হৃদরোগ নির্ণয়ে নন-ইনভেসিভ পরীক্ষার গুরুত্ব
ডা. মো. শাহীমুর পারভেজ, এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), ডি-কার্ড কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি ইউনিকো হাসপাতালস, পিএলসি
ডা. মো. শাহীমুর পারভেজ
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:০০ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৭:০০
হৃদরোগ নির্ণয় ও মূল্যায়নে নন-ইনভেসিভ পরীক্ষা অত্যন্ত কার্যকর পদ্ধতি। এটি হৃদরোগ মূল্যায়নের প্রথম ধাপ, যা ইনভেসিভ পরীক্ষার আগে করা হয়। এগুলো দ্রুত, সহজলভ্য, ঝুঁকিমুক্ত এবং রোগ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। সঠিকভাবে প্রয়োগ করলে এগুলো চিকিৎসা পরিকল্পনা ও রোগীর দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ইসিজি
ইসিজি সহজ, দ্রুত ও বহুল ব্যবহৃত পরীক্ষা, যা হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ রেকর্ড করে। এর মাধ্যমে হার্টের স্পন্দনের অনিয়ম (অ্যারিদমিয়া) শনাক্ত করা যায়। রক্ত সঞ্চালনের ঘাটতি (ইসকেমিয়া) এবং হার্ট অ্যাটাক শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
বুকের এক্স-রে
বুকের এক্স-রে কম মাত্রার রেডিয়েশন ব্যবহার করে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও হাড়ের ছবি ধারণ করে। এর মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের আকার ও আকৃতি নির্ধারণ করা যায়। এ ছাড়া হৃদযন্ত্রের অবসাদজনিত তরল হার্টের বাইরের পেশিতে তরল এবং ফুসফুসের আশপাশে তরল জমছে কিনা তা শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
ইকোকার্ডিওগ্রাফি
আল্ট্রাসাউন্ড তরঙ্গ ব্যবহার করে হৃদযন্ত্রের গঠনগত রোগ নির্ণয় করা হয়। এর মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের চেম্বারগুলো আকার ও কার্যকারিতা নির্ণয় করা যায়। ভালভের রোগ ও তার তীব্রতা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়।
ব্যায়াম সহনশীলতা পরীক্ষা
এটি একটি স্ট্রেস টেস্ট, যা ব্যায়ামের সময় হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে। বুকে ব্যথা এবং করোনারি আর্টারি রোগের ঝুঁকি থাকা রোগীদের জন্য এটি বিশেষ উপযোগী। এটি কার্ডিয়াক পুনর্বাসন প্রোগ্রাম এবং রোগীর ফিটনেস নির্ধারণেও সহায়ক।
হোল্টার মনিটরিং
হোল্টার মনিটরিং হলো দীর্ঘকালীন ইসিজি রেকর্ডিং, যা সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে করা হয়। এর মাধ্যমে স্বাভাবিক ইসিজিতে ধরা না পড়া অ্যারিদমিয়া শনাক্ত করা যায়; হার্টের ধড়ফড়ানি, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো উপসর্গের মূল্যায়ন করা হয়।
- বিষয় :
- হৃদরোগ
