ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

৬‍ লাখের ফুটবলার হাঁকাচ্ছেন ৪০ লাখ!

৬‍ লাখের ফুটবলার হাঁকাচ্ছেন ৪০ লাখ!
×

সাখাওয়াত হোসেন জয়

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

ক্লাব ছুটছে খেলোয়াড়দের পেছনে আর খেলোয়াড়রা ছুটছেন টাকার পেছনে। দেশের ঘরোয়া ফুটবলের চিত্রটা বর্তমানে এমনই! নতুন তারিখ নির্ধারণের পর চার দিনে গড়াল পেশাদার লিগের দল বদলের। কিন্তু তার আগ থেকেই নতুন মৌসুমের জন্য ঘর গোছানোর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে বড় ক্লাবগুলো। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রাও নিজেদের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছেন। এমন অবস্থায় দেখা দিয়েছে ভালো মানের ফুটবলারের সংকট। তাই উপায় না দেখে মাঝারি মানের ফুটবলারদের খুঁজছে ছোট-বড় অনেক ক্লাব। তাতেই পড়তে হয়েছে নতুন সংকটে।

বেশ কয়েকটি ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, যাদের সঙ্গে ৫ কিংবা ৬ লাখ টাকার চুক্তি ছিল; নতুন মৌসুমের জন্য তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে পড়তে হয়েছে বিপত্তিতে। অন্য একটি ক্লাব থেকে ৪০ লাখ টাকার প্রস্তাব পেয়েছেন জানিয়ে ওই খেলোয়াড় তাদের বলেন, ৫০ লাখের ওপরে হলে আলোচনা করতে। মাঠের পারফরম্যান্সে আহামরি কিছু না করলেও বাজারদরে সেই ফুটবলারদের দাম উঠেছে ৩০ লাখের ওপরে। ইতোমধ্যে তাদের কেউ কেউ চুক্তির আনুষ্ঠানিকতাও সেরে ফেলেছেন।

দল বদলে এবার বড় চমক ইকবাল হোসেন। প্রথমবার স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের হয়ে খেলেছিলেন মাত্র দুটি ম্যাচ। এর পর গত মৌসুমে চট্টগ্রাম আবাহনীর জার্সিতে লিগে প্রথম পর্বে একাদশে খুব একটা সুযোগ পাননি। দ্বিতীয় পর্বে পারফরম্যান্সে উন্নতি করায় তাঁর দিকে নজর পড়ে যায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের। চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে ৬ লাখে খেলা ইকবাল এবার শেখ রাসেলের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন ৩০ লাখে।

ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের জার্সি গায়ে আহামরি পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি রফিকুল ইসলাম এবং মজিবুর রহমান জনি। ক্লাবের অটো চয়েসও ছিলেন না তারা। কিন্তু জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াতেই রফিকুল এবং জনির ওপর নজর পড়ে যায় বসুন্ধরা কিংসের। ফর্টিসে ৪ থেকে ৬ লাখ পাওয়া এ দুই ফুটবলারকে প্রায় ৪০ লাখ টাকায় বসুন্ধরা কিংস নিয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

একই সঙ্গে পুলিশ এফসির গোলরক্ষক রাকিবুল হাসান তুষারও নাকি ৩০ লাখ টাকায় শেখ রাসেলের সঙ্গে চুক্তি করেছেন। লিগের প্রথম পর্বে খুব বেশি সুযোগ হয়নি তুষারের। প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরে তৃতীয় হওয়া ক্লাবটির আরেক ফুটবলার রবিউল হাসানকে ৫০ লাখের বেশি দিয়ে ঢাকা আবাহনী নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

অনেকটা লটারি ভাগ্যের মতোই বদলে গেছে অনেক ফুটবলারের ক্যারিয়ার। পারফরম্যান্স কম হলেও তাদের চড়া দামের অন্যতম কারণ ক্লাবগুলোর টানাটানি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্লাব কর্মকর্তা এর জন্য ফুটবলার সংকটকে তুলে ধরেছেন, ‘যারা নিচ্ছেন, আমি মনে করি, আরও যাচাই-বাছাই করে নেওয়া উচিত। আসলে কি সে এতটুকু পাওয়ার যোগ্য কিনা? এক বছর কোনো মতো খেলল, পরের মৌসুমে সেই প্লেয়ারের দাম আকাশচুম্বী হওয়াটা অপ্রত্যাশিত। আরেকটি বিষয় হলো, দল বদলের আগেই বেশ কয়েকটি ক্লাব ঘর গুছিয়ে ফেলেছে। জাতীয় দলের ফুটবলারদের সঙ্গে কথাবার্তা পাকাপোক্ত করে ফেলে। তখন দেখা যায়, প্লেয়ার সংকট। এই অবস্থায় মাঝারি মানের একটা ফুটবলারকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে যায় ক্লাবগুলোর। তখনই ৬ লাখের ফুটবলারের বাজারদর গিয়ে দাঁড়ায় ৩০ কিংবা ৪০ লাখে।’

এই পরিস্থিতির জন্য ফুটবলারদের অর্থের মোহ পড়াকে মনে করছেন বড় এক ক্লাবের কর্মকর্তা, ‘সর্বশেষ মৌসুমেই দেখেন জাতীয় দলের এমন কয়েকজন ফুটবলার আছে, যারা কিনা বেশি টাকায় ক্লাবে গেলেও রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়েছে। অর্থের পেছনে ছুটতে গিয়ে ওই ফুটবলার কিন্তু তারই ক্ষতি করেছে। দিনশেষে দেশেরও ক্ষতি হলো। কারণ, সারা মৌসুম না খেলার কারণে সে জাতীয় দলকে ওইভাবে সাপোর্ট দিতে পারেনি। তাই শুধু ক্লাবগুলোই যে দায়ী তা কিন্তু নয়; ফুটবলাররাও এখন ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা না করে টাকার পেছনে ছুটছে।’

আরও পড়ুন

×