বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তিত জেমি
ইংল্যান্ডে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের কোচ জেমি ডে। সেখান থেকে সমকালকে পারিবারিক এই ছবিটি হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছেন তিনি
--
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ০০:৩২ | আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২০ | ০১:৩১
২০১৮ সালের মে মাসে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়া জেমি ডের সঙ্গে নতুন করে দুই বছরের চুক্তি করতে যাচ্ছে বাফুফে। করোনাভাইরাসের কারণে নিজ দেশ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করা জেমি মুখিয়ে আছেন জামাল ভূূঁইয়াদের সঙ্গে কাজ করতে। করোনায় বাংলাদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন জেমি প্রতিদিন ফুটবলারদের খোঁজখবর রাখছেন। আনুষ্ঠানিভাবে চুক্তি না হলেও এখন থেকেই দল নিয়ে পরিকল্পনা আঁকছেন ব্রিটিশ এ কোচ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ আরও নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সমকালের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়
সমকাল : সময়টা কীভাবে পার করছেন?
জেমি ডে : পরিবারের সঙ্গে বোর্ডে গেম খেলছি আর বাগানে গিয়ে ফুটবল খেলছি।
সমকাল : পুরো বিশ্বের মতো যুক্তরাজ্যের অবস্থা তো বেশ খারাপ। বাংলাদেশের পরিস্থিতিরও দিন দিন অবনতি ঘটছে...
জেমি ডে : লকডাউনের মধ্যে ঘরের মধ্যে আটকা আমরা। বের হতে পারছি না। শুধু খাবারের জন্য একটু বের হই। তাও অল্প কয়েক মিনিটের জন্য। সত্যি বলতে কী যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি অনেক খারাপ। এখানে প্রতিদিন শত শত লোক প্রাণ হারাচ্ছে। আমি শুধু টিভিতে দেখছি আর কষ্ট পাচ্ছি। তবে এখনও পর্যন্ত আমি এবং আমার পরিবার ভালো আছি। কিন্তু এখানে (ইংল্যান্ড) ভালো থাকলেও বাংলাদেশ নিয়ে আমি চিন্তিত। জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবেই নয়, বাংলাদেশ আমার কাছে দ্বিতীয় বাড়ি। সেখানকার মানুষ আমাকে খুবই ভালোবাসে। আমি বুঝতে পারছি তাদের কষ্টটা। আশা করি, পুরো বিশ্ব এক দিন করোনামুক্ত হবে। সংকট থেকে আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব।
সমকাল : বাফুফের সঙ্গে চুক্তি কতদূর এগোলো?
জেমি ডে : ছোটখাটো কিছু ইস্যু বাকি আছে। তবে চুক্তিটা হচ্ছে এটা নিশ্চিত। আমি দুই বছরের জন্য বাংলাদেশের ফুটবলের দায়িত্ব নিচ্ছি। বাফুফে এবং আমি একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি।
সমকাল : নতুন চুক্তির মধ্যে বিশেষ কোনো শর্ত আছে?
জেমি ডে : আগের চুক্তিতে যা ছিল, এবারও তাই। এবারের চুক্তিটা একটু ব্যতিক্রম। করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিকভাবে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই এপ্রিলে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন চুক্তিটা শুরু হবে আগস্ট থেকে। মাঝে আমি বেতন বা অন্যান্য সুবিধা পাব না। হয়তো আর্থিকভাবে একটু ক্ষতি হবে। তার পরও বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমি এটা মেনে নিচ্ছি।
সমকাল : আবারও দুই বছরের জন্য দায়িত্ব পাচ্ছেন। জাতীয় দল নিয়ে নতুন লক্ষ্য কী?
জেমি ডে : আমি খুবই ভাগ্যবান যে বাংলাদেশের অন্যান্য কোচের চেয়ে বেশি সময় কাজ করতে পারছি। এটা নিয়ে আমি গর্বিত। যদিও চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। তবে এই দলটা নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখছি। আমার লক্ষ্য হচ্ছে ভালোভাবে বিশ্বকাপ বাছাই শেষ করা। তবে স্বপ্নটা সাফের মতো বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা জেতা এবং র্যাংকিংয়ে ওপরে ওঠা।
সমকাল : আপনার অধীনে জাতীয় দলে দৃশ্যমান অনেক বদল এলেও বড় সাফল্য এখনও পর্যন্ত নেই কিন্তু...
জেমি ডে : হাঁ, গত দুই বছর ভালো কিছু ম্যাচ জিতেছি। এ ছাড়াও কিছু অর্জন হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরে হয়নি। কিন্তু এখনও বড় কোনো ট্রফি জিততে পারেনি বাংলাদেশ। আমি যদি ভুল না বলে থাকি, তাহলে বাংলাদেশ সর্বশেষ ট্রফি জিতেছিল ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। আমার বিশ্বাস ভবিষ্যতে আমরা এই ট্রফিটা আবারও জিততে পারব। শুধু সাফই নয়, গোল্ডকাপও জেতার আশা আমার।
সমকাল : আপনার মেয়াদে অনেক সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় উঠে এসেছে। আলাদা করে কোন খেলোয়াড় আপনার নজর কেড়েছে?
জেমি ডে : আমি মনে করি, ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স করছে জামাল ভূইয়া। তবে আরও অনেক তরুণ ফুটবলার আছে, যারা কিনা দারুণ প্রতিভাবান এবং ভবিষ্যতে ভালো কিছু করতে পারবে।
সমকাল : বাংলাদেশের ফুটবলে বড় সমস্যা কোচদের কাজে হস্তক্ষেপ করা। যেটা অতীতে অনেক কোচই বলেছিলেন। আপনার সময়ও দল নির্বাচন নিয়ে কেউ একজন হস্তপেক্ষ করেছেন- এমন প্রশ্ন উঠেছে...
জেমি ডে : না, আমার ক্ষেত্রে এখনও এমনটা হয়নি। আমি স্বাধীনভাবে দল নির্বাচন করতে পারছি। আমি দেখেছি ক্লাব ফুটবলে মালিকরা হস্তক্ষেপ করেন।
সমকাল : অপেক্ষায় আছেন নতুন চুক্তির। এরই মধ্যে অন্য কোথাও থেকে কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলেন?
জেমি ডে : এশিয়ার অনেক জায়গা থেকে এবং যুক্তরাজ্যেও কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছিলাম। তবে বাংলাদেশের ফুটবলে কাজ করাটা আমি উপভোগ করি। আমি অনেক দিন কাজ করে যেতে চাই।
সমকাল : ভালো জায়গা থেকে প্রস্তাব পেয়েছেন, কিন্তু বাংলাদেশকে বেছে নেওয়ার কারণ কী?
জেমি ডে : বাংলাদেশের বর্তমান খেলোয়াড় এবং স্টাফদের সঙ্গে কাজ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। আমি বাংলাদেশের মানুষকে ভালোবাসি এবং আবারও বলছি, দেশটা আমার কাছে দ্বিতীয় বাড়ি।
সমকাল : যুক্তরাজ্যে পরিবার ছেড়ে বাংলাদেশে এসে কাজ করাটা কতটা কঠিন?
জেমি ডে : খুবই কঠিন। তবে আমি খুবই ভাগ্যবান, আমি এমন একজন স্ত্রী পেয়েছি, যে কিনা আমাকে বোঝে। আর আমার সন্তানরাও আমার কাজ সম্পর্কে জানে। তাদের সমর্থন পাচ্ছি বলেই আমি নিজ দেশ ছেড়ে বাংলাদেশে কাজ করতে পারছি।
সমকাল : যখন ঢাকার উদ্দেশ্যে নিজ দেশত্যাগ করেন, তখন সন্তানরা কি কান্না করে?
জেমি ডে : হাঁ, তারা অনেক কান্না করে। আমি যেদিন আসব, সেদিন তাদের মন খারাপ থাকে। কিছুতেই আমাকে ছাড়তে চায় না। আমারও তখন কষ্ট হয়। তবে কয়েকদিন পর ওরা (সন্তান) স্বাভাবিক হয়ে যায়। আসলে করার তো কিছু নেই।
সমকাল : চাকরির মেয়াদ দুই বছর বাড়ল। এবার কি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আসবেন?
জেমি ডে : না, সম্ভব নয়। কারণ আমার স্ত্রী স্কুলে চাকরি করে। আর সন্তানরাও পড়াশোনা করে।
সমকাল : জেমি ডে কোথায় বেশি কঠিন? একজন কোচ না বাবা?
জেমি ডে : অবশ্যই কোচ। কারণ একজন কোচ মানেই তো বাবা, বন্ধু, শিক্ষক। আপনাকে সাফল্য পেতে হলে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে হবে। সেটা করতে হলে অবশ্যই কঠিন হতে হবে।
