‘ধ্রুবতারা’ হয়ে জ্বললেন আফিফ
হ্যাংঝু (চীন) থেকে, সাখাওয়াত হোসেন জয়
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:৫৩ | আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৩ | ১৯:৫৩
জিয়েজাং ইউনিভার্সিটি অব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নেমে আসে আঁধার। সূর্যের আলো ডুবে যাওয়ার মতো বাংলাদেশ শিবিরেও দেখা মিলেছিল অমানিশার কালো মেঘ। এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের কোয়ার্টার ফাইনালে আইসিসির সহযোগী সদস্য মালয়েশিয়ার কাছে পর্যুদস্ত হওয়ার শঙ্কা। বুধবার ৬ বলে ৫ রানের সহজ সমীকরণ মেলানের জন্য ব্যাট হাতে যখন দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের বোলারদের বেধড়ক পেটানো বীরেনদীপ সিং, তখন অধিনায়ক সাইফ হাসান বাজির চাল খেললেন।
পেসার রিপন মণ্ডলকে না এনে অফস্পিনার আফিফ হোসেনের হাতে তুলে দেন বল। গেমস ক্রিকেটে পদকের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার ওভার করতে আসা আফিফ প্রতিটি বল করেছেন মাথা খাটিয়ে। তাঁর বুদ্ধিদীপ্ত প্রথম তিন বলে রান নিতে না পারা বীরেনদীপ চতুর্থ বলটি ছয়ের আশায় মারেন উড়িয়ে। লং অনে মাহমুদুল হাসান জয় ক্যাচটি লুফে নিতেই আঁধার কেটে আলোক রেখার দেখা মিলে লাল-সবুজের অ্যারেনায়। ইনিংসের শেষ ২ বলে ২ রান নিলেও বাংলাদেশের ১১৬ রান স্পর্শ করতে পারেনি মালয়েশিয়া। হারের ম্যাচটি অবিশ্বাস্য এবং নাটকীয়ভাবে ২ রানে জেতার পর সতীর্থদের কাঁধে আফিফ। ফ্লাড লাইটের আলো জ্বলে ওঠার আগে হ্যাংঝুর এ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের ক্রিকেটের যে অন্ধকার দেখা দিয়েছিল, তা কেটে গেছে আফিফ ‘ধ্রুবতারা’ হয়ে জ্বলে ওঠায়। আর এবারের এশিয়াডে বাংলাদেশের আরেকটি পদক জয়ের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়েছে। আগামীকাল সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে টাইগাররা।
গতকাল টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করা বাংলাদেশের ১১৬ রানেও আফিফের ১৪ বলে ২৩ রানের ক্যামিও ইনিংস ছিল। অধিনায়ক সাইফ হাসানের (৫০*) হাফ সেঞ্চুরিটি স্পিনবান্ধব উইকেটে লড়াই করার মতো সংগ্রহ এনে দেয়। ট্র্যাকি উইকেটে প্রথমবার খেলতে নামায় কম্বিনেশন সাজাতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশকে। এই মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা ভালোভাবে কাজে লাগান মালয়েশিয়ার বোলার এবং ব্যাটসম্যানরা। উইকেটের চরিত্র বুঝতে না পারা টাইগাররা নেমেছিল সীমিত বোলিং অপশন নিয়েই। তাতে নিজেকে আলাদা করে চেনান আফিফ। ১১৭ রানের টার্গেটে ভালো শুরু করা মালয়েশিয়ার ইনিংসের পঞ্চম ওভার করতে আসা আফিফ দুই ব্যাটসম্যান আজিম এবং ফায়েজকে আউট করলে ম্যাচের লাগামটাও যেন চলে এসেছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু বীরেনদীপ সিং যেন টি২০ ক্যারিয়ারে সেরা ইনিংসটি খেলার জন্য নেমেছিলেন। শেষ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশকে আতঙ্কে রেখেছিলেন তিনি। তাঁর ৫২ রানের ইনিংসটি আফিফ থামিয়ে দেওয়ার পর মালয়েশিয়া ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১১৪ রান করতে পারে। জাকের আলি, মাহমুদুল হাসান জয়, রিপন মণ্ডল, রাকিবুল হাসান, শাহাদাত হোসেন, সুমন খানের আন্তর্জাতিক টি২০তে অভিষেক রঙিন হতো না যদি আফিফ শেষ ওভারে বল হাতে ভেলকি না দেখালে।
ম্যাচ শেষে তাঁকে ঘিরে এত উন্মাদনা থাকলেও আফিফ আবেগে ভেসে যাননি। তাঁকে দেখে মনে হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বকাপ খেলতে না পারার যন্ত্রণায় ভুগছেন। ম্যাচ শেষে বারবার কথা বলার জন্য অনুরোধ জানালেও তাতে সায় মেলেনি এ অলরাউন্ডারের। ম্যাচের সেরা পারফরমার না এলেও অধিনায়ক সাইফ হাসান মিক্সড জোনের সামনে দাঁড়িয়ে আফিফের প্রশংসায় মেতে উঠলেন, ‘উইকেটটা খুব স্লো ছিল।’