সাক্ষাৎকার
আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় ও কর কমানো দরকার
মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেসিএক্স গ্রুপ
মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেসিএক্স গ্রুপ
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১০
| প্রিন্ট সংস্করণ
সমকাল: আবাসন খাতের বর্তমান বাজার কেমন?
ইকবাল হোসেন চৌধুরী: রড-সিমেন্টসহ নির্মাণসামগ্রীর আকাশচুম্বী দাম, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিসহ নানা কারণে দেশের আবাসন খাত এক দীর্ঘমেয়াদি মন্দা অবস্থায় পড়েছে। চতুর্মুখী চাপে রিয়েল এস্টেট খাত কঠিন সময় পার করছে। তবে দেশের আবাসনের চাহিদা কমেনি, বরং বাড়ছে। কিন্তু মূল সমস্যা ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়া ও অর্থায়নের সংকট। বর্তমান সময়টি চ্যালেঞ্জিং। তবে আমরা এটিকে এ খাতের জন্য আরও স্বচ্ছ, পেশাদার ও ক্রেতাবান্ধব করার একটি সুযোগ হিসেবেও দেখছি।
সমকাল: অর্থায়নে কী ধরনের জটিলতা রয়েছে?
ইকবাল হোসেন চৌধুরী: ঋণ পেতে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তবে গৃহঋণের উচ্চসুদ সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট কেনার সক্ষমতাকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করছে। বর্তমানে অনেক ব্যাংকে গৃহঋণের সুদ ১০ থেকে ১৩ শতাংশের আশপাশে। ফলে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেকে ফ্ল্যাট কিনতে পারছেন না। আবাসন ঋণের সুদ কমানো দরকার। একই সঙ্গে ঋণের মেয়াদ দীর্ঘ করা এবং ডাউন পেমেন্টের ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সমকাল: নির্মাণ ব্যয় কতটা বেড়েছে?
ইকবাল হোসেন চৌধুরী: ২০২০ সালের কভিড-১৯ অতিমারি এবং পরবর্তী সময়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে প্রধান প্রধান নির্মাণসামগ্রীর দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আরও উস্কে দিয়েছে নির্মাণসামগ্রীর বাজারকে। রড-সিমেন্ট, ইট, গ্লাস, পরিবহন ভাড়া ও শ্রমিক খরচ সব কিছুই বেড়েছে। নির্মাণসামগ্রীর ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে ডেভেলপারদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবতা হলো, নির্মাণ ব্যয় না কমলে ফ্ল্যাটের দামও কৃত্রিমভাবে কমানো সম্ভব নয়।
সমকাল: ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) নিয়ে আপনাদের আপত্তির মূল বিষয়টি কী?
ইকবাল হোসেন চৌধুরী: ড্যাপের কিছু বিধিনিষেধের কারণে নতুন প্রকল্পে ফ্ল্যাটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে। ভবনের উচ্চতা কমিয়ে দেওয়ায় ৬০ শতাংশ ভবন নির্মাণ কমে গেছে, যা আবাসন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে ড্যাপের ত্রুটি সংস্কারের আবেদন জানিয়ে আসছেন। এটি সংস্কার করা জরুরি। বাজারকে টেকসই করতে সরকারের নীতিগত সহায়তাও দরকার। তবে বর্তমান সংকটকে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার বিপরীত হিসেবে দেখছি না। নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং আবাসনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এ খাতকে দীর্ঘ মেয়াদে শক্তিশালী করবে।
সমকাল: আবাসন খাত ঘুরে দাঁড়াতে সরকারের কোন তিনটি পদক্ষেপ সবচেয়ে জরুরি?
ইকবাল হোসেন চৌধুরী: প্রথমত, গৃহঋণের সুদ কমিয়ে এক অঙ্কে নিয়ে আসতে হবে পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সহজ কিস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জমি ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় ও আবাসন-সংশ্লিষ্ট করের চাপ যৌক্তিক পর্যায়ে আনতে হবে। তাহলে ক্রেতার ওপর চাপ কমবে। বিক্রি
বাড়বে। বাজারও সচল হবে। তৃতীয়ত, অযৌক্তিক ড্যাপ সংশোধন, নির্মাণ বিধিমালা শিথিল, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ ও দ্রুত করতে হবে।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জসিম উদ্দিন বাদল
- বিষয় :
- সাক্ষাৎকার