ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য ব্র্যাক ব্যাংকের ডিজিটাল লোন

বিকাশ মার্চেন্টদের জন্য ব্র্যাক  ব্যাংকের ডিজিটাল লোন
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৫৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে প্রথমবারের মতো মার্চেন্টদের জন্য যৌথভাবে জামানতবিহীন ডিজিটাল লোন সেবা চালু করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও বিকাশ। সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা বিকাশের মার্চেন্টরা কোনো কাগজপত্র ছাড়া অ্যাপ থেকেই যে কোনো প্রয়োজনে এই ঋণ নিতে পারবেন সহজেই। এর মাধ্যমে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা দ্রুত ও কার্যকরী মূলধন সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন যা তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে সাহায্য করছে, পাশাপাশি দেশের ক্যাশবিহীন ডিজিটাল পেমেন্টের ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে। 

মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের লেনদেনের রেকর্ড ও ব্যবহারের প্রবণতার ভিত্তিতে নির্ধারিত এই সেবার আওতায় যোগ্য মার্চেন্টরা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। এ জন্য কোনো ধরনের জামানত, কাগজপত্র বা ব্যাংকে যাওয়ার কোনো দরকার হবে না মার্চেন্টদের এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে ডিজিটালি। 

দেশে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক ঋণসেবার বাইরে থাকেন কিংবা ঋণ পেতে তাদের বেশ দীর্ঘসূত্রতার সম্মুখীন হতে হয়। বেশির ভাগ সময় কাগজপত্রের ঝামেলা, দীর্ঘ সময় কিংবা আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালে তারা ব্যাংকের লোন না নিয়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক উৎস থেকে লোন নেন ব্যবসা কিংবা নিজস্ব প্রয়োজনে। 
বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের নতুন এই ডিজিটাল মার্চেন্ট লোন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য জরুরি অর্থায়নের ক্ষেত্রে নতুন উৎস হিসেবে কাজ করবে। এই ঋণ পেতে ব্যবসায়ীদের সম্পদের পরিবর্তে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে হওয়া ডিজিটাল লেনদেনকে যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনায় নেওয়া হবে। অর্থাৎ কোনো মার্চেন্ট যত বেশি নিয়মিত বিকাশের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণ করবেন, তার ঋণ পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে। 

ঋণ পাওয়ার যোগ্য মার্চেন্টরা বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে কয়েক ক্লিকেই ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন। ঋণের টাকায় পণ্য কেনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ, মৌসুমি চাহিদা পূরণ বা অন্যান্য ব্যবসায়িক প্রয়োজনে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন মার্চেন্টরা। 

নতুন সেবা চালুর পরপরই ঋণ নিয়েছেন সাতক্ষীরার সম্রাট শু-এর স্বত্বাধিকারী মো. শিহাব রায়হান। তাঁর মতে, ‘কিছুদিন আগে ব্যবসার প্রয়োজনে টাকার প্রয়োজন হয়। আমি আগেই জানতাম বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ঋণ নেওয়ার নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে। তাই আমি ঋণের জন্য আবেদন করি। ১০ হাজার টাকা ঋণ পাই। আগে ব্যবসার প্রয়োজনে হঠাৎ টাকার প্রয়োজন হলে আমাকে আত্মীয়স্বজন বা ভাইদের কাছ থেকে টাকা ধার নিতে হতো, যা আমার জন্য বেশ অস্বস্তিকর ছিল। এটি আমার ব্যবসা পরিচালনাকে আরও সহজ করেছে। এখন প্রয়োজনের সময় খুব সহজেই ব্যবসার জন্য মূলধন পেয়ে যাই।’ 
দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছেন কারু উদ্যোক্তা রোকেয়া আকতার অর্না। সম্প্রতি তিনিও ব্যবসার কাজে বিকাশ মার্চেন্ট অ্যাপ থেকে ঋণ নিয়েছেন। রোকেয়া আকতার বলেন, ‘বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংক যৌথভাবে মার্চেন্টদের জন্য ডিজিটাল ঋণ চালুর খবর আমি শুরুতেই পেয়েছি। সম্প্রতি আমার ব্যবসার প্রয়োজনে কিছু টাকার প্রয়োজন হয় এবং বিকাশে আবেদন করে লোনও পেয়ে যাই। পুরো প্রক্রিয়াটিই ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো জামানত বা কাগজপত্র জমা দিতে হয়নি। যেহেতু আমার অধিকাংশ গ্রাহকই বিকাশে পেমেন্ট করেন, তাই আমার ব্যবসার লেনদেনের ইতিহাসই ঋণ পাওয়ার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।’
বিকাশের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার আলী আহম্মেদ বলেন, ‘ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য ধীরে ধীরে ঋণযোগ্যতার একটি কার্যকর সূচক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে, সম্পদের পরিবর্তে লেনদেনের ধরন বিশ্লেষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদেরও সহজে ঋণের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ মার্চেন্টের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে বিকাশের। এই বিশালসংখ্যক মার্চেন্টের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট প্রতিনিয়ত বড় হচ্ছে। সেই ডিজিটাল লেনদেনের ফুটপ্রিন্টকে কাজে লাগিয়ে তাদের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়াই এই সেবার মূল উদ্দেশ্য।’
বাংলাদেশ যখন ক্রমেই ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন বিকাশ ও ব্র্যাক ব্যাংকের এই মার্চেন্ট লোন অর্থনীতির চালিকাশক্তি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ, দ্রুত ও জামানতবিহীন অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

আরও পড়ুন

×