আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে বাংলাদেশের তিন
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:১৪
পচেফস্ট্রুমে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই। যে লড়াইয়ে শেষ হাসি বাংলাদেশের। রোববার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে বৃষ্টি আইনে ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির যে কোনো বড় টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আকবর আলীর হাত ধরে প্রথম বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে ওঠে পুরো বাংলাদেশ।
চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই আইসিসির বিশ্বকাপ একাদশে আধিপত্য থাকার কথা জুনিয়র টাইগারদের। তবে আইসিসির একাদশে এককভাবে আধিপত্য নেই বাংলাদেশের। টুর্নামেন্টের রানার্সআপ ভারতের সমান তিনজন করে খেলোয়াড় আছেন। অবশ্য ঘোষিত ১১ সদস্যের দলের অধিনায়ক বাংলাদেশের আকবর আলী খান। তিনিও ছাড়া এই দলে আছেন মাহমুদুল হাসান জয় ও শাহাদাত হোসেন।
ছয়টি দেশ থেকে দ্বাদশ খেলোয়াড়সহ মোট ১২ জনকে নিয়ে আইসিসির যুব বিশ্বকাপ একাদশ। ধারাভাষ্যকার ইয়ন বিশপ, রোহান গাভাস্কার ও নাটালি জার্মানোসের সঙ্গে ইএসপিএন ক্রিকইনফোর প্রতিনিধি শ্রেষ্ঠা শাহ এবং আইসিসির প্রতিনিধি ম্যারি গুডবেসহ মোট পাঁচজন মিলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের একাদশ নির্বাচন করেছেন। ভারতের তিন ক্রিকেটার হলেন টুর্নামেন্ট সেরা যশস্বী জয়শাল, রবি বিষ্ণয় ও কার্তিক তাগি। দু'জন করে ক্রিকেটার আছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং আফগানিস্তানের। উইন্ডিজের নাঈম ইয়ং ও জেডেন সেলসের সঙ্গে আছেন আফগানিস্তানের ইব্রাহিম জাদরান এবং শফিকুল্লাহ গাফারি। সেরা এগারোজনের একজন হলেন শ্রীলংকার রবিন্দু রাসান্থা। আর দ্বাদশ খেলোয়াড় হিসেবে আছেন কানাডার আকিল কুমার।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের শিরোপার অন্যতম কারিগর অধিনায়ক আকবর আলী। ফাইনালে ঠান্ডা মাথায় ব্যাটিং করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত উইকেটে থেকে দলের জয় নিশ্চিত করা আকবরের ব্যাট থেকে এসেছিল ৪৩ রান। উইকেটের পেছনে গ্লাভসে হাতে দুর্দান্ত ছিলেন আকবর। টুর্নামেন্টে মোট ছয় ব্যাটসম্যানকে ডিসমিসাল করেছেন। দারুণ নেতৃত্ব দিয়ে পুরো দলকে এক সুতোয় আনেন তিনি। তাই তো আইসিসির বিশ্বকাপ সেরা একাদশের অধিনায়ক করা হয়েছে আকবরকে। প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব ছিল ব্যাটসম্যান মাহমুদুল হাসান জয়ের। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে অসাধারণ সেঞ্চুরি করেন তিনি। টুর্নামেন্টে ৪৬ গড়ে তার রান ১৮৪। জয়ের মতো শাহাদাত হোসেনের ব্যাটেও আলো ছড়িয়েছে। ফাইনালে নিজেকে মেলে ধরতে না পারলেও পুরো টুর্নামেন্টে ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন তিনি। ছয় ইনিংসের মধ্যে তিনটিতেই অপরাজিত ছিলেন শাহাদাত। সর্বোচ্চ স্কোর ছিল অপরাজিত ৭৪। ১৩১ গড়ে ঠিক ১৩১ রান করেছিলেন শাহাদাত। বিশ্বকাপের এবারের আসরে ব্যাটিং গড়ে তার ওপরে আছেন ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়শাল (১৩৩.৩৩)। বাংলাদেশের আরও দুই ক্রিকেটার ইমন (১৬৬) ও তানজিদ হাসান (১৬৬) তার চেয়ে বেশি রান করলেও ধারাবাহিকতার কারণেই আইসিসির একাদশে শাহাদাত।
একাদশ: যশস্বী জয়শাল (ভারত), ইব্রাহিম জাদরান (আফগানিস্তান), রবিন্দু রাসান্থা (শ্রীলংকা), মাহমুদুল হাসান জয় (বাংলাদেশ), শাহাদাত হোসেন (বাংলাদেশ), নাঈম ইয়ং (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আকবর আলী (বাংলাদেশ, উইকেটরক্ষক, অধিনায়ক), শফিকুল্লাহ গাফারি (আফগানিস্তান), রবি বিষ্ণয় (ভারত), কার্তিক তাগি (ভারত), জেডেন সেলস (ওয়েস্ট ইন্ডিজ), আকিল কুমার (কানাডা, দ্বাদশ খেলোয়াড়)।
