারা পুনর্ব্যক্ত করেন, সুকান্তের সাহিত্য কোনো নির্দিষ্ট সময়ের ফ্রেমে বন্দি নয়; মানবিকতা, সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তা আজও সমভাবে প্রাসঙ্গিক। সুকান্তের এ সাম্যবাদী ভাবনাকে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মনোজ্ঞ এ পাঠচক্রের সমাপ্তি ঘটে।
পাঠচক্র প্রতিক্রিয়ায় অংশ নিয়ে সুকান্তের জীবন ও কর্ম এবং দার্শনিক দিক নিয়ে কথা বলেন বিশ্ববিদ্যালয় সুহৃদ সমাবেশের সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ খালিদ, লিয়া মাহেরা, আমেনা খাতুন, মেহেরুননেছা মিম, আরাফাত আবির, মঈনুল ইসলাম জিসান, জুবায়ের শিকদার হামিম, মাহাদি হাসান মাহা, আব্দুল্লাহ বিন মহসিন, ঐশ্বর্য বিশ্বাস, মিথুন আহমেদ ও নেহাল রাফি। v
সহসভাপতি, সুহৃদ সমাবেশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- বিষয় :
- সুহৃদ সমাবেশ