স্থগিত না হলে অলিম্পিকে খেলতে পারবেন না সিদ্দিক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২০ | ০০:৪০ | আপডেট: ২১ মার্চ ২০২০ | ০২:২৫
চার বছর আগে প্রথম বাংলাদেশি অ্যাথলেট হিসেবে সরাসরি অলিম্পিকে খেলার টিকিট কেটে ইতিহাস গড়েছিলেন গলফার সিদ্দিকুর রহমান। রিও অলিম্পিকে খেলা সিদ্দিকুর স্বপ্ন দেখছিলেন আরেকটি অলিম্পিকে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করার। ২৪ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া টোকিও অলিম্পিকে কোয়ালিফাইং করার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন দেশসেরা এ গলফার। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অলিম্পিকের আগে গলফের সব টুর্নামেন্টই স্থগিত। অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জনের জন্য র্যাংকিংয়ে যে অবস্থানে থাকা দরকার, সেখানে নেই সিদ্দিকুর। টুর্নামেন্টগুলো না খেলায় বাছাই পর্বের সুযোগও পাচ্ছেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) যদি নির্দিষ্ট সময়ে অলিম্পিক আয়োজন করে, তাতে র্যাংকিংয়ে না থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন সিদ্দিকুরসহ বাংলাদেশের আরও গলফাররা। খেলতে পারবেন না অলিম্পিকে।
করোনার কারণে বিশ্বের সব খেলাধুলাই আপাতত স্থগিত। কিন্তু অলিম্পিক পেছানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি আইওসি। এবারের আসরের ২শ'র বেশি দেশের যে ১১ হাজারের মতো অ্যাথলেটের অংশ নেওয়ার কথা, তাদের মধ্যে ৫৭ শতাংশের খেলা নিশ্চিত হয়েছে। বাকি ৪৩ শতাংশ চূড়ান্ত হওয়ার কথা বাছাইপর্বের মাধ্যমে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপে প্রায় সব দেশেই এখন খেলা বন্ধ। এমন অবস্থা বাকিদের চূড়ান্ত করার বিষয়ে তাদের সংশ্নিষ্ট খেলার র্যাংকিং বা আগের সাফল্য বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে অলিম্পিকের বৈশ্বিক কর্তৃপক্ষ। এই অবস্থায় কপাল পুড়তে যাচ্ছে সিদ্দিকের। এশিয়ান ট্যুর কমিশনার এবং সিইও চু মিন থান্ট আইওসির এমন সিদ্ধান্তে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তার মতে, যদি নির্দিষ্ট সময়ে অলিম্পিক হয়, তাহলে এশিয়ান ট্যুর থেকে চার কিংবা পাঁচজন অলিম্পিকে কোয়ালিফাই করবেন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং ফিলিপাইনের মতো দেশের গলফাররা র্যাংকিংয়ে না থাকায় অলিম্পিকে খেলতে পারবেন না। আর এমনটা না হলে টানা দ্বিতীয় অলিম্পিক খেলার স্বপ্নটা ভেঙে যাবে সিদ্দিকুরের।
গতকাল সমকালকে নিজের হতাশা এভাবেই প্রকাশ করেন তিনি, 'হাঁ, এটা অবশ্যই খুবই হতাশাজনক। খারাপ লাগছে। হোম কোর্সে যদি খেলতে পারতাম, সেখানে যদি টপ থ্রিতে থাকতে পারতাম, তাহলেও অলিম্পিকে যাওয়ার সুযোগ থাকত। আর এই অলিম্পিকে খেলার জন্য আমি প্রস্তুতিও নিচ্ছিলাম। আমরা টিমওয়ার্ক করছিলাম। পরিস্থিতির জন্য এখন প্রস্তুতিটা বন্ধ রাখা হয়েছে। আর অবশ্য অলিম্পিকে খেলতে না পারলে খারাপ লাগবে। না খেলে বাদ পড়াটা খুবই হতাশাজনক। আমি যদি খেলে বাদ পড়তাম, তাহলে অন্তত বলতে পারতাম যে চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন তো সেই সুযোগ পাচ্ছি না। আর গলফে তো ওয়াইল্ড কার্ডও নেই।'
নির্দিষ্ট সময়ে অলিম্পিক আয়োজনে আয়োজকরা বদ্ধপরিকর। তবে সিদ্দিকুর মনে করেন, করোনার কারণে লং টাইমের জন্য পেছানো হতে পারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞটি, 'আমার মনে হচ্ছে, সিদ্ধান্তটা পরিবর্তন করতে হবে। কারণ এখন যে অবস্থা তাতে করে নির্দিষ্ট সময়ে অলিম্পিক আয়োজন করাটা অনেক কঠিন। আমি এক পার্সেন্টও সম্ভাবনা দেখছি না। আমি র্যাংকিংয়ে নেই। যারা র্যাংকিংয়ে আছেন, তারা এই পরিস্থিতিতে যাবেন কিনা সেটাও দেখতে হবে। তবে কেউ যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাপান যাবে, তা আমি মনে করছি না। কারণ জাপানের অবস্থাও কিন্তু এখন ভালো না। আর এখানে বিশ্বের ১৬০ দেশে করোনাভাইরাস। যদি এই অবস্থা থাকে আর যদি অলিম্পিক হয়, তাহলে কয়জন খেলোয়াড় জাপানে যাবেন এটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।'
গলফ খেলা নেই। প্রস্তুতিও বন্ধ। আপাতত বাড়িতে স্বেচ্ছায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন সিদ্দিকুর, 'আমি বাসার মধ্যেই আছি। এখানেই সবকিছু করছি। বাসার বাইরে বের হচ্ছি না। বলতে গেলে কোয়ারেন্টাইনে আছি। স্বেচ্ছায় বাসায় থাকছি আমি।'
- বিষয় :
- গলফ
- সিদ্দিকুর রহমান
- অলিম্পিক
