ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জনস্বাস্থ্যের জন্য গণতন্ত্র প্রাসঙ্গিক কেন?

জনস্বাস্থ্যের জন্য গণতন্ত্র প্রাসঙ্গিক কেন?
×

লেলিন চৌধুরী, প্রাবন্ধিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:৩৩ | আপডেট: ১৭ নভেম্বর ২০২৫ | ১২:৪২

সারাবিশ্বের জন্য স্বাস্থ্য সম্পর্কিত নীতি, কৌশল এবং মান নির্ধারণ করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি স্বাস্থ্যকে একটি ‘রাজনৈতিক পছন্দ (পলিটিক্যাল চয়েস)’ বলে সুনির্দিষ্ট করেছে। সংস্থার ১৯৪টি সদস্য দেশের সম্মতিক্রমেই এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। কোন একটি দেশের নাগরিকগণের স্বাস্থ্য অধিকার রক্ষার সঙ্গে তিনটি রাজনৈতিক বিষয় অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত।

এগুলো হচ্ছে রাষ্ট্রের স্বাস্থ্যনীতি, স্বাস্থ্যসেবা খাতে (বলা উচিত সর্বক্ষেত্রে) সুশাসন এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ। কোনো রাষ্ট্রের গৃহীত স্বাস্থ্যনীতি সে রাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্য অধিকার বাস্তবায়নের ধরন, ব্যাপ্তি, বৈশিষ্ট্য ও গতিমুখ নির্ধারণ করে দেয়। স্বাস্থ্যসেবার তিনটি ধরন রয়েছে। একটি কল্যাণধর্মী স্বাস্থ্যসেবা। এ পদ্ধতিতে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবা রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে নিশ্চিত করা হয়। দ্বিতীয়টি হচ্ছে রাষ্ট্র স্বাস্থ্যসেবাকে একটি পণ্য হিসেবে গণ্য করতে পারে। এ ধরনের ব্যবস্থায় যে নাগরিক যত বেশি অর্থ ব্যয় করবে সে তত বেশি ভালো মানের স্বাস্থ্যসেবা ক্রয় করতে পারবে। এখানে রাষ্ট্র কেবল স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ন্ত্রণ ও আইনি বিষয়গুলোর দেখভাল করে।

তৃতীয় ধরনটি হচ্ছে মিশ্র পদ্ধতি। স্বাস্থ্যসেবার একটি অংশ রাষ্ট্র নিজস্ব তহবিল বা জন-অর্থ (পাবলিক মানি) থেকে প্রদান করবে। বাকি সেবাগুলো জনসাধারণকে নিজ অর্থের বিনিময়ে লাভ করবে। স্বাস্থ্যনীতির সফল বাস্তবায়নের জন্য সুশাসন ও সুপরিচালনা একটি অপরিহার্য শর্ত। সুশাসন এবং সঠিক পরিচালনা ব্যতিরেকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান কার্যকারিতা হারাতে বাধ্য। জনসাধারণের স্বাস্থ্য অধিকারকে রাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব প্রদান করে সেটা প্রকাশিত হয় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ এবং সেই বরাদ্দকে কাজে লাগানোর সামর্থ্য ও দক্ষতার দ্বারা।

স্বাস্থ্য যেহেতু রাজনৈতিক বিষয় সেহেতু রাষ্ট্র পরিচালনার রাজনৈতিক পদ্ধতির ওপর দেশের স্বাস্থ্যসেবার নীতি, পরিচালনা ও সম্পদ বরাদ্দ নির্ভরশীল। মোটাদাগে রাষ্ট্র পরিচালনা বা শাসন ব্যবস্থার দুটি ধরন রয়েছে। একটি হচ্ছে গণতন্ত্র এবং অন্যটি হচ্ছে একনায়কতন্ত্র। গণতন্ত্র হচ্ছে ‘জনসাধারণের দ্বারা রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত করা’। দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে কারা শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করবে সেটা পক্ষপাতমুক্ত জনমত বা ভোট গ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হয়। ভোট গ্রহণ যখন বাধাগ্রস্ত ও নানা কারসাজির দ্বারা পক্ষপাতদুষ্ট হয় তখন তাকে বলা হয় ‘ছদ্ম গণতন্ত্র’। রাষ্ট্রের নাগরিকরা নির্দিষ্ট সময় পরপর ভোটের মাধ্যমে সে সময়ের বাস্তবতা এবং জনচাহিদার নিরিখে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করেন। একনায়কতন্ত্রী ব্যবস্থা ব্যক্তি এবং দল দুই ধরনের হতে পারে। সেখানে ব্যক্তি বা দলের মতামতকেই রাষ্ট্রের নাগরিকদের মতামত মনে করে সকল কার্যক্রম বিন্যস্ত করা হয়। একনায়কতন্ত্রী শাসকেরা জনসাধারণের মতামতকে তেমন গুরুত্ব প্রদান করে না। কারণ জনসাধারণ তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী এই শাসকদের পরিবর্তন করতে পারে না। একনায়কতন্ত্রীরা কখনও কখনও ছদ্ম গণতন্ত্রের চর্চাও করে থাকে। গণতান্ত্রিক পদ্ধতির অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে গণতন্ত্রের চেয়ে অধিকতর গ্রহণযোগ্য কোনো শাসন ব্যবস্থার উদ্ভব হয়নি।

জনস্বাস্থ্য শব্দটিকে বেশ গোলমেলে করে ফেলা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত লোকজন প্রতিরোধী স্বাস্থ্যসেবা বা প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ারকে জনস্বাস্থ্য বা পাবলিক হেলথ হিসেবে চিহ্নিত বা সম্বোধন করে। এ আলোচনার শুরুতেই স্বাস্থ্যসেবার অংশ বা বিভাগগুলো সম্পর্কে আমাদের জানা দরকার। স্বাস্থ্যসেবা মোট পাঁচ অংশে বিভক্ত। এগুলো হচ্ছে: ১. প্রোমোটিভ হেলথ কেয়ার– এটি মানুষকে নিজের স্বাস্থ্য নিজে রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও শিক্ষণীয় বিষয়ে অবহিত করে। ২. প্রতিরোধী স্বাস্থ্যসেবা বা প্রিভেনটিভ হেলথ কেয়ার– রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে প্রতিরোধ করার উপায়সমূহ এই অংশের অন্তর্ভুক্ত। ৩. চিকিৎসামূলক স্বাস্থ্যসেবা বা কিউরেটিভ হেলথ কেয়ার– রোগ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ৪. পুনর্বাসনমূলক স্বাস্থ্যসেবা– রোগাক্রান্ত ব্যক্তি রোগমুক্ত হওয়ার পর কীভাবে স্বাভাবিক জীবনযাপনে পুনর্বাসিত হবে তা নির্ধারণ করা। ৫. উপশমমূলক স্বাস্থ্যসেবা বা প্যালিয়েটিভ হেলথ কেয়ার– মানুষের যেসব রোগ ও অক্ষমতা নিরাময়যোগ্য নয় সেসব ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির যন্ত্রণা লাঘব করা। জনস্বাস্থ্য শব্দটি বেশ পুরোনো। যে কালে স্বাস্থ্যবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবার বর্তমান ধারণার জন্ম হয়নি সে সময়ে প্রতিরোধী স্বাস্থ্যসেবাকে জনস্বাস্থ্য বলা হতো। পুরোনো সেই ধারাবাহিকতায় শব্দটি এখনও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। জনস্বাস্থ্যের সঠিক অর্থ হচ্ছে জনসাধারণের স্বাস্থ্য। বর্তমান আলোচনায় জনস্বাস্থ্যকে দেশের সকল নাগরিকের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা, যার মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার পাঁচটি মৌলিক অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে, সেটাকেই বোঝানো হবে।

জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর একটি মৌলিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের শাসন ব্যবস্থায় তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ এবং তার পরবর্তী স্তর হচ্ছে উপজেলা পরিষদ। এ দুটো প্রতিষ্ঠানই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি দ্বারা গঠিত হয়। ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদ সংসদীয় পদ্ধতিতে পরিচালিত হলে স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠান দুটি জনআকাঙ্ক্ষা ধারণে সমর্থ হবে। এ দুটো প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় সরকারকে স্থানীয় প্রয়োজন ও চাহিদা সম্পর্কে সঠিক চিত্র সরবরাহ করবে। তাতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে পরিকল্পনা ও বাজেট তৈরি করা কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য সহজতর হবে। তৃণমূলের প্রয়োজনকে কেন্দ্রীয় সরকার সমন্বয় ও প্রয়োগ উপযোগিতা দান করবে। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন্দ্র থেকে সারাদেশকে কেবল প্রশাসনের চোখ দেখা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়ার কারণে দেখা যাচ্ছে অনেক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে কিন্তু ড্রাইভার নেই। আবার অনেক উপজেলায় ড্রাইভার আছে কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স নেই। অনেক জেলা বা উপজেলায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি রয়েছে কিন্তু সেগুলো পরিচালনা করার মতো দক্ষ বা প্রশিক্ষিত লোকবল নেই। অনেক জেলা হাসপাতালে আইসিইউর সব যন্ত্রপাতি, আসবাব ইত্যাদি রয়েছে কিন্তু শুধু আইসিইউ বিশেষজ্ঞ না থাকায় জীবনরক্ষাকারী এই কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এ রকম ডজন ডজন অসংগতির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত পদ্ধতিতে বছরের পর বছর একদিকে জন-অর্থের বিপুল অপচয় হচ্ছে এবং অন্যদিকে নাগরিকরা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে। জনসাধারণের প্রত্যাশা ও চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সেবার অগ্রবর্তিতা নির্ধারণ এবং জন-নজরদারিত্বে সেবা প্রদানের প্রশ্নে স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা তাই অনিবার্যভাবে চলে আসে।

স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা চিকিৎসক বা ব্যক্তির একার কাজ নয়। একটি টিম বা দলের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। এই টিমের প্রাথমিক সদস্য হচ্ছে মোট আটজন। সেখানে একজন চিকিৎসক, তিনজন নার্স ও পাঁচজন টেকনোলজিস্ট-টেকনিশিয়ান থাকে। পরিপূর্ণ টিম গঠনে কমবেশি ২৩ জনের মতো দক্ষ ব্যক্তির প্রয়োজন হয়। থেরাপিস্ট, মানসিক সহযোগী, পুষ্টিবিদ, সমাজকর্মী, মাঠকর্মীসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষিত জনবল এই টিমের সঙ্গে থাকে। বাংলাদেশের বর্তমান জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য কতজন চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট-টেকনিশিয়ান, থেরাপিস্ট, পুষ্টিবিদ ইত্যাদি প্রশিক্ষিত মানবশক্তির প্রয়োজন, তার কোনো প্রাক্কলিত হিসাব বর্তমানে আছে বা কোনোকালে ছিল বলে আমাদের জানা নেই। সর্বপ্রথম এই হিসাবের কাজটি করতে হবে এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বছরওয়ারী দক্ষ জনবল যুক্ত করার বিষয়টিও হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে। এই জনশক্তি তৈরির জন্য কতগুলো প্রতিষ্ঠান দরকার, কত সময়ে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে সেটার পথনকশা প্রস্তুত করতে হবে। স্বাধীন বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা খাতে এই প্রাথমিক কাজটি কেন করা হলো না? এ রকম প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে আমরা যে বিষয়গুলো পাই সেগুলো হচ্ছে– স্বাস্থ্যসেবাকে কখনোই সামগ্রিকভাবে গুরুত্ব প্রদান করা হয়নি, স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশাকে বিবেচনায় আনা হয়নি, সারাদেশের স্থানীয় চাহিদা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যসেবার জাতীয় পরিকল্পনা এবং বাজেট প্রণয়ন করা হয়নি, দেশে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করা হয়নি, যে জন্য নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবাদানের পদ্ধতি নির্ধারণ করা যায়নি, স্বাস্থ্যসেবায় সুশাসন ও সুপরিচালনের অনুপস্থিতি। ‘রোগ ভুগে মরে যাওয়ার পর যারা বেঁচেবর্তে থাকবে তাদের দিয়েই আমাদের চলবে’– এ রকম একটি অগ্রহণযোগ্য মনোভাব দ্বারা বিগত সময়ের শাসকরা পরিচালিত হতেন বলে ধারণা করলে কি বড় ধরনের কোনো ভুল করা হবে?

স্বাস্থ্য প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। স্বাস্থ্য অধিকার মূলত বেঁচে থাকার অধিকারের সম্পূরকও বটে। মানবাধিকারের মতো স্বাস্থ্য অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানবাধিকার লঙ্ঘিত হলে যেমন আইনি প্রতিকার চাওয়া যায়, স্বাস্থ্য অধিকারের ক্ষেত্রেও সে রকম বিধান থাকা প্রয়োজন। আমাদের সংবিধান স্বাস্থ্যকে মানুষের মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু এই মৌলিক অধিকারটিকে রক্ষার আইনি ভিত্তি পাকাপোক্ত করেনি। ফলে সরকারগুলো দশকের পর দশক ধরে জনসাধারণের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সুন্দর সুন্দর কথামালা তৈরি করেছে। কিন্তু কাজের কাজ অর্থাৎ স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিকে জনঅধিকারে পরিণত করার জন্য কার্যকর কিছুই করেনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের মতো দেশগুলোতে জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের জন্য জিডিপির ৫ শতাংশের সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দের পরামর্শ দিয়ে আসছে। আমাদের দেশে দীর্ঘদিন স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ শতাংশের মতো অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হতো। কয়েক বছর ধরে সে পরিমাণ কমতে কমতে বর্তমানে ০.৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। আরও ভয়াবহ ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই পরিমাণ অর্থকে কাজে লাগানোর সক্ষমতা নেই। প্রতিবছর স্বাস্থ্য বাজেটের কমবেশি এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ অর্থ অব্যহৃত থাকায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত যায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামর্থ্য, বিস্তৃতি এবং যোগ্যতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এ কাজগুলো নিঃসন্দেহে রাজনীতির সঙ্গে সংযুক্ত। আমরা জানি গণতন্ত্রের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে মানুষের অধিকার রক্ষা করা। কাজটি করা হয় নায্যতা, সমতা এবং মানবিক মর্যাদাকে ভিত্তিমূল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

স্বাস্থ্যসেবার মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি হলো নায্যতা এবং মানবিক মর্যাদাকে সমুন্নত রেখে মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা। তাই একমাত্র গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে জনসাধারণের স্বাস্থ্য অধিকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিশ্চিত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

×